ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

মৃত্যু পথযাত্রী কখনো দেখিয়াছ? কখনো কি তাহার শয্যা পার্শ্বে রাত্রি যাপন করিয়াছ? ……………………….. শুধু বাঁচিবার জন্যই বাঁচিতে চাই। বাংলাদেশের কালজয়ী লেখক, নন্দিত কথা সাহিত্যিক, জনপ্রিয় ”চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাতা, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের কোটি-কোটি পাঠক জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ এদেশের সর্বোচ্চ সন্মান একুশে পদক সহ অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে যিনি নিজে গর্বিত হয়েছেন দেশকে গর্বিত করেছেন আমাদের সকলের সেই প্রাণপ্রিয় মানুষটি চির নিদ্রায় শায়িত হবেন তারই নিজ হাতে গড়া প্রকৃতি বেষ্টিত নূহাশ পল্লীতে। আমাদের এই প্রিয় মানুষটি চলে গেছেন না ফেরা দেশে। ক্যান্সার নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুক্ত রাষ্ট্রের নিউইর্য়কে ম্যানহাটনের বেলভ্যু হাসপাতালে ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত ১১.২০ মিনিটে শেষ নিঃশেষ ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। তিনি ১৯৪৮ সালের ১৩ই নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জের নানা বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার মৃত্যুতে সমকালীন বাংলা সাহিত্যের একজন শ্রেষ্ঠ মানুষকে হারালাম এ যেন জ্যোৎস্না ভরা আকাশ থেকে খসে পরলো শুকতারা। তিনি চলে যাওয়ায় বাংলা সাহিত্যে, চলচ্চিত্রে, নাটকে যে অপুরণীয় ক্ষতি হলো তা আর পূরণীয় নয়। তিনি ছিলেন আলোর পরশমণি যেখানে স্পর্শ করেছেন সেখানেই সফলতার মধ্যদিয়ে আলোকিত হয়েছেন। “ আমার ছেলেবেলা” তার লিখনীর শেষ উক্তি –

“ বসূমা, তোমার আচল
এখানে বিছাও
মাথা রেখে শোবো আর দেখব উধাও
মেঘে মেঘ চলে নীলাকাশ”
তিনি অনাত্র লিখেছেন
এবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি

তার ফাউন্টেনপেন উপন্যাসে শেষ লিখনে একাংশে তিনি লিখেছেন

“ আমি বিদায় নিতে যাচ্ছি- পাঠকের কাছথেকে ।
ফাউন্টেনপেন অনেক দিন লেখা হল, কালি শেষ হয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক”

আর বলপয়েন্ট বলেছিলেন “ মানুষের মৃত্যু হয়, কিন্তু তাদের স্বপ্ন মরে না।”

হিমুর আছে জল’এ লিখেছিলেন “ সময়ের অপেক্ষা সব কিছুতেই ‘ অপেক্ষা থাকে। ফাঁসির আসামিরও অপেক্ষা করে কখন দড়ি গলায় পড়বে…. আমাদের সামনে কম্পমান মোমবাতি। মোমবাতি অপেক্ষা করছে কখন সে দমকা বাতাসে নিভবে।”

“কবি” উপন্যাসে তিনি লিখেছেন পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন “ মরন এলে আল্লাহ প্রান নেন, যারা মারা যান না তাদেরও , ওরা যখন ঘুমিয়ে থাকে । তার পর যার জন্য মৃত্যু অবধারিত করেছেন , তিনি তার প্রান রেখে দেন আর অপরদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফিরিয়ে দেন। এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে” একই উপন্যাসে অন্যত্র বলেছেন মৃত্যু আছে বলেই জীবন সুন্দর মৃত্যু না থাকলে জীবনের চেয়ে কুৎসিত আর কিছু হত না” আমাদের প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ তার বিভিন্ন লেখাতে মৃত্যু অবধারিত এ বিষয়টি উপলব্ধি বোধ থেকে তিনি লালন করে পাঠকের জন্য কিছু দিক নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন না ফেরা দেশ থেকে তিনি আর ফিরবেন না । কিন্তু যতদিন পৃথিবী থাকবে , পৃথিবীতে মানুষ থাকবে ততদিন নুহাশ পল্লীর প্রকৃতির ছায়ায় যেখানে যিনি চির নিদ্রায় শায়িত থাকবেন অজস্র ভক্তদের ঢল আর ভালবাসায় প্রতি মুহূর্ত প্রতিদিন মানুষের হৃদয় মন্দিরে উচ্চারিত হবে তার নাম।