ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

মহান জাতীয় সংসদে ২৫শে জুন মহাজোটের মহান নেতা হাসানুল হক ইনু সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন ভেবেছিলাম সকালের খবরের পাতা খুলেই দেখবো বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে যাবেন তিনি। দেখলাম তিনি কোন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পান নাই। তবে তার এই বক্তব্য ঝড় তুলেছে, তিনি হয়ত মনে করছেন ফুরফুরে মেজাজে.. তিনি বেশ আলোচিত…।

তবে হ্যা, ইনু’দা মমতা’দিদের মন রক্ষা করতে পারছেন।যিনি যার সহযোদ্ধা ও সাথীদের লাশের উপরে দাড়িয়ে আপোষ করে ক্ষমতায় যেতে পারেন তিনি যে সব কিছু পারেন সে কথা আর নতুন নয়। ইনুদাকে ধিক্কার জানাবো না, ঘৃনা ও জানাবো না, তিরস্কার ও করবো না তবে পুরস্কৃত করবো এই বলে মীর জাফর যদি বেচে থাকতো তিনি চিৎকার করে বলতেন “গুরু এতদিন কোথায় ছিলেন”। ইনুর জন্য আমাদের শত সহস্র ঘৃনা আর জনতার প্রতি আমাদের অজস্র ভালবাসা।

ইনু’দা সর্ম্পকে সমাজে বিশিষ্ট জনদের কিছু মন্তব্য নিম্নে উপস্থাপন করা হলঃ

ইনুর এ বক্তব্যকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, অশোভন, শিষ্টাচারবহির্ভূত, অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী চরিত্রের প্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ এবং সাংবাদিকরা। তারা বলেছেন, নিজের যোগ্যতায় নির্বাচিত হওয়ার সৌভাগ্য ইনুর কোনো দিন হয়নি এবং ভবিষ্যতে কোনো দিন হবে না—বিষয়টি মনে-প্রাণে অনুভব করে তিনি মনোকষ্টে ভোগেন। তার মতো রাজনৈতিকভাবে ভাগ্যাহত ও পরের আশীর্বাদে ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী মানুষই এমন রাজনৈতিক শিষ্টাচারবর্জিত বক্তব্য দিতে পারেন। তারা বলেন, বর্তমান সরকারের মধ্যে হাসানুল হক ইনু এবং আরও কয়েকজন বাম রাজনীতিক নেতা আছেন—যাদের নিজস্ব কোনো শক্তি নেই। তারা সরকারের কাছ থেকে কিছু আনুকূল্য পাওয়ার জন্য এ ধরনের কথাবার্তা বলছেন। শেখ মুজিবের শাসনামলে হাসানুল হক ইনুরা অত্যন্ত অশোভন ভাষায় মুজিবের সমালোচনা করেছেন এবং পরে গণবাহিনী তৈরি করে হাজার হাজার মানুষ খুন করেও সফলতার মুখ দেখেননি। তারা বলেন, হাসানুল হক ইনু কাউকে রাজনীতি থেকে মাইনাস হওয়ার কথা বললেই তিনি রাজনীতি থেকে মাইনাস হয়ে যাবেন, এমন চিন্তা অবান্তর। রাজনীতি থেকে কাউকে মাইনাস বা প্লাস করার মালিক জনগণ। তাই ভবিষ্যতে কে মাইনাস হবেন আর কে প্লাস হবেন—এ ব্যাপারে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবেন। গতকাল পৃথক প্রতিক্রিয়ায় দৈনিক আমার দেশ-কে তারা এসব কথা বলেন।

প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, হাসানুল হক ইনু কাউকে রাজনীতি থেকে মাইনাস হওয়ার কথা বললেই তিনি রাজনীতি থেকে মাইনাস হয়ে যাবেন—এমন চিন্তা অবান্তর। রাজনীতি থেকে কাউকে মাইনাস বা প্লাস করার মালিক জনগণ। তাই ভবিষ্যতে কে মাইনাস হবেন আর কে প্লাস হবেন—এ ব্যাপারে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, সরকারের মধ্যে হাসানুল হক ইনু এবং আরও কয়েকজন বাম রাজনীতিক আছেন—যাদের নিজস্ব কোনো শক্তি নেই। এতে তারা সরকারের কাছে যাওয়ার জন্য এবং আনুকূল্য পাওয়ার জন্য এ ধরনের কথাবার্তা বলছেন। এ ধরনের কথাবার্তা বাতুলতামাত্র। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কথাবার্তা অগণতান্ত্রিক এবং স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।

প্রবীণ বাম রাজনীতিক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মনজুরুল আহসান খান বলেন, রাজনীতি থেকে রাজনীতিকদের মাইনাস করার উদ্যোগ নেয় ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবরা। নানা চেষ্টা করেও তারা এ কাজে সফল হয়নি। অর্থাত্ রাজনীতি থেকে কেউ কাউকে মাইনাস করতে পারে না। রাজনীতি থেকে কাউকে মাইনাস করার ক্ষমতা একমাত্র দেশের জনগণের; তাই এ ব্যাপারে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবেন।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ চেয়ারম্যান বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, হাসানুল হক ইনু রাজনীতি থেকে খালেদা জিয়াকে মাইনাস হওয়ার যে কথা বলেছেন, তা গণতান্ত্রিক মানসিকতার পরিচায়ক নয়। তারা যখন জাসদ গঠন করেছিলেন, তখন গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি বলেন, কাউকে মাইনাস করা কোনো শাসক বা কোনো রাজনীতিকের কাজ নয়। রাজনীতি থেকে কে মাইনাস হবেন, সে সিদ্ধান্ত জনগণ নেবেন। তাই এ ধরনের কথাবার্তা বলা কারও জন্য সমীচীন নয়।

বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহফুজ উল্লাহ বলেন, যে মানুষটি নিজের রাজনৈতিক শক্তির সহায়তায় কোনো দিন সংসদ সদস্য হতে পারেননি, অথচ ছলাকলার আশ্রয় নিয়ে জীবনের অনেক পরিণত বয়সে সংসদ সদস্য হতে পেরেছেন, তার মুখে এসব কথা শোভা পায় না। শেখ মুজিবের শাসনামলে এরা যে ভাষায় মুজিবের সমালোচনা করেছেন এবং পরে গণবাহিনী তৈরি করে হাজার হাজার মানুষ খুন করে সফলতার মুখ দেখেননি, তাদের জন্য এমন হা-হুতাশ বড় কথা। এই দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ খালেদা জিয়ার দল বিএনপিকে ভোট দেয় এবং বিএনপির প্রতি আস্থাশীল। হাসানুল হক ইনুর মতো রাজনৈতিকভাবে ভাগ্যাহত ও পরের আশীর্বাদে ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী মানুষই এমন রাজনৈতিক শিষ্টাচারবর্জিত বক্তব্য দিতে পারেন।
তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে এদের মতো মানুষই রাজনীতিকে কলুষিত করেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র পাকিয়েছেন। তবু বলব, আগামী নির্বাচনে তার এ আস্ফাালন সত্য হবে না। দেশের মানুষ জানে, কাদের ভোট দিলে তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে। বেগম জিয়া এদেশের একমাত্র নেত্রী—যিনি কারও দয়ায় নয়, অথচ একাধিক আসনে দাঁড়িয়ে কখনও পরাজয় বরণ করেননি। ইনুর সেই সৌভাগ্য কোনো দিন হয়নি এবং ভবিষ্যতে কোনো দিন হবে না জেনে তিনি এই মনোকষ্টে ভোগেন।

পরিশেষ একথাই বলবো “ভাল হয়ে যান-ভাল হতে পয়সা লাগে না”