ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

সাংবাদিকরা গণতন্ত্র ও দেশ রক্ষার স্তম্ভ। তারা সমাজের দর্পন। সাধারণ মানুষ একজন সৎ সাংবাদিক কে শুধু শ্রদ্ধা করে না বরং দেবতার মত পূজণীয় মনে করে। বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার ছড়াছড়িতে সাংবাদিকতার মূল উৎসটাই হারিয়ে গেছে। কালো টাকার মালিক ও এক শ্রেনীর অসাধু রাজনীতিবিদেরাই সংবাদপত্র এবং স্যাটেলাইট চ্যানেলের মালিক হওয়ার কারনে একে অপরের বিরুদ্ধে লেখালেখির জন্যই সম্প্রতি কালে কয়েকটি সংবাদপত্র ও স্যাটেলাইট চ্যানেলের অশুভ তৎপরতার লক্ষ্য নিয়েই আত্ম প্রকাশ ঘটেছে। যাতে করে সাধারণ মানুষ হৃদয় থেকে সংবাদ পত্রের প্রতি অতীত ভক্তি শ্রদ্ধা হারিয়ে গেছে।

এখন শুধু সত্য সংবাদ খবরের কাগজে প্রকাশিত হয় না। অন্যায়কারীদের বাঁচানোর জন্য এখন সংবাদ পত্রে মিডিয়া ব্যক্তিত্বের টক শো অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস ক্লাবের কারনে খুনীদের বাঁচানোর জন্য মানব বন্ধনের আয়োজন করা হয়। আমরা কোথায় আছি? আর কোথায় বা যাচ্ছি?

গত ২৪শে জুন জাতীয় প্র্রেসক্লাবের ভিতরে এবং বাহিরে সাগর-রুনি হত্যা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার দাবীতে আয়োজিত পূর্ব ঘোষিত মানব বন্ধনে হামলা চালিয়েছে হালের খল নায়ক মাহফুজ বাহিনী।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঐক্য বদ্ধ সাংবাদিক সমাজ। ফেইজবুক ও ব্লগেও অজস্র নিন্দা ঝড় এখনো চলছে। যেমন বাদলা দিনে আকাশ থেকে বিরামহীন বৃষ্টি পড়ছে।

সারা জীবন শুনেছি ‍কাক কাকের মাংস খায় না। এখন দেখছি সেই চির চেনা কথাগুলো কালের গহব্বরে হারি যাচ্ছে। এক সাংবাদিক আরেক সাংবাদিকের উপর লাঠি-সোটা নিযেও তেড়ে আসছে। কেউ সাগর-রুনির হত্যা বিচার চায়, আবার কেউ সাগর-রুনির হত্যাকারীদের বাঁচাতে চায়।

যারা হত্যাকারীদের বাঁচাতে চায়, তারা আবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বলছেন, প্রেস ক্লাবের ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। সেই সমস্ত খল নায়ক জ.ই. মামুন গংদের বলতে চাই, প্রেস ক্লাবে ২৪শে জুন সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে সাগর-রুনির হত্যাকারীদের বিচারে দাবীতে মানব বন্ধন কর্মসূচী ছিল। সেই দিনই আপনাদের এটিএন পরিবারের এত লোক এত ক্যামেরা কেন প্রেস ক্লাবে হাজির হল? তাহলে কি আমরা সাধারণ মানুষ বুঝে নেব পরিকল্পনা কারী হিসেবে আপনারাই ছিলেন!!

সাগর-রুনী সহ গত সাড়ে তিন বছর যত সাংবাদিক হত্যা হয়েছে আমরা সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার চাই। শুধু সাংবাদিক নয়. সকল হত্যা কান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই একজন নাগরিক হিসেবে। যারা সাগর-রুনির হত্যা কারীদের বাঁচাতে টক শো করছে, আমরা খবর নিয়ে জেনেছি, তাদের অনেক নাটক এটিএন নিউজ ও এটিএন বাংলায় জমা পড়ে আছে। তাদের পূর্ব বকেয়া বিল ও পড়ে আছে। তাই তারা বিবেক কে বিসর্জন দিয়ে শুধু মাত্র নিজেদের স্বীয় স্বার্থে টক শো তে অংশ গ্রহন করছে। ব্যাক্তিগত ভাবে দু একজনকে প্রশ্ন করায় তারা উত্তর দিয়েছে কি করবো, অনেকটা বাধ্য হয়ে যেতে হয়েছে। তার পরেও বলবো তারাও খল নায়কে পরিনত হয়েছে।

সাগর-রুনিকে কে হত্যা করেছে, আমরা তা জানি না। তবে এই টুকু জানি বর্তমান কর্মকাণ্ডে স্পষ্ট হয়েছে যে, হত্যাকারীদের এটিএন নিউজ ও এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান জানে।

মেঘের কান্না এখনো থামেনি। মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, মেঘের মাথায় হাত দিয়ে আদর করে বলেছিলেন, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে খুনীদের বের করা হবে। তিনি ৪৮ দিনেও বের করতে পারেননি। এদেশের ১৬ কোটি মানুষ এই ব্যার্থ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী করেছে। কিন্তু তিনি পদত্যাগের ভাষা বোঝেন না।

প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন, খুনীদের কেউ বাঁচাতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি কি পত্রিকা পড়া আর টিভি দেখা ছেড়ে দিয়েছেন? সবাই যখন আঙ্গুল মাহফুজুর রহমানের দিকে ছুড়ে দিয়েছে তখন আপনি কেন তাকে গ্রেফতার করার কিংবা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দিচ্ছেন না। তিনি কি আপনার চেয়েও বেশী ক্ষমতাবান?

১/১১ এর সরকার যদি আপনাকেই কারাগারে প্রেরণ করতে পারে, তবে আপনি কেন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মাহফুজুর রহমান কে গ্রেফতার করতে পারছেন না? কেনই বা এখনো ইলিয়াস কন্যার চোখের পানি মুছতে পারছেন না?

আমরা চাই সকল সাংবাদিক ঐক্যবদ্ধ ভাবে সাগর-রুনির হত্যাকারীদের বিপক্ষে দাঁড়াবে। আমরা চাই মেঘের মুখে হাসি ফুটুক। অন্তত তার এই টুকু সান্তনা হোক, খুনীরা ধরা পড়েছে।