ক্যাটেগরিঃ কৃষি

 

দেশের কোথাও চলতি বোরো মৌসুমে ধানের দাম নেই। প্রান্তিক হাটে ধান বিক্রি হচ্ছে পানির দরে। সুযোগে মজুদ করছে ফড়িয়া মহাজন ও মজুদকারীরা।

প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৪৮০-৫৩০ টাকায়।

চাষাবাদ মৌসুমে কম দামে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের হাটগুলোতে প্রচুর ধান উঠলেও ক্রেতা নেই। তবে আছে ফড়িয়া। তারা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ইচ্ছেমত ধানের দাম দিচ্ছে।

কৃষক বাধ্য হয়ে নামমাত্র দামে ধান বিক্রি করছে।

গত বছর ১ মে থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছিল। এ বছর সরকারিভাবে এখনো ধান সংগ্রহের কোনো চিঠি খাদ্য দফতরে এসে পৌঁছায়নি। আর এ সুযোগে বিভিন্ন ধান হাটে মজুদদাররা তাদের সিন্ডিকেটের জাল ছড়িয়ে ধান সংগ্রহে নেমে পড়েছে।

ফড়িয়া-মহাজনরা কম দামে ধান কিনে মজুদ করছে গুদামে। এরা এই ধান কিছুদিন পরেই সরকারি খাদ্য গুদামে সরবরাহ করে দু’হাতে মুনাফা লুটবে । এই মধ্যস্বত্ব ভোগীরা লাভের পাহাড় গড়বে ।

অথচ চাষিরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত ফসলের দাম হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরকারি নতুন নিয়ম অনুযায়ী ধান-চাল ব্যবসায়ীরা এক মাসের জন্য ৩০ টনের বেশি চাল মজুদ করতে পারবে না। প্রতি ১৫ দিন পর পর মজুদের অবস্থা সরকারকে জানাতে হবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমল দিচ্ছে না মজুদদাররা। আড়তদাররা বিভিন্ন নামে ও বিভিন্ন জায়গায় ধান মজুদ করছে। আগামী জুনের কোনো এক সময় ধান সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হতে পারে। তখন উচ্চমূল্যে মজুদদাররা ধান বিক্রি করবে।

সরকারের উচিৎ দ্রুত সময়ে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করা এবং হাট বাজারে অস্থায়ী কেন্দ্র খোলা ও চালু রাখা। প্রতিমণ ধানের দাম ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা ।

***
ছবি- রতন দাস

( তথ্যগুলি ময়মনসিংহ, দিনাজপুর ও বাগেরহাট হতে সংগ্রহিত )