ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন “সরকারের সাথে বিশ্বব্যাংকের সমঝোতা ছাড়া পদ্মা সেতু প্রকল্পে ওঠা দুর্নিতির অভিযোগের বিষয়ে কোনো তথ্য বিশ্বব্যাংককে দেবে না দুদক।”

প্রাক্তন আমলা গোলামকে যখন দুদকের প্রধান নিযুক্ত করা হয়, তখন থেকেই জানা কথা দুদকের স্বাধীনতা শেষ। সাবেক এন্টি করাপশন ব্যুরোও এই একই ভাবে আমলা দ্বারা পরিচালিত হত। লোক দেখানো কিছু চুনোপুঁটি ধরা ছাড়া তারা কোনোদিনই কিছু করে নাই। তাদের আসল কাজ ছিল দুর্নীতিবাজ বড় আমলাদের প্রোটেকশন দেয়া – বাংলাদেশের ইতিহাসে সাবেক এন্টি করাপশন ব্যুরো কোনোদিন কোনো মাঝারি বা বড় আমলাকে প্রসিকিউট করেছে বলে কোনো নজির নেই। যদিও এটা সর্বজনজ্ঞাত যে ৯৯.৯৯৯% বড় আমলারাই বাংলাদেশের সব দুর্নিতির গোড়া। গোলামকে নিয়োগই দেয়া হয়েছে দুদককে সেই পুরোনো এন্টি করাপশন ব্যুরোতে পরিনত করতে।

গোলামরা গোলামি করবে না তো কি করবে? তার কথা বার্তা শুনে কে বলবে সে একটা স্বাধীন সাংবিধানিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধান না এক মাফিয়া সংগঠনের প্রধান।

গোলাম তোর কাজ ইনভেস্টিগেশন আর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নিতিবাজদের প্রসিকিঊট করা – মাফিয়া ব্ল্যাকমেইলিং এর মত সরকারের সাথে বিশ্বব্যাংকের সমঝোতার পূর্বশর্ত দেওয়ার তুই কে? আর বিশ্বব্যাংক দুর্নিতির অভিযোগ এনে ঋন চুক্তি বাতিল করেছে তাদের অভিযোগের স্বচ্ছ ইনভেস্টিগেশন না হওয়ায়। গোলাম সেটা শেষ করলেই না বিশ্বব্যাঙ্কের কাছে সরকার পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাতে পারে। পদ্মা সেতু ছাড়াও বাংলাদেশের আরো ডজন ডজন প্রোজেক্ট বিশ্বব্যাঙ্ক ও অনান্য দাতা সংস্থার অর্থনির্ভর, আর বলাইবাহুল্য বাংলাদেশের সব আমলাতান্ত্রিক আর রাজনৈতিক দুর্নীতিও তাদের অর্থনির্ভর।

এমতাবস্থায়, প্রভুদের নির্দেশে গোলামের এহেন নির্লজ্জ গলাবাজি কতখানি হাস্যকর।

আমাদের যদি উপনিবেশিক সামন্তবাদী গনতন্ত্র আর উপনিবেশিক জনপ্রশাসনের বদলে চিন ভিয়েতনাম ও অন্যান্য আত্মমর্যাদাশীল সম্পন্ন জাতির মতোন গণমূখী জনপ্রশাসন থাকতো, তবে তো আমরা নিজেদের সেতু সহ আরো অনেক বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প নিজেদের যোগ্যতায় আর অর্থায়নেই করতে পারতাম। কিন্তু আমরা অভাগা, আমাদের রক্তে আনা স্বাধীনতা আমরা দুর্নীতিবাজ গোলামদের আর তাদের রাজনৈতিক প্রভুদের হাতে তুলে দিয়ে আজ ৪২ বছর ধরে ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে গোলাম আর তার প্রভুদের হাত ধরে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও অনান্য দাতাদের দ্বারস্থ।

যাতে আমলা গোলামরা আর তাদের প্রভুরা আরো চুরি করতে পারে – আবার চোরের মার মত যাদের ভিক্ষায় চুরি করে তদের বিরুদ্ধেও গলাবাজি করতে পারে। আমরা অবক্ষয়ের কোন পর্যায়ে পৌছেছি?