ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

ড. ইউনুস কোন ব্যক্তি নয়, তিনি জাতীয় ইনষ্টিটিউট। বর্তমান সরকার তাকে নানা ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বিভিন্ন নগ্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। সরকারের কোন পদক্ষেপের প্রতি এই পর্যন্ত জনগনের সমর্থন পাওয়া যায়নি। বরং ড. ইউনুসের পাশে শিক্ষক সমাজ, সুধী সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এসে দাঁড়িয়েছে। অথচ সরকার ড.ইউনুস কে অসম্মান করতে গিয়ে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক ভাবে নিজেরাই অসম্মানিত হচ্ছেন বলে সুধী সমাজ মনে করেন। বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনের জন্য এবং লক্ষ লক্ষ নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জন্য বর্তমান সময়ের সারা বিশ্বজুড়ে নন্দিত ড.ইউনূস কে নিয়ে সরকার একের পর এক বিভ্রান্তকর যে বক্তব্য দিচ্ছেন সেখান থেকে সরে না আসলে আমরা জাতি হিসেবে সারা পৃথিবীর কাছে খাটো হয়ে যাই। সরকারের উচিৎ ছিল ড. ইউনুসের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশকে আরও উন্নতির দিকে অগ্রসর করা। অথচ দূর্নীতির দায়ে পদ্মা সেতুর ঋন চুক্তি যখন বিশ্ব ব্যাংক বাতিল করে দিল তখন সরকার প্রথমেই ড. ইউনুসকে দোষারোপ করে তাকে রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ করার জন্য নগ্ন মন্তব্য করলেন। পরবর্তীতে দূর্নীতির দায়ে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এমপি পদত্যাগ করলেও তার পদত্যাগপত্র গ্রহন না করে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী তাকে দেশপ্রেমিক উপাধি দিলেন।

সেই সময়েই ড. ইউনূসকে ইস্যু করে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীসভার বৈঠক করলেন এবং সেই বৈঠকে ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে রাজস্ব বোর্ড সহ বিভিন্ন সংস্থাকে তার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিলেন। বাংলাদেশের সংবিধানের আইন অনুযায়ী কোন নাগরিকের কর বিষয়ক কোন অনিয়ম থাকলে রাজস্ব বোর্ড তার সমাধান করে , কিন্তু সেখানে একজন নাগরিকের কর সম্বলিত বিষয়ে ক্যাবিনেটের মাধ্যমে মন্ত্রীসভায় আলোচ্য সূচী রেখে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করে বর্তমান সরকার ড. ইউনুস ও গ্রামীন ব্যাংক নিয়ে যে খেলা শুরু করেছে তা কোথায় গিয়ে শেষ হবে তা একমাত্র সময় বলে দিতে পারে।