ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

‘জন্মদিন পালন করা আমি পছন্দ করি না। বিলাসিতা তো বটেই। আমি বলি, মানুষের জন্ম কবে হয়? আমি কবে জন্মাব? মৃত্যুর মধ্য দিয়েই আমি জন্মাব।’ ৮৬তম জন্মদিনে এভাবেই মানবের জন্ম-দর্শন ব্যক্ত করেন চিন্তাবিদ বিপ্লবী সরদার ফজলুল করিম।

গত ১ মে বিকালে সাংবাদিক শফিউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন আয়োজিত প্রীতি সমাবেশে সরদারকে ঘিরে ভক্ত-অনুরাগীদের এক হাট বসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে।

প্রীতি সমাবেশে সরদারের জীবন-কর্ম-সংগ্রামের উপর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এম এম আকাশ। এছাড়াও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন ঔপন্যাসিক মহাশ্বেতা দেবী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, ঢাবির ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন প্রমুখ।

বক্তারা স্মৃতিচারণে এদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও দর্শনে চিন্তাবিদ বিপ্লবী সরদার ফজলুল করিমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

চিন্তাবিদ বিপ্লবী সরদার ফজলুল করিমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় ঢাবি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সিপিবি, উদীচী, ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলা একাডেমী, সাংবাদিক শফিউদ্দিন আহমেদের পরিবারবর্গসহ বিভিন্ন সংগঠন ও গুণগ্রাহীরা।

১ মে মহান শ্রমিক দিবসে মেহনতি মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সরদার ফজলুল করিম বলেন, ‘এক সময়ের অবরোধবাসিনী এ সময়ের গার্মেন্ট শ্রমিক। তারা প্রতিদিন ভোরে উঠে রাজপথ ধরে কাজে যায়। এরা শ্রমিক। এদের শ্রমে দেশ ও অর্থনীতি চলে। ফলে আমি বলি, রাজপথে গার্মেন্ট শ্রমিক হাঁটে মানে, প্রতিদিন সকালে বিপ্লব হেঁটে যায়।’

এম এম আকাশ তার লিখিত বক্তব্যে সরদারকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘সরদার ভাইয়ের আরেকটি প্রিয় উক্তি ছিল, ‘সমাজতন্ত্র তো আছেই নাই কে বলেছে? প্রতিটি পরিবার চলে সমাজতন্ত্রের আদি নিয়মটি অনুসরণ করে। ‘ফ্রম ইচ এ্যাকর্ডিং টু হিজ ক্যাপাসিটি এন্ড টু ইচ এ্যাকরডিং টু হিজ নীড’ অর্থাৎ প্রত্যেকের কাছ থেকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী এবং প্রত্যেককে তার প্রয়োজন অনুযায়ী এটাই প্রতিটি পরিবারের প্রাথমিক সংবিধান।’ সরদার ভাইয়ের মুখ থেকে প্রথম যখন এই বক্তব্যটি শুনেছিলাম, তখন এর অন্তর্নিহিত গভীরতায় এবং আশ্চর্য সরলতায় পুরোপুরি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। সত্যিই তো সব পরিবারই একার্থে সমাজতন্ত্রের এক একটি জীবকোষের মতো সংগঠন। ‘পণ্যকে’ যেমন কার্ল মার্কস গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে পুঁজিবাদের একক ইউনিট হিসেবে, কোষ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন, তেমনি সরদার ভাইয়ের ‘পরিবার’ সংক্রান্ত এই ধারণাটির মধ্যে লুকিয়ে আছে আরেকটি গভীর অন্তর্দৃষ্টি। গভীরভাবে ভেবে দেখলে বোঝা যায়, পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত মালিকানা বলে কিছু নেই। একান্ত ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিসপত্র বাদ দিলে বাকি সবকিছুই সেখানে পরিবারের যৌথ সম্পত্তি। কাগজ-কলমে দলিলে হয়তো ব্যক্তির নামেই সম্পত্তি লেখা থাকে কিন্তু কার্যত সম্পত্তি ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণে পরিবারে সকল সদস্যই কম-বেশি ভূমিকা রাখেন।’

( লেখাটি আমার সিটিজেন নাম – মেহেদী হাসান নামে সাপ্তাহিক একতায় প্রকাশিত )