ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

পৃথিবীতে যত ধর্মের প্রচলন আছে সবকটির উদ্দেশ্য একটাই শান্তি । যদিও ধর্ম দিয়ে কতটুকু শান্তি আনা যায় এ নিয়ে আজকাল অনেক বিতর্ক হচ্ছে । ইভটিজিং এর মত ঘটনাকে অনেকে ধর্মহীন লোকেদের কর্ম বলছে । যদিও বখাটেদের একটা ধর্ম পরিচয় আছে তারপরেও তাদের বখাটেপনার বন্ধ না হওয়ার পিছনে কি কারন থাকতে পারে তা আমাদের সবাইকে আবার নতুন করে ভেবে দেখা দরকার । আসলে সুন্দরী রমণীদের দেখে আনন্দিত হওয়া একটি অতি সাধারন ঘটনা । কিন্তু তাদের উত্তক্ত করার মানসিকতা খুব কম মানুষের মাঝেই থাকে । কই ৯৯% লোক’ত শীষ মারতেই জানে না 😛 । আমাদের সমাজে আমরা সবসময় এজন্য কিছু উৎভট শ্রেনীর পুরুষদেরকেই দোষ দিয়ে থাকি কারন অপরাধটা ওরা’ই করে । তবে হুজুরেরা এ নিয়ে অন্যমত পোষন করে । যেমন: উনারা বলেন, নারীদের দোষ ও কম নয় তারা যদি পুরুষদের আকর্ষন করার জন্য ড্রেসআপ করে তাহলে বখাটেদের দোষ দিয়ে আর লাভ কি ? এ কথায় দু-ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, একধরনের প্রতিক্রিয়া দেখি এরকম, তার মানে আমাদের মেয়েদের স্বাধীনভাবে সাজ-গোজ করে ঘুরে বেড়ানোর অধিকার নেই । আর তারা সাজ-গোজ করলেই পুরুষ আকর্ষিত হবে কেন ? যদি হয়ও তাহলে পুরুষদের আচরন মার্জিত হওয়া উচিত । আরেকটি প্রতিক্রিয়া হতে পারে মেয়েরা পুরুষদের তুলনায় সাজ-গোজ বেশি করবে কেন ? তারা কি পুরুষদের আকর্ষিত করার তাড়না বেশি অনুভব করে ? তাহলে তো মেয়েরা যা ডিজার্ভ করে তাই পাচ্ছে ! মানে পক্ষ-বিপক্ষ দাড়িয়ে যাবেই যাবে । এবার আপনারা যদি প্রশ্ন করেন যে ’ যে সমস্ত শিশুরা যৈান নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে তারাও কি পুরুষদের আকর্ষিত করার চেষ্ঠা করে ? এমনকি যে সমস্ত মাদ্রাসার-স্কুলের বাচ্চা ছেলেরা সমকামীদের প্রলোপে পড়ছে তারাও কি অন্যকে আকর্ষনের চেষ্ঠা করে ? তাহলে আমি নিশ্চিত হুজুর আর কোন জবাব দিতে পারবে না !

তবে স্বাভাবিক স্বভাবের নারী-পুরুষ পরস্পরকে আকর্ষিত করার চেষ্ঠা করবে এবং এটাই স্বাভাবিক । পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা যেভাবে ইভটিজিং এর শিকার হয় একই রকম ভাবে নারীতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা হলে কে জানে পুরুষরাই হয়ত এর শিকার হতো । অপরাধ করা মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা । এ সমস্যার একমাত্র সমাধান হতে পারে সমাজে নারী-পুরুষে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা । যেটি প্রাশ্চাত্য সমাজে দেখা যায় এবং এর পিছনে প্রযুক্তির অসামান্য অবদান অনস্বীকার্য । নারী-পুরুষের কর্ম পদ্ধতি যত গায়ের শক্তি নির্ভরতা থেকে কমে বুদ্ধি-ভিত্তিক পথে অগ্রসর হতে থাকবে ততই নারী-পুরুষের বৈষম্য কমতে থাকবে । তাই, এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ই হতে পারে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার । সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে ইভটিজিং লেজ তুলে পালাবে বলেই মনে হয় ।