ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

অনেক দিন ধইরাই ভাবতাছি বাংলদেশটারে দুই শিফটে, ২৪ ঘন্টা – সপ্তাহে সাতদিন – বছরে ৩৬৫ দিন, নন স্টপ বা বিরামহীন ভাবে চালাইতে পারলে বোধহয় আমাগো অনেক বড়ো বড়ো সমস্যার ভার কিছুদিনের জন্য হইলেও অনেকটা কমানো যাইতো – আর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারও অনেক বাড়ানো যাইতো।

ভাইবা দেখেন , প্রথমেই দুই দলের রাজনিতিক হানাহানি, মারামারি, কাইজ্জ্যা, হাঙ্গামা আর হরতালের একটা ভাল হিল্লা হইয়া যাইবো। নির্বাচনে জ্বয়ী দল (সরকারি) চালাইবো দিনের ১২ ঘন্টার শিফট, ধরেন সকাল ৮টা থাইকা রাইত ৮টা পর্যন্ত; আর নির্বাচনে পরাজিত দলের (বিরোধী) কপালে থাকবো রাইতের শিফট, রাইত ৮টা থাইকা সকাল ৮টা পর্যন্ত। শিফট বদল থইবো সকাল আর সন্ধ্যা ৭-৯ টার মধ্যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তত্ত্বাবধানে, তাগো সহযোগিতায় থাকবো উচ্চপর্যায়ের ভ্রাম্যমান তাৎক্ষনিক বিচার আদালত আর সেনাবাহিনি।

শিফট বদলের সময় দ্বায়িত্ব হস্তান্তর হইবো শিফটের জবাবদিহিতাসহ; দ্বায়িত্ব অবহেলা, দায়িত্বহীনতা, ঘুষ আর অন্যসব দুর্নীতির জবাবদিহিতা ও তাৎক্ষনিক বিচারসহ। এই শিফট বদলের জবাবদিহিতায় নতুন শিফটের দ্বায়িত্বগ্রহনকারি দল আর ভুক্তভোগি জনসাধারনের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহনে যেকোনো অনিয়ম, দুর্নীতি আর দায়িত্বহীনতা চাপা দেওয়া বা লুকানো কঠিন হইবো। ধৃত ও প্রমাণিত অনিয়ম, দুর্নীতি আর দ্বায়িত্বহিনতার জন্য ভ্রাম্যমান তাৎক্ষনিক বিচার আদালত মন্ত্রি, প্রতিমন্ত্রী, আমলা আর অন্য দ্বায়ি ব্যাক্তিদের জেল জরিমানাসহ আইনানুযায়ী দন্ড প্রদান করবো। দন্ডপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাৎক্ষনিকভাবে তাদের মন্ত্রিত্ব ও সংসদপদ হারাইবো এবং ভবিষ্যতে সংসদ পদে নির্বাচন প্রার্থি হওয়ার য্যোগ্যতাও হারাইবো। আর দন্ডপ্রাপ্ত সরকারি আমলারা হারাইবো তাদের চাকরি ও সব অবসরকালিন সুবিধাদি।

শিফট বদলের সময় এমনিতেই দুইদলের মধ্যে হাংগামার সম্ভাবনা থাইকাই যায়, আর অনেক মন্ত্রিরে হয়তো টাইনা হিচড়াইয়া না নামাইলে শিফট বদলের সময় গদি ছাড়তে চাইবো না – সেইজন্য দায়িত্ব হস্তান্তর এবং তাৎক্ষনিক জবাবদিহিতা ও বিচার নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও ভ্রাম্যমান তাৎক্ষনিক বিচার আদালতের জন্য শিফট বদলের সময় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ও সহযোগিতা অপরিহার্য – আমরা পছন্দ করি আর না করি।

শিফট বদলসহ সর্বমোট ১৪ ঘন্টা কাজের পর প্রতি দলের হাতে বিরধীদলিয় হাঙ্গামা করার জন্য থাকবো মাত্র ১০ ঘন্টা – এর মধ্যে ঘুমানো আর ব্যাক্তিগত এবং পারিবারিক কাজের সময় বাদ দিলে মুলত তাদের হাতে বিরোধীদলীয় হাঙ্গামা করার জন্য কোনো সময় থাকবো না। আর বিরোধীদলীয় হাঙ্গামা না থাকলে সরকারি শিফটেরও বিরোধীদল দমনের পুলিশি ও ক্যাডারিয় ব্যবস্থা রাখার দরকার পরবে না। পারতপক্ষে, দুই দল মুখামুখি হওয়ার মুল সুযোগ হইবো শুধু শিফট বদলের সময়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, ভ্রাম্যমান তাৎক্ষনিক বিচার আদালত আর সেনাবাহিনীর কঠিন তত্ত্বাবধানে। এই ব্যবস্থায় দুই দলের রাজনিতিক হানাহানি, মারামারি, কাইজ্জ্যা আর হরতালের সময় ও সুযোগ মোটামুটি নাই বললেই চলে। আর কিছু না হোক, এইগুলির অবর্তমানে দেশের উৎপাদনশীলতা আর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার এমনিতেই বাইড়া যাবে। তার উপরে দুই দল, যদি বাধ্য হইয়া হইলেও, তাদের হরতাল হাঙ্গামার শক্তি দেশের সুশাসনে লাগায়, তবে এর প্রভাবে দেশের উৎপাদনশীলতা আর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার প্রবল গতি পাওয়ার সম্ভবনা উড়াইয়া দেওয়া যায় না।

হরতাল ভাংচুর না থাকায় যদি আমাগো নেতা আর রাজনীতিবিদদের গা ম্যাজম্যাজ করে ও মন ম্যাড়ম্যাড়ে হইয়া যায় তবে তাদের জন্য বিকল্প ব্যাবস্থা হিসাবে মাঝে মাঝে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ব্যাটালিয়ানের সাথে রুট মার্চে যাওয়ার ব্যাবস্থা রাখা যাইতে পারে।

অনেক চিন্তা ভাবনা কইরা দেখলাম, এই ব্যবস্থায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন না রাখাই ভাল। একেতো সরকার ছাড়া একটা দেশ একদিনের জন্যও চলা উচিত বা সম্ভব না। তার উপরে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দুই দলই নিজেগো বিরোধীদল মনে কইরা কোনো কাল্পনিক সরকারের বিরুদ্ধে যৌথ হরতাল ডাইকা ফালাইতে পারে – কথায় বলে কয়লার ময়লা ধুইলেও যায় না, বহুযুগের বদঅভ্যাস।

সংসদ এক শিফটেই চালাইতে হইবো, কারন আইন পাসের ভোটাভুটির ব্যাপার আছে, যখন সব সাংসদের উপস্থিতি দরকার। সংসদ চলতে পারে দুপুর ২টা থাইকা রাত ২টা পর্যন্ত, দুই শিফট কাভার কইরা, যাতে দুই দলের মন্ত্রিরা একে অপরের কাজের সমালোচনা চালাইয়া যাইতে পারেন।

মাথাভারী বিশাল আমলাতন্ত্রের কলেবর বাড়ানোর কোনোই দরকার নাই। তাগোরে দুই ভাগে ভাগ কইরাই দুই শিফট চালানো যাইবো; যেমন ধরেন সেক্রেটারি আর ডিসিরা দিনের শিফটে, আর এডিশনাল সেক্রেটারি আর এডিশনাল ডিসিরা রাইতের শিফটে। তারপরেও যেই অতিরিক্ত অদক্ষ জনবল থাকবো তা শিফট বদলের জবাবদিহিতা ও তাৎক্ষনিক বিচারের মাধ্যমে দ্রুত কমাইয়া ফেলতে হইবো। শিফট বদলের জবাবদিহিতা ও তাৎক্ষনিক বিচারের ব্যাবস্থা শুধু শীর্ষ পর্যায়ের জন্য প্রজোয্য হইলেও, শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপর এর প্রভাবের প্রতিক্রিয়ায় প্রসাশনিক ভাবে, দুদক আর অনান্য সংস্থার মাধ্যমে এর সুফল সর্বনিন্ম স্তর পর্যন্ত পৌছানো অবশ্যম্ভাবী। কথায় বলে মাছের পচন আর দুর্নিতির শুরু হয় মাথা থাইকা – চিকিৎসার শুরুও দরকার সেইখান থাইকা।

এই ব্যাবস্থায় আইন শৃঙ্খলার উন্নতি কিছুটা ধীরগতিতে হইলেও, হইতে বাধ্য। প্রথমেই রাজনৈতিক হরতাল হাঙ্গামা না থাকার কারনে, পুলিশ তার মৌলিক অপরাধ দমনের কাজে পুরোপুরি নিয়োজিত হইতে পারবো। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক হরতাল হাঙ্গামা আর বিরোধিদল দমনে পুলিশেকে হাতে রাখার দরকার না থাকায়, দুই শিফটের সরকারই পুলিশের উপর তাদের খবরদারি, দুর্নীতি দমন আর জবাবদিহিতার তৎপড়তা বাড়াইতে মনোযোগী হইবো। আর আমলাতন্ত্রের মতো শিফট বদলের জবাবদিহিতা ও তাৎক্ষনিক বিচারের ব্যবস্থার সুফল পুলিশেও দেখা দিতে বাধ্য। তবে পুলিশ বইলা কথা, একদিনে সব ঠিক হইয়া যাইবো এমন আশা করা বাতুলতা – পুলিশে ছুইলে ১৮ ঘাঁ, হয়তো আস্তে আস্তে কমতে কমতে ৮-১০ ঘাঁর দিকে নামতে থাকবে।

এমনিতেই বাংলাদেশে বিচারের যেই শ্লথ গতি আর যেইরকম দুর্নীতিগ্রস্ত, বিচার বিভাগকে দুই শিফটে চালাইতে হইলে অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ করতেই হইবো। যদিও এতে বিচার দ্রুত হবে এবং বাকি সব প্রতিষ্ঠানের মতো কিছু সুফল দেখা দিব, কিন্তু বিচার ব্যবস্থার একটা সমূল রিফর্ম ছাড়া সার্বজনীন দুর্নীতিমুক্ত সুবিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

সংক্ষেপে এই ব্যবস্থার আর বাকি সুফলগুলিঃ

• রাস্তার জানজট অর্ধেক হইয়া যাইবো
• বিদ্যুতের ব্যাবহার ২৪ ঘন্টায় বিস্তারিত হওয়ায়, পিক লোড কইমা যাইবো তবে যেইসব কলকারখানা এখন ২৪ ঘন্টা চলেনা সেইগুলি ২৪ ঘন্টা চললে, সামগ্রিক বিদুৎ চাহিদা বাইড়া যাইবো
• বেকারত্ত কইমা যাইবো
• সব স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলি দুই শিফটে চললে স্বাভাবিক ভাবেই শিক্ষা আর শিক্ষিতের হার দ্রুত বাইরা যাইবো
• অর্ধেক লোক সব সময় কাজে থাকার কারনে একটা পরিবার অপেক্ষাকৃত ছোটো বাসস্থানে থাকতে পারবো – যা আমাগো সিমাবদ্ধ ভুমি আর বা্সস্থান সমস্যা সমাধানে সহায়ক হইবো
• স্বাভাবিক ভাবেই অনেক স্বামী স্ত্রী বা যুগল দুই শিফটে বিভক্ত হয়ে পড়বে – যার প্রভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমবো।

এক কথায় আমাদের মূল সমস্যাগুলির উপর এই ব্যাবস্থার তাৎক্ষনিক পজিটিভ প্রভাব বিশাল। ইংরেজীতে বলে “Necessity is the mother of all inventions”
আমাদের বিশাল প্রতিকুলতায় আমরা দুনিয়ার প্রথম দেশ হইতে পারি – যেই দেশ কখোনো ঘুমায় না – প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন, বছরে ৩৬৫ দিন চলে।
__________

মরেনো/নির্বোধ