ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

আমরা সেই বীরের জাতি, ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছি, শহীদ হয়েছি তার পর অর্জন করেছি আমাদের মাতৃভাষা। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করে, লাল সবুজের পতাকা উড্ডীন করেছি মাথা উচু করে। আমাদের অতীত বাঙ্গালী সংস্কৃতি এখনো আমাদের কে স্মরণ করিয়ে দেয় লালন, ভাওয়াল, জারি-সারিসহ বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্তের নানা অঙ্গনের কথা। এখন আমরা বাঙ্গালী সংস্কৃতির সাঁকো ধরে এগিয়ে যাব এই ভাবনা করলেই শরীর হিম হয়ে যায়, কারন আমাদের দেশে প্রায় ২৫টি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের চ্যানেল থাকা স্বত্তেও আমরা বুকে হাত দিয়ে বলতে কি পারি… ষ্টার জলসা, জি-বাংলা, জি-টিভি, জি-সিনেমা, জি-অ্যাকশন, জি-প্রিমিয়ার, ষ্টার গোল্ড, ষ্টার-মুভিজ, এইচবিও, কার্টুন নেটওয়ার্ক, সেট ম্যাক্স, সনি টিভি, সহ বিভিন্ন বিদেশী টিভি চ্যানেলের মধ্যে ডুবে থাকে আমাদের শিশু ও পরিবারের সকল প্রায় সকল সদস্যরা।

ডরিমন সহ বিভিন্ন কার্টুন শিশুদের মুখের ভাষায় পরিণত হয়েছে। আমাদের শিশুরা এখন বাবা কে ড্যাড মাকে ম্যম বলে। সকালের নাস্তাকে ব্রেকফাস্ট, দুপুরে লাঞ্চ আর রতে ডিনার বলতেই বেশী অভ্যস্ত। তুমি কেমন আছ বা তুই কেমন আছিস এই সব কথা আজ কাল আর শোনাই যায় না। এখন শুনতে হয়.. আর ইউ ফাইন, নয়তো বা সব ক্যুচ ঠিক হ্যায় তো? আমাদের সংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরাও এ বিষয়ে যেন হাল ছেড়ে দিয়েছে।

আমরা আমাদের রাষ্ট্র কথায় কথায় আমাদে বাঙ্গালী বলে কিন্তু বাঙ্গালী সংস্কৃতি রক্ষা করার কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি, বরং আমাদের বই মেলা অনুষ্ঠানে আমাদের নোবেল বিজয়ীকে তিরস্কার করে ওপাড় বাংলার নোবেল বিজয়ীকে পুরস্কৃত করে আমাদের বাঙ্গালীর সংস্কৃতি ওপার বাংলার কাছে বিলীন করে দেয়।

এভাবে আর ১০ বছর চললে, দেখা যাবে আগামী ১ যুগ পর “আমরা যে বাঙ্গালী ছিলাম এ কথা মিউজিয়ামে সংরক্ষিত থাকবে”। তাই আসুন সময় থাকতে মায়ের ভাষায় নিজে কথা বলি, দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি নিজের সন্তান কে উদ্বুদ্ব করি আর নিজেকে শুধু মাত্র বাঙ্গালী না ভেবে, বাংলাদেশী ভেবে দেশের সম্মান রক্ষা করি।