ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

* ১৫.৫.৪ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ যদি সমুদ্রের ১৭৫ মাইল দূরের গ্যাস ক্ষেত্র পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পরিবহণ ব্যবস্থা (পাইপলাইন) স্থাপন করে কেবল তাহলেই পেট্রোবাংলা তার অংশের প্রফিট গ্যাস রাখার অধিকার প্রাপ্ত হবে, তবে তা কোনো মতেই মোট প্রাপ্ত গ্যাসের ২০% এর বেশী হবে না।

উল্লেখ্য যে, সমুদ্র থেকে উপকূল পর্যন্ত পাইপলাইন বসাতে বাংলাদেশের যে খরচ লাগবে তা কনকো ফিলিপসএর প্রাথমিক বিনিয়োগের তিনগুণ বেশি।

* ১৫.৫.১, ১৫.৫.৪, ১৫.৫.৫, ১৫.৬ ধারায় বর্ণিত শর্তসাপেক্ষে কন্ট্রাক্টর ১৫.৫.২ ধারায় বর্ণিত হিসাব অনুসারে কন্ট্রাক্টর চুক্তিকৃত এলাকায় উৎপাদিত যেকোনো পরিমাণ মার্কেটেবল গ্যাস এলএনজি হিসাবে বাংলাদেশের অংশসহ রফতানির অধিকার পাবে।

* কনোকো ফিলিপস বাংলাদেশকে গ্যাস কেনার আহবান জানাবে ঠিক, কিন্তু তা গ্যাস আকারে দেবে, তরলায়িত করে নয়। গভীর সমুদ্রে ১৭৫ মাইল দুর থেকে পাইপ লাইনে গ্যাস পরিবহনের জন্য পাইপের নীচে কিছুদুর অন্তর ঝড় সুনামি মোকাবেলায় সম স্টিলের যে সাপোর্ট লাগবে তার জন্য ব্যয় এত বেশি হবে যার চেয়ে কম ব্যয়ে মিয়ানমার থেকে স্থল পথে গ্যাস আকারে গ্যাস বা বিদেশ থেকে তরলায়িত গ্যাস আমদানি করা যায়। অতএব বিনা যুদ্ধে শান্তিপূর্ণ চুক্তি করে পরবর্তী প্রজন্মসমুহকে নিষ্ঠুরভাবে বঞ্চিত করে সাগরের রিজার্ভ খালি করে দেওয়ার অবশ্যকতা কি?

* বলা হয়েছে কুপ থেকে মেজারিং পয়েন্ট কনোকো ফিলিপস পরিবহন করে দেবে। মেজারিং পয়েন্ট এর অবস্থান নির্দিষ্ট করা হয়নি। যদি তা কূপের কাছে হয় তবে কনোকো ফিলিপস এর লাভ হবে। যদি চট্টগ্রাম তা কক্সবাজারের কাছে হয় তবে আমাদের সুবিধা। অতীত যদি কোন নির্দেশক উদাহরণ হয় তবে বলাই যায়, সামান্য অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মন্ত্রী উপদেষ্টা অবশ্যই কন্ট্রাকটর, কনোকো ফিলিপস এর স্বার্থে মেজারিং পয়েন্টকে উৎপাদন কূপের কাছে রাখাও আপত্তি করবে না।

* কনকো ফিলিপস দুর্ঘটনার রাজা হিসাবে কুখ্যাত। তাদেরকে কন্ট্রাকটর হিসাবে নিয়োগ বঙ্গোপসাগরকে এক ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে ফেলল। মাগুড়ছড়া ও টেংরাটিলার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা নিশ্চিত যে, বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ ঘটালেও তার ক্ষতিপূরণ আমরা পাবো না। পিএসসি ২০০৮ এর ১০.২৭ ধারাতে অদক্ষতার জন্য বিপর্যয়ের দরুন ক্ষতিপূরণ আদায়ের যে বিধান ছিল তা সংশোধন করে কন্ট্রাকটরকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

***
তথ্যগুলি- তেল গ্যাস জাতীয় কমিটির একটি লিফলেটের
ছবি-ফেসবুক