ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

প্রতি বছরই আরবী শাবান মাসের ১৫ তারিখ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা ভাগ্য রজনী, প্রতিটি মুসলমানের জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্য সহকারে আসে। দিনটিকে ঘিরে আমাদের নানা আয়োজনে রজনীর মূল উদ্দেশ্য থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে পরি। আমাদের সাংস্কৃতিতে শবে বরাত কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় রকমারী হালুয়া ও খাবারের খবর খুজতেই অনেকগুলো সময় কাটিয়ে দেই। লাইলাতুল বরাতের দিনে আমাদের সকলের দৃষ্টি থাকে কখন ঘরে রকমারী হালুয়া, রুটি ও মাংস তৈরি হবে। পৃতিটি ঘরে ঘরে হালুয়া-রুটিপৌছে দেয়া যেন আমাদের সামাজিক সংস্কুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সঙ্গে তারা বাতি, পটকা সহ নানা ধরনের আলোক বর্তিকার মধ্যে দিয়ে আমরা এই পবিত্র রজনীর মূল চেতনা থেকে অনেক পিছিয়ে থাকি।

সন্ধ্যা হতেই বিভিন্ন মাজার কেন্দ্রিক মসজিদে আমাদের হাজার হাজার ভক্তদের আশা ও যাওয়ার মধ্য দিয়ে কে কয়টি মাজারে গেলাম আর কোলাহল করলাম তার মধ্য দিয়েই কেটে যায় এই রজনী। গভীর রজনীর শেষ প্রান্তে আরামের নিদ্রা আমাদেরকে এমন ভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলে যে, ঘরে ফিরে গুমিয়ে পড়ি আর ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখি সকাল গড়িয়ে কখন দুপুর হযে গেছে তার কোন হিসেবই নেই। ঘরের গৃহিনী বা কর্তারা সারাদিন হালুয়া রুটি তৈরি করে ক্লান্ত আর আমরা গুরে ঘুরে ক্লান্ত, কিন্তু সবার হৃদয়ের অনুভুতিতে মনে হয় অনেক ইবাদত করে ফেলেছি।

এবারের পবিত্র শবেবরাত আমাদের জীবনে অতীতের মত শুধু মাদ্র নির্ঘুম রজনী আর হালুয়া-রুটির মধ্য দিয়ে শেষ না হয়। আমরা যেন এবারে পবিত্র রজনীতে মহান আল্লাহর কাছে ইবাদতের মাধ্যমে আর কিছু চাই বা না চাই এই টুকু যেন চাই- এদেশের মানুষ যেন শান্তিতে, সস্তিতে, নিরাপত্তায় এবং দেশপ্রেমে আন্তরিক হয়ে আগামী প্রতিটি মুহুর্ত যেন কাটাতে পারে।