ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার অন্যতম প্রধান কারন তিনি টিপাইমুখ বাধ নির্মানের বিরুদ্ধে গন আন্দোলন সৃষ্টি করেছিলেন। সিলেট বিভাগের সকল দলের নেতৃবৃন্দ টিপাইমুখ বাধের বিপক্ষে ছিলেন শুধুমাত্র যারা ক্ষমতার শীর্ষে ছিলেন তারা প্রতিবাদ না করে মুখরোচক বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়েছিলেন। সিলেটের টিপাইমুখ বাধের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে ভারত আবারো নতুন করে নদী দখলের চেষ্টা করছে। তারা ইতিমধ্যে ফেনী নদীতে ব্রীজ ও স্থল বন্দর নির্মানের সকল প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করেছে। তাদের সকল কর্মকাণ্ডের নিরব দর্শক হিসেবে বর্তমান সরকার মূলত ক্রীড়ানক হিসেবে কাজ করছে। সীমান্তে প্রতিদিন পাখির মত গুলি করে আমাদের ভাই-বোনদের কে নৃশংস ভাবে হত্যা করছে আর হত্যাকারীদের বাঁচানোর জন্য বিএসএফ প্রধান সীমান্তে কেউ যদি খুন হয় তাকে হত্যা না বলে মৃত বলে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের সাথে তামাশা করেছেন। অথচ এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোন জোড়ালো প্রতিবাদ এখনো পরিলক্ষিত হয়নি। কাঁটাতারে ফেলানীর ঝুলন্ত লাশ, সীমান্তে হাবিবুর রহমান হাবীবকে উলঙ্গ করে বিএসএফের উল্লাস আর প্রতিদিন বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা করে আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝাতে চেষ্ঠা করছে খুব বেশীদিন নয়, লেঙ্গুর দর্জির মত বাংলাদেশকেও তারা গিলে খাবে।

বাংলাদেশের সমস্ত সম্পদ তারা তাদের আয়ত্বে করে নেবে আর এদেশের যুব সমাজকে ধ্বংশ করার জন্য স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশী সংস্কৃতিকে জাদুঘরে নিক্ষেপ করে ভারতীয় সংস্কৃতি প্রতিটি ঘরে ঘরে প্রবেশ করিয়েছে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় হাজার হাজার ফেন্সীডিল তৈরির কারখানা থেকে ভেজাল ফেনসিডিল অবৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে আর বাংলাদেশের কোটি কোটি টাকা তারা সুকৌশলে লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। এ যেন দেখার কেউ নেই। সবার চোখ বন্ধ হয়ে আছে। জুজুর ভয়ে কেউ ভালভাবে মাসি পিসীর নাম নিতে চায় না। মাসি পিসীর কথা উঠলে দাদা বাবুদের চোখ রাঙ্গানোর ভয়ে আর নিজেদের ক্ষমতাকে টেকসই করার লক্ষে ভারতকে অলিখিত ইজারা যেন যেই ক্ষমতায় আসে সেই যেন দিতে প্রস্তুত হয়। আর যারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাদের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে দেশ মা মাটির কথা বলে তাদেরকে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে নৃশংস ভাবে রক্তাক্ত হয়ে লাশ হতে হয়।

স্বাধীনতার ৪০ বছর পরে এসেও এখনো আমাদের দেশপ্রেমিক খুজতে হয়। দেশের জন্য, মানবতার জন্য, মানবের জন্য কথাবলার এখন বুঝি আর কেউ নেই। যে কেউ কথা বলে ভোর হতে না হতে অজ্ঞাত কারনে কথার সুর পাল্টে যায়। কেউ কেউ কালো কে কালো বলে, আবার যখন সেই কালোর সাথেই মাখামাখি করে বসবাস করে তখন তাকে বক ধর্মিক না বলে কি বলবো তাও ইতিহাসের পাতা থেকে নতুন শব্দ খুজে বের করতে হবে। মহাজোটের অন্যতম শরীক সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেছিলেন “ঘরে থাকলে খুন আর বাইরে আসলে গুম” তিনি আরো বলেছিলেন “এই সরকারের সাথে পথ চলা যায় না” কিন্তু তিনি যে পথে চলছেন সে পথ থেকে ফিরবেন বলেও মনে হয় না।

দেশের দুই বরণ্যে রাজনীতিবিদ সাবেক রাষ্ট্রপতি একিএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন নতুন ঐক্যের ডাক দিলেন। নতুন প্রজন্মকে আহব্বান জানালেন অসাম্প্রদায়িক এবং একাত্তরের স্বাধীনতার স্বপক্ষের সমমনা ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ঐক্যের ডাক দিয়ে তারা যৌথভাবে বলেছেন, এ ঐক্য, সন্ত্রাস, হত্যা, গুম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে। গণতন্ত্র মুক্তি পাক ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার পক্ষে এ ঐক্য ।

রোববার সন্ধ্যায় র্যা ডিসন হোটেলে এক চা চক্রের মাধ্যমে বর্ষীয়ান এ দুই নেতা এ ঐক্যের ডাক দেন । অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক এবিএম মুসা, মাহমুদুর রহমান মান্না, মেজর (অব.) এমএ মান্নান, কলামিস্ট আবুল মকসুদ, জাফরুল্লাহ চৌধুরী সহ প্রমুখ।

তাদের এই আহব্বান কে নতুন প্রজন্ম কি ভাবে দেখছে বা কি ভাবে দেখবে তা সময় বলে দেবে। কিন্তু অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিলে দেশের এই বরন্যে নেতা তারা তাদের স্ব স্ব দল থেকে শীর্ষ পর্যায়ে থেকেও কেন বিদায় নিয়েছিলেন? কেনই বা তাদের বিরুদ্ধে তাদের দলের নেতাকর্মীদের অসন্তোষ। নিজেরা যখন দেশের শীর্ষ কর্তা ও ব্যাক্তি ছিলেন তখনই যখন দেশ ও জাতির জন্য ও নতুন প্রজন্মের জন্য কিছু উপহার দিতে পারেন নি পড়ন্ত বেলায় শেষ বিকেলে গোটা জাতির জন্য নতুন কি চমক নিয়ে আসছেন এখন সেটাই দেখার বিষয়।

দেশ আজ কঠিন সংকটে, শেয়ার বাজারে ধ্বস, হলমার্ক কেলেংকারী, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, পদ্মা সেতু দূর্নীতি, রামু উখিয়া পটিয়াতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে হামলা, বিদেশের মাটিতে দেশের ছেলে রেজওয়ানুল আহসান নাফিস ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক উড়িয়ে দিতে গিয়ে সম্প্রতি এফবিআই এবং সিটি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হবার পর তার বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে অভিযোগ দায়ের করা। সীমান্তে প্রতিদিন পাখির মত গুলি করে বাংলাদেশী নাগরিক কে হত্যা করা, ঘটনা ঘটার সাথে সাথে সরকার এবং বিরোধী দল একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দল পরস্পর বিপরীত মেরুতে অবস্থান করা, রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা, সামাজিক অঙ্গনে নিরাপত্তাহীনতা, অর্থনৈতিক অঙ্গনে চরম মন্দা সব মিলে আমরা কোথায় যাচ্ছি? আমাদের গন্তব্য কোথায়? চরম এই সংকটময় মুহুর্ত থেকে আমরা কিভাবে মুক্ত হবো আর মুক্তি পাবো? সেই অপেক্ষায় ১৬ কোটি জনতা।