ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট এমসি কলেজ সহ সারা দেশের শিক্ষাঙ্গনে যখন আন্দোলনের আগুন জ্বলছে ঠিক মুহূর্তে বর্তমান সরকার অপ্রত্যাশিত ভাবে বরাবরের মতো ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে এসএসসি ও এইচএসসির ফলের ভিত্তিতে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভর্তির সরকার যে তুঘলকি সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সারা দেশের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তিচ্ছুক হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীরা রাজপথে আন্দোলন শুরু করেছে। ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে মহামান্য হাই কোর্টে ১৩ই আগষ্ট সোমবার আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে এর বিপরীতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাওয়া জিপিএ’র ভিত্তিতে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে সরকারি সিদ্ধান্তের আইনগত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ‘জনস্বার্থে’ হাই কোর্ট বিভাগে আবেদন করেছেন। আবেদনে স্বাস্থ্য সচিব, শিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে দুটি রুল এবং দুটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আবেদনকারী আইনজীবী। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তির সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও বাতিলে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে রুল চেয়েছেন। একইসঙ্গে ওই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত করার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ এবং ২০১২-১৩ সেশনে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তির বিজ্ঞাপন প্রকাশের নির্দেশনা চেয়েছেন। মঙ্গলবার হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক নাঈমা হায়দার ও মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের যুগ্ম বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভর্তিচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীরা সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর তার অবর্তমানে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে পূর্বের ন্যায় ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত করার জন্য দাবী জানিয়েছেন।

ব্যক্তিগত প্রয়োজনে দিনের অনেকটা সময় জাতীয় প্রেসক্লাবে ছিলাম। সকাল ১০ টায় যেত না যেতে প্রেসক্লাবের সামনেই দেখি শত শত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মুখ, তারা তাদের অধিকারের কথা বলছে। দিনের শেষে সন্ধ্যা বেলায় প্রেস ক্লাবের একটি ইফতার অনুষ্ঠান শেষ করে যখন বাসায় ফিরছিলাম তখনো দেখি হাজার হাজার ছেলে-মেয়েরা রাস্তায় রয়েছে। তারা সকলে রাজপথেই ইফতার করেছে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভিতে আজকের বাংলাদেশ নামক একটি লাইভ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আফম রুহুল হক মেডিকেল ভর্তিচ্ছুদের উদ্দেশ্যে——

“তোমাদের জন্য সুখবর হল সামনে ভাল করে ঈদ করতে পারবে, সামনে পরীক্ষা নেই, দৌড়াদৌড়ি কর, বেড়াতে যাও, কক্সবাজার যাও, বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াও, সিনেমা দেখো” বলে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন হাজার হাজার ভর্তিচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীরা তার এই বক্তব্যকে তামাশার সাথে তুলনা করেছেন এবং সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন। ইতিপূর্বে শিক্ষামন্ত্রী, বুয়েটের সমস্যার সমাধান করতে পারেন নি। সিলেটের এমসি কলেজে গিয়ে তিনি কেঁদেছেন। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হযে গেছে। তা হলে বর্তমানে যে নতুন সংকট সৃষ্টি হয়েছে সেই সংকট থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত করার অধিকার সরকারের নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এই সমস্যার ইতি না টানলে সামনে আরও কঠিন সময় পার করতে হবে সরকারকে।

মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রী আপনাদের বিনয়ের সাথে বলছি, আপনাদের সামনে “দেশপ্রেমিক” উপাধি অপেক্ষা করছে। তাই দেরি না করে ব্যার্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করুন আর ঈদের আগে দেশপ্রেমিক উপাধি বোনাস উপভোগ করুন।

উল্লেখ্য, গত বছর ২৩ সেপ্টেম্বর সারাদেশে একযোগে ২২টি সরকারি ও ৫৩টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের সবগুলো মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ মিলিয়ে সর্বমোট ৮৪৯৩টি আসন রয়েছে। এছাড়া নয়টি সরকারি ও ১৪টি প্রাইভেট ডেন্টাল কলেজ এবং মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিট মিলিয়ে সর্বমোট ১৪৩৭টি আসন রয়েছে।