ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

প্রফেসর ইউনূস যেদিন নোবেল পুরস্কার পেলেন সেদিন আমি যে খুব খুশি হয়েছিলাম এটা বলব না, বরং সত্যিকার অর্থেই আমার মধ্যে একধরনের মিশ্র অনুভুতির সৃষ্টি হয়েছিল। একদিকে আমি অবশ্যই খুবই আনন্দিত ছিলাম কারন আমার দেশের একজন ব্যক্তিত্ব প্রথমবারের মত এত উচ্চ সম্মান অর্জন করেছেন।আবার অন্যদিকে শঙ্কা হচ্ছিল এই ভেবে যে ক্ষুদ্রঋণের মতো একটি ফটকা ব্যাবসা এবার না উন্নয়ন-মূলমন্ত্র হয়ে যায়! আরও যে বিষয়টা আমার মনোবেদনার কারন হয়েছে তা হচ্ছে নোবেল পুরস্কারের ক্রমবর্ধমান রাজনীতিকরণ। যদি আমি বাংলাদেশি না হতাম তাহলে আমি এই পুরস্কার কে একটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রকল্প ছাড়া অন্যকিছু ভাবতাম না! আমি আসলেই খুবই হতাশ হয়েছি নোবেল পুরস্কারের নগ্নতা দেখে। এসবই আমার একান্ত ব্যক্তিগত অনুভুতি, আমি জানি দেশের নব্বই ভাগ লোক আমার এই ভাবনা দেখে ব্যথিত হবেন, আমাকে অভিশম্পাত দেবেন এমনকি দেশ প্রেমহীন কুলাঙ্গার বলে গালিগালাজ ও করতে পারেন। এই লেখার শুরুতেই আমি তাদের অনুভূতিকে সালাম জানাই, নিজেকে ধিক্কার জানাই এবং আমার সীমাবদ্ধতার জন্য ক্ষমা চাই।

আজ যখন ইউনূসকে টেনে-হিঁচড়ে অপমান করা হচ্ছে তখন আমার শুধু দুঃখবোধ হচ্ছে একবার ও মনে হচ্ছে না কাজটা ঠিক হচ্ছে। আমি হিসাব করে দেখলাম যে কারনে ইউনূস এর নোবেল বিজয় আমাকে যারপরনাই আনন্দ প্রদান করে নাই সেই একই কারনে ইউনূস অপসারন আমাকে যারপরনাই বেদনা দিয়েছে। বিষয়টা একটু খোলাসা করার প্রয়োজন মনে করি। ইউনূসের অপসারনকে আমার কাছে বাংলাদেশের রাজনীতির দেওলিয়াপনার এক নিদারুণ বিজ্ঞাপন মনে হয়- সেজন্য আমার কষ্ট হয়। নোবেল পুরস্কারের রাজনীতি অনুমেয় কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির এই বিজ্ঞাপন চরম বেদনার। আমার কেবল মনে হচ্ছে আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে কোথাও শ্লীলতা বলতে কিছু নাই। আমরা রাজনৈতিকভাবে যতদূর সম্ভব বেহায়া, নির্লজ্জ এবং মানসিকভাবে বিকৃত। প্রথমেই বলেছি, ইউনুস এবং ইউনুসের প্রকল্পের ব্যপারে আমি বাক্তিগতভাবে খুবই রক্ষণশীল । কিন্তু যখন ইউনুস এর অপসারন এর সমগ্র চিত্রপট বিচার করতে চাই তখন ব্যাক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ গৌণ হয়ে যায় এবং আমাদের রাষ্ট্র চরিত্র ও তার স্বরূপ সামনে এসে দাঁড়ায়। এমন নির্লজ্জ, অসহনশীল এবং স্বেচ্ছাচারী রাষ্ট্র চরিত্র আমাকে পীড়িত করে। বাংলাদেশের নাগরিক হিশেবে আমি নিজের কাছে ছোট হয়ে যাই।

প্রফেসর ইউনূসের ক্ষুদ্রঋন প্রকল্প আমার কাছে সবসময়ই মনে হয়েছে একধরনের চটকদার বিজ্ঞাপনের মতো। মানুষ ঋন নিয়ে উন্নয়ন করুক বা নাই করুক ঋণদাতার উন্নতি করে সন্দেহাতীতভাবে। এটা একটা ভাল ব্যবসা। অর্থ লগ্নির ব্যবসা। ইতিহাসের সবচেয়ে পুরনো রক্তচোষা ব্যবসাগুলোর একটি। আমি নিজের অভিজ্ঞতা দেখেছি কিভাবে গ্রামের পর গ্রাম, মফঃস্বল শহর এমনকি রাজধানীর গলি-ঘুপচিতে ক্ষুদ্রঋণ তার সর্বগ্রাসী বিস্তার ঘটিয়েছে। মানুষের চাই ঋন। রাষ্ট্র তার নাগরিক দের ঋন সুবিধা দিতে পারছে না। বিশেষত গরিব গ্রাহকদের কারন তারা ঋণ শোধের গ্যারান্টি দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। অতএব ক্ষুদ্রঋণ। রাষ্ট্রের অক্ষমতার বিপরিতে বাজারি সমাধান। আমি এখানে ক্ষুদ্রঋন এর তাত্ত্বিক আলোচনায় যাবো না কারন এই লেখার উদ্দেশ্য তা নয়। এই সুযোগে নামি-বেনামি এনজিও, ফাটকা পুঁজির মালিক এবং মুনাফাখোরের দল এই ব্যবসায় ঝাঁপিয়ে পড়ল। এতে দারিদ্র দূরীকরণ হয়নি, ফাটকা পুজির ব্যবসা হয়েছে। পুজির ফুলেফেপে ওঠা আমার কাছে ততটা তেঁতো না যতটা আমার বামপন্থী বন্ধুদের কাছে। ফলে এই পর্যন্ত আমার কাছে গ্রহণযোগ্য। যে কারনে ইউনুস এবং ক্ষুদ্রঋনকে আমার কাছে খারাপ মনে হয়েছে তা নিম্নরূপ:

প্রথমতঃ ক্ষুদ্রঋণ এ ব্যবহৃত পুঁজির নিয়ন্ত্রনে কোন যুতসই আইনী কাঠামো নাই। এই পুজির উৎস, বিকাশ এবং পরিচলন আমাদের সাধারন শিডিউল বাঙ্কিং এর চেয়ে আলাদা। ক্ষুদ্রঋণে ঋণদানের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার ঋণশোধের ক্ষমতা না থাকাটা কোন অন্তরায় নয়, যেখানে শিডিউল বাঙ্কিং এ মুল বিবেচ্যই ঋণশোধের ক্ষমতা। সেজন্য সাধারন আইনি প্রক্রিয়ায় এই পুঁজির নিয়ন্ত্রন অসম্ভব। অনেকে হয়ত বলবেন এটা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। আমি বাক্তিগতভাবে মনে করি ইউনুস এবং গ্রামীন ব্যাংক এই দায় এড়াতে পারেন না। ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে বিতর্ক বাংলাদেশে অনেকদিন থেকে। ইউনুস এবং গ্রামীন ব্যাংক অবশ্যই এইসব বিতর্ক সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন। তারা কোনদিন চাননি একটি রাষ্ট্রীয় আইনি কাঠামো হোক যা ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে সচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে। ইউনুস কেন তা চাননি সেই উত্তর আমি আমার তিন নম্বর পয়েন্ট এ দেয়ার চেষ্টা করব।পশ্চিমা বিশ্বের বর্তমান তারল্য সংকটের প্রধান কারন হচ্ছে যার ঋণশোধের ক্ষমতা নাই তাদের ঋণ দেয়ার প্রবনতা। ক্ষুদ্রঋণ এর সংকট কিন্তু দেওলিয়া ঋণগ্রহীতা কিংবা তারল্য নয়, এর সঙ্কট হচ্ছে সচ্ছতার এবং জবাবদিহিতার।

দ্বিতীয়তঃ ক্ষুদ্রঋণের প্রসারের কারনে এর চেয়ে টেকসই এবং ভাল ঋনের উৎসগুলোর বন্ধ হয়ে যাওয়া। একটু ভেঙ্গে বলা প্রয়োজন। কাঠামোগত সংস্কারের আগপর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো ঋণ সরবরাহের দায়িত্ব পালন করত। এই ব্যাংকগুলোর ঋণ দান পদ্ধতি খুবই জটিল, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং দীর্ঘসূত্রী। ক্ষুদ্রঋণ এই সবগুলো সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত। তাই গ্রামাঞ্চলে, সাধারন মানুষের কাছে এই ঋণ পদ্ধতি খুব সহজেই জনপ্রিয়তা অর্জন করে। অনেকে হয়ত বলবেন এটা খুব ভাল হয়েছে। আমি কিন্তু তা মনে করি না। আমি মনে করি না যে শুধু পদ্ধতি সহজ হলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সমসসা বেড়েছে, কমেনি। রাষ্ট্র তার দায় এড়ানোর সুযোগ পেয়েছে এবং তা কাজে লাগিয়ে আমাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। এর ফলে রাষ্ট্র তার ব্যাংকগুলোর গ্রামীন শাখা সমূহ কেটে ছেঁটে মানুষের রাষ্ট্রীয় সুবিধা কেড়ে নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় ও আইনি ঋণ কাঠামো প্রতিস্থাপিত হয়েছে মুৎসুদ্দি ব্যবসায়ী, ফাটকা এনজিও এবং মুনাফাখোরদের দ্বারা।

তৃতীয়তঃ বাক্তি ইউনুস। বাক্তি ইউনুসকে আমার সবসময় মনে হয়েছে একটি পিচ্ছিল মাছের মতো। তিনি একজন আপাদমস্তক পশ্চিমের বিজ্ঞাপন। তিনি তা-ই বিশ্বাস করেন যা পশ্চিম চায় আমরা বিশ্বাস করি। রাষ্ট্র যেন ক্ষুদ্রঋণ কে আইনি কাঠামোতে না আনতে পারে এটা ইউনুস চেয়েছেন তার নিজের কোন স্বার্থে নয় বরং তার পশ্চিমা বিশ্বাসের জায়গা থেকে। যারা আশির দশকের কাঠামোগত সংস্কার এবং রিগ্যান-থ্যাচার এর অর্থনৈতিক রেসিপির ব্যপারে অবগত আছেন তারা জানেন যে রাষ্ট্রকে কাটছাঁট করে বাজারের হাতে মানুষের মঙ্গলের ভার ছেড়ে দেয়ার যে দর্শন, ইউনুস সেই পশ্চিমা দর্শনের বাংলাদেশি সংস্করন। এটা তার দোষ নয়। আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন পশ্চিম চায় পুবে সূর্য উঠুক। আমি ব্যাক্তিগতভাবে ঐ দলের লোক নই। ইউনুস এর ক্ষেত্রে আমার সমস্যা অন্য জায়গায়। আর তা হল তার পশ্চিমের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন। আমি তাকে কোনদিন শুনিনি তিনি কোথাও পশ্চিমা নীতির বিরুদ্ধে বলেছেন। মাঝে মাঝে তাকে আমেরিকার সরাসরি এজেন্ট বলে ভ্রম হয়। আমার ব্যাক্তিগত ধারনা যে ইউনুস সজ্ঞানেই বাংলাদেশে অনেক পশ্চিমা এজেন্ডা বাস্তবায়নে জড়িত ছিলেন।

এসব বাক্তিগত ও দার্শনিক বিশ্বাসের বিষয় বাদ দিলে কিছু কিছু বিষয়ে আমার ইউনুসকে খুব ভাল লাগেঃ

১. তার সহাস্য মুখ।একজন মানুষ কিভাবে এমন পজিটিভ ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে পারে, বিশেষত বাংলাদেশের মতো একটা সমস্যা-সংকুল দেশে বাস করে, তা আমার বোধগম্য নয়।

২. তার সাধনা। ইউনুস বিশ্বাস করেন পশ্চিমের আলোকিত সভ্যতায়। তিনি বিশ্বাস করেন ক্ষুদ্রঋণ মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে। হয়ত তার সব বিশ্বাসই ভুল কিংবা সবই ঠিক- ইতিহাস তা নির্ধারণ করবে। কিন্তু তার যে সাধনা, নিজের বিশ্বাস কে বাস্তবে রুপ দেয়ার যে প্রাণান্ত প্রয়াস তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর একটা স্বপ্নকে তাড়া করে ফেরার মতো সাধক আমাদের দেশে খুব একটা চোখে পড়ে না। এটা হচ্ছে একধরনের বিশ্বাসের সততা। আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা ইউনুস কে দেখতে পারেন না কিন্তু প্রতিমুহূর্তে নিজের বিশ্বাস বদল করেন। মুখে এক কথা বলেন আর অন্তরে এক কথা বলেন। তাদের উচিত ইউনুস এর সমালোচনা করার আগে নিজের মুখ একবার আয়নায় দেখা।

৩. আমি আগেই বলেছি নোবেল পুরস্কারের রাজনৈতিক এজেন্ডার কথা। কিন্তু এই কথা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে আমিও ইউনুস এর নোবেল পুরস্কার এর একজন সুবিধাভোগী। যারা দেশের ভেতরে থাকেন তারা হয়ত বিষয়টা সেভাবে অনুধাবন করতে পারবেন না। কিন্তু আমরা যারা দেশের বাইরে পড়তে, কাজ করতে কিংবা হরহামেশা বেড়াতে আসি তাদের জন্য ইউনুস হচ্ছেন এম্বাসেডর। অনেকবারই এই ক্ষুদ্র দেশের মাহাত্ম্য প্রকাশ করতে গিয়ে এদিকওদিক হাতড়ে যখন কিছুই পাই না, ইউনুস আসে আলো হয়ে। সত্যি বলছি, সম্ভবত ইউনুস ই আমাকে বিদেশের মাটিতে সর্বাধিকবার অপমান এবং লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন।

এসবতো গেল ক্ষুদ্রঋণ এবং ইউনুস এর ভালোমন্দের দিক। প্রথমেই বলেছিলাম যে বাংলাদেশের নগ্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক নির্লজ্জ বিজ্ঞাপন হচ্ছে ইউনুস এর অপসারন। সেই প্রসঙ্গেই কিছু কথা বলে শেষ করব আমার আজকের লেখা।

১. ইউনুসের অপসারণ বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ইউনুস এর অনেক সমস্যা থাকতে পারে তাই বলে এটা ভোলা উচিত নয় যে ইউনুসই আমাদের দেশের একমাত্র সর্বজনবিদিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব। তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি যিনি নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। জানিনা বাংলাদেশের মানুষদের আরও কত যুগ অপেক্ষা করতে হবে এইরকম আরেকটি মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য। আমি আশা করি এইরকম ক্ষণ যেন প্রতিবছরই একবার আসে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমার জীবদ্দশায় আমি আর এর পুনরাবৃত্তি দেখতে পাব বলে মনে করি না। এখন যদি নোবেল কমিটি ইউনুস এর পুরস্কার বাতিল করে মহামান্য শেখ হাসিনাকে দিয়ে দেয় এবং নিজেদের ভুল শুধরে নেয় তাহলে অন্য কথা। কিংবা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি ডক্টরেট কেনার মতো নোবেল কিনে ফেলতে পারেন তাহলে ভিন্ন কথা। যে কথা বলছিলাম, ইউনুস হচ্ছেন বাংলাদেশিদের জন্য এযাবত্কালে সবচেয়ে মূল্যবান সাফল্যের বিজ্ঞাপন। সেইদিক থেকে তিনি আমাদের একজন জাতীয় প্রতীক। আমাদের জাতীয় জীবনে এই ধরনের সম্পদের বড় অভাব। আমরা খুব কমসংখ্যক এ জাতীয় সর্বজনবিদিত ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে পেরেছি। তাকে অপমান করা মানে দেশের সকল মানুষ কে অপমান করা। শুধু তাই নয়, এটা আমাদের দেশের যারা মুখ উজ্জ্বল করেছেন বা ভবিষ্যতে করবেন তাদের জন্য আতঙ্কের। বাংলাদেশের রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা একটি ভয়ংকর উদাহরণ রেখে গেলেন দেশপ্রেমিক এই জনগোষ্ঠীর জন্য। আমি নিজে অপমানিত এবং আতঙ্কিত বোধ করেছি।

২. ক্ষুদ্রঋণের সমস্যা অনেক সন্দেহ নাই। আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র যদি এসব আইনি কাঠামো পরিবর্তন করে ক্ষুদ্রঋণকে আরও কার্যকরী এবং যুগোপযোগী করার ব্যবস্থা করতো তাহলে কেউই তাদের সাধুবাদ দিতে কার্পণ্য করতো না। কিন্তু মুল সমস্যার সমাধান না করে রাষ্ট্র যখন নিজের সম্ভ্রমহানির প্রতিযোগিতায় মাতে তখন তা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য উদ্বেগের। একটি রাষ্ট্রের কর্ণধাররা মানসিকভাবে কতটা দেউলিয়া হলে এসব অযাচিত কাজ করার জন্য রাষ্ট্রের সম্পদ ব্যবহার করতে পারে তা আমার বোধগম্য নয়। রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের যদি নূন্যতম সাধারন জ্ঞান থেকে থাকে তাহলে তাদের এটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা না যে এই বাণিজ্যে শুধুই রাষ্ট্রের ক্ষতি। আর কারো না। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক ভাবে এই পদক্ষেপ ক্ষতি ছাড়া কোনো সুফল বয়ে আনতে পারে না। তাহলে কি রাষ্ট্রব্যবস্থাই চায় তার নিজ রাষ্ট্রের ক্ষতি? আমার বোধগম্য হয় না।

৩. আমার শুধু এতটুকুই বোধগম্য হয় যে, যারা নিজেদের বড় প্রমান করার জন্য সবসময় উন্মাদ থাকেন তারা শুধু নিজেদের ছোটই করেন। রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার মালিক হয়েও যারা এইধরনের হীনমন্যতায় ভোগেন তারা নির্দ্বিধায় আমাদের জন্য ক্ষতিকর। ইউনুস কখনই একজন সেরা বাংলাদেশি হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামেননি।

বোধকরি তিনি বাংলাদেশের অন্য বিখ্যাত বাংলাদেশিদের জন্য অহঙ্কার বোধ করেন। প্রতিযোগিতায় নেমে মালকোঁচা মেরে যারা নিজেদের অতি গোপনীয় এবং স্পর্শকাতর দিকগুলোকে দিনের আলয় তুলে ধরেন তারা ক্ষমতা আর বাহুবলে সাময়িক জিততে পারেন তবে বিজয়ী তারা নন। প্রতিযোগিতা না করেই সেরা হয়েছেন অনেক লোক এই দুনিয়াতে। ইউনুস প্রতিযোগিতা না করেই সেরা। তাকে ছোটো করতে গিয়ে নিজের পাছার কাপড় উদাম করে প্রতিযোগিতায় নেমে নিজেদের যারা বিজয়ী ভাবছেন তাদের জন্য পরাজয় ছাড়া আর কোন ভাল শব্দ ইতিহাসে নেই।

৪. রাষ্ট্রের একজন সাধারন নাগরিক হিসাবে আমি একদল সুস্থ, সবল এবং পরিবেশবান্ধব লোকদের দ্বারা শাসিত হতে চাই। আমাদের শাসকরা, যাদের আমরা ভোট দিয়ে ক্ষমতায় প্রেরণ করি, যদি জয়ের নেশায় উন্মাদ জুয়াড়ির মতো আচরন করে- তাহলে আমাদের সংগ্রাম, গনতন্ত্র, আত্মমর্যাদা সব ভূলুণ্ঠিত হবে।

***
লন্ডন

১০।০৫।২০১১