ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

ডিজিটাল দুনিয়ার কর্তৃত্ব নিয়ে প্রযুক্তি জায়ান্ট আর রাজনীতিকদের দ্বন্দ্ব অনিবার্য। ওই দ্বন্দ্বের একটা পরিস্কার আভাস দেখা গেল ই-জি ৮(E-G8) এর বৈঠকে।

বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি রাজনীতিক আর ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ প্রযুক্তি জায়ান্টদের প্রতিনিধিত্ব করেন।

কার হাতে থাকবে ডিজিটাল বিশ্বের কর্তৃত্ব সে প্রশ্ন এখন বেশ গুরুত্ব দিয়ে উচ্চারিত হচ্ছে। ডিজিটাল দুনিয়ায় গুগল, ইয়াহু, ফেসবুকের কর্তারা হয়ে উঠতে পারেন বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনায়কদের প্রতিদ্বন্দ্বি। তাই নিয়ে চলছে দরকষাকষি।

সেই দরকষাকষিকে ফাউস্টিয় বলে উল্লেখ করেছেন একজন আইনবিশারদ।

এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে নারাজ রাজনীতিকরা। বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে তাদের হাতে তা ডিজিটালই হোক বা আর যাই হোক। সে কারণে সারকোজি পরিস্কার বলে দিলেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের একটা সীমারেখা অবশ্যই থাকতে হবে। যা হবে একেবারেই অলঙ্ঘনীয়।

একথা শুনে যেভাবে খাবি খাওয়ার কথা তাই খেয়েছেন জুকারবার্গ।

গত সপ্তাহে এ নিয়ে কেটেছে উত্তপ্ত সময়। সবারই কিছু কিছু বলার আছে। যে যার স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে হয়ে উঠছে আরো কৌশলী আর সে কারণে ইন্টারনেটের উন্নয়নে গড়ে উঠা অনানুষ্ঠানিক মৈত্রী ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম।

আলোচনা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সব ব্যাপারে। অনলাইন মেধাস্বত্ত নীতিমালা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে হয়েছে জোর বিতর্ক। এটা পরিস্কার ইন্টারনেটে কি হচ্ছে না হচ্ছে সে ব্যাপারে চোখ রাখতে চায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো।

ই-জি ৮ ফোরাম বলছে ইন্টানেট খুব দ্রুত বাড়ছে। এমনকি ফ্রান্সও এর মধ্যে এঁটে যাবে। এই বৃদ্ধি একমেরুকেন্দ্রীক নয় বরং বহু কেন্দ্রীক এবং মাত্রিক। আবহাওয়া খুব দ্রুত পাল্টাচ্ছে।

ক’বছর আগেও ভাবা যেত না জুকারবার্গের মতো কেউ ফরাসী প্রেসিডেন্টের মতো কারো সঙ্গে দুপুরের খাবার খাচ্ছেন। এই দৃশ্যটাই অনেক কিছুই বলে দিচ্ছে। আরবের অভিজ্ঞতা থেকে ‘ডিজিটাল মবে’র শঙ্কায় ভুগছেন রাজনীতিকরা। ই-জি ৮ ফোরামের কাছে এ ব্যাপারে পুনঃনিশ্চয়তা চান রাজনীতিকরা।

হাফ বিলিয়নের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী আরবের বিভিন্ন ইস্যুতে রীতিমত তোলপাড় তোলেন। জুকারবার্গ অবশ্য একে সাংবাদিকদের অতিরঞ্জন হিসেবে আখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অর্থপূর্ণ ভূমিকা দাবি করা হবে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ। আমি মনে করিনা এ ধরনের কোনো কিছু করার জন্য ফেসবুককে আমি দরকারি বা যথেষ্ট।

ই-জি ৮ ফোরাম বেশ জোরের সাথে রাজনীতিকদের নিয়ন্ত্রনকামী সহজাত মানসিকতার সমালোচনা করা হয়েছে। সামাজিক ইস্যুতে তাদের কোনো ভূমিকা নেই দাবি করে ডিজিটাল দুনিয়ায় রাজনীতিকদের খবরদারি মানা হবে না দৃঢ়তার সঙ্গে তা জানিয়েও দিয়েছেন।

অন্যদিকে সারকোজি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে দাবি করেন ‘মার্জিত’ ইন্টারনেটের। তিনি বলেন, ইচ্ছেমত ইন্টারনেট থেকে কিছু বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। এমনকি নিয়ন্ত্রনও করা উচিৎ হবেনা।

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ফোরামের দরকার। ইন্টারনেটের নিরাপত্তার ব্যবস্থা এখনো তাদের হাতে নেই। সে জন্য রাষ্ট্রের কাছেই শেষ পর্যন্ত যেতে হচ্ছে। তাই প্রস্তাবিত ঘোষণায় রাষ্ট্রের কাছে ফোরামের দাবি অধিক নিরাপত্তা ও সজাগদৃষ্টি।

তবে তা কোনোভাবেই যেন ইন্টারনেটের সৃজনশীলতাকে খর্ব না করে। তার অগ্রযাত্রাকে ব্যহত না করে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রগুলোকে একটা ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণ করে গোপনীয়তা, কপিরাইট ও নিরাপত্তা ইস্যুতে আইন প্রনয়ণের আহ্বান জানানো হয়।

ইন্টারনেটের ব্যাপারে দেশগুলো নিজেদের জাতীয় নীতির আলোকে সিদ্ধান্ত নিলেও ফোরাম আশা করে তার মৌলভিত্তি হবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।

গুগল, ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত বাড়ছে। বাজারের আশায় তারা ছুটছে বিশ্বব্যাপী। আসছে বছরগুলোতে এই বৃদ্ধির হার আরো বাড়বে, সেকারণে একটা নীতিমালা গ্রহণ অনিবার্য হয়ে পড়েছে। সবার আগে এটা বুঝতে পেরেছে গুগল। ইতিমধ্যে সার্চ ইঞ্জিনে একচেটিয়া ব্যবসা করা গুগলের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে ইউরোপ। গুগলের মধ্যে সম্ভাব্য রাজনৈতিক হুমকি দেখতে পাচ্ছে ইউরোপ। এমনকি একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জিম্মি করে ফেলার শঙ্কাও রয়েছে তাদের ভাবনায়।

মার্কিনের বন্ধু ইউরোপ যেখানে তদন্ত করছে সেখানে সমাজতান্ত্রিক চীনের সঙ্গে গুগলের সম্পর্ক কেমন হতে পারে সেটা সহজেই আন্দাজ করা যায়। ক’দিন আগেও গুগল ইস্যুতে মুখোমুখি ছিল যুক্তরাষ্ট্র-চীন। এটা সবে শুরু। ডিজিটাল বিশ্বে স্বাগতম জানানোর পাশাপাশি এখানের রাজনীতির আভাসটাও তারা জানিয়ে দিয়েছেন আভাসে। সে কারণে ই-জি ৮।

নিকোলাস সারকোজি
মার্ক জুকারবার্গ

***
তথ্যসূত্র:
১. ই-জি ৮
২. আর ডব্লিও ডব্লিও

***
ছবি: গুগুল মামা