ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

বাংলাদেশে আমার জন্ম। এ দেশের মাটি পানি বাতাস আমাকে বাঁচিয়েছে । তাই প্রবাস জীবনে আমার দেশের জন্য বুকের পাঁজর জুড়ে সীমাহীন ভালবাসা অনুভব করি । মায়ের মুখ খানি যখন চোখের পর্দায় ভেসে উঠে নিজের অজান্তেই অশ্রু জলে বুক ভাসায়।

আর বাংলাদেশটার কথা যখন মনে পড়ে তখন বুক জুড়ে একটা কষ্ট অনুভব করি । আমি বাংলাদেশী বলে আমার বেতন কম।আমি বাংলাদেশী বলে আমাকে নিচু শ্রেনীর মানুষ হিসেবে দেখা হয় । আমি লজ্জিত হয়ে ।নিজের অজান্তেই দেশের প্রতি ঘৃণা বিষ বাক্য ছুঁড়ে মারি। দেশটার কাণ্ডারি যারা তাদের চৌদ্দ গুষ্টির ….। দেশে আইন আছে প্রয়োগ নাই। মানুষ নামে মানুষ আছে মাত্র ।আল্লাহ যদি স্বর্গের কোন দূত কে জমিনে প্রেরণ করেন,দুই হাত দুই পা বিশিষ্ট কোন বিবেক বান জানোয়ার জাতির সন্ধান দিতে তাহলে দূত কে কোন কষ্ট করতে হবে না…।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বলতে ভূখণ্ডের স্বাধীনতা মিলেছিল মাত্র বাঙালি জাতির ভাগ্যে স্বাধীনতার সুফল আদৌ ভোগ করা সম্ভব হবে বলে আমার মনে হয় না। সভ্য নামে দেশে যে শ্রেণীর মানুষ গুলো দেশটা পরিচালনা করছে তাদের কাছে দেশের চাইতে নিজের স্বার্থটাই বড় হয়ে গেছে।পার্টির জন্য জান কোরবান দিতে পারলেও দেশের জন্য হাটু পানিতে নামাও তাদের দারা সম্ভব না । ওদের কাছেই সব শয়তানী । ওরা মানুষ নামে সভ্য শয়তান। । তাদের চামচামি করে দেশটাকে যারা লুটেপুটে খাচ্ছে এমন জানোয়ারের সংখ্যা অগণিত । ভদ্র নামধারী কুকুর গুলো একটা হাড্ডির জন্য জীবন্ত হরিণটাকে বাঘের কাছে ধরিয়ে দিতে মায়া অনুভব করে না। যার ফলে আজ বিবেক শুন্য হয়ে পড়েছে জাতি । গ্রামের মানুষ গুলোকে কয়েক পেকেট বিড়ি আর ৫০০ টকার নতুন নোট দিলে এখনও ভাল মন্দ যাচাই না করে ভোট দিয়ে দেয় । অশিক্ষা কুশিক্ষা এমন ভাবে সমাজে প্রবেশ করেছে যে সবাই ভাবে, নিজেকে ছাড়া অন্য কোন চিন্তা করে লাভ নেই । যার যার চিন্তা কর । অফিস আদালতে ভদ্র নামধারী চোরের কারনে সাধারন মানুষের জীবন দুর্বিষহ । সব মিলেয়ে বলা যায় সভ্য শয়তান ভদ্র চোরার দেশ বাংলাদেশ।

দেশটাকে সভ্য শয়তান ভদ্র চোরদের কবল থেকে বাঁচাতে হলে আর একটা যুদ্ধ করতে হবে।এই যুদ্ধ অস্ত্রের নয়, বিবেকের।