ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

আমি নিজেও কাদের মোল্লার রায় বের হওয়া পর্যন্ত জানিনি তার ভয়ঙ্কর হাজার খুনের অপরাধগুলো। স্বাধিনতার প্রজন্মের, কিশোর হিসাবে আমি সেই বিভিষিকাময় নয়মাস দেখেছি, তার মাঝে পালিয়ে পালিয়ে বেচেছি। সেই আমারই তখন পর্যন্ত কোনো মিডিয়ায় নজরে আসেনি কাদের মোল্লা সুনির্দিষ্ট ভাবে কি কি অপরাধে অভিযুক্ত।

তাই ভাবছি, নতুন প্রজন্ম কি ভালভাবে, বিশদভাবে জানে যুদ্ধাপরাধিদের সেই ভয়ানক অপরাধগুলি, যে অভিযোগে তারা আজ ট্রাইবুন্যালে বিচারের সম্মুক্ষিন। আমার মনে হয় তাদের এগুলো জানা দরকার বিশদভাবে সুনির্দিষ্ট ভাবে, যাতে নতুন প্রজন্মের আজকের উত্থান/দাবি ক্ষনিকের আবেগ ছাপিয়ে সত্য আর ফ্যক্টের ভিত্তিতে একটা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ স্থায়ি রূপ পায় এবং এই জাগরন আরো ছড়িয়ে পড়ে।

যুদ্ধাপরাধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সবাইকে জানানো হলে তা নতুন প্রজন্মের অনেক জামাতি আর শিবিরকেও তাদের বিবেকের মুখোমুখি করে দিতে পাড়ে – কাদের বাচাতে আমরা রাস্তায় নামছি, সহিংসতা করছি? কাদেরকে আমরা এতদিন নেতা মেনেছি?

শাহবাগের আন্দোলন যে বিশাল মিডিয়া ফোকাস আর কাভারেজ এনে দিয়েছে এই রাজাকারদের ভয়ঙ্কর অপরাধগুলো, একে একে সারা দেশেকে সুনির্দিষ্টভাবে জানানোর, তা গত ৪২ বছরে কখোনোই আসে নি। আশাকরি আপনারা যারা শাহাবাগ আন্দোলোনের সংগঠক তারা এ সুযোগের সম্পূর্ন স্বদব্যাবহার করবেন – মিডিয়া ব্লগ আর শাহবাগ মঞ্চে।

আর এই সাথে, হারিয়ে যাওয়া অসংখ্য সাধারন মুক্তিযোদ্ধাদেরও আপনাদের ক্রম বিস্তারমান নেটোয়ার্কের মাধ্যমে খুজে বের করে শাহবাগের নতুন প্রজন্মের মঞ্চে নিয়ে আসতে পারেন। তাদের মুখ থেকেই নতুন প্রজন্ম সরাসরি যানুক তাদের বিরত্বগাথা, রাজাকারদের অপরাধের বর্ননা আর স্বাধিনতার কোন চেতনায় উদবুদ্ধ হয়ে তারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন । স্বাধিনতার চেতনার তাত্বিক সুশিল কাগুজে সঙ্গা গত বিয়াল্লিশ বছর ধরেই সব রঙ আর ঢঙ্গের ধান্দাবাজ নেতা আর পাতিনেতাদের বক্তৃতা বিবৃতিতে বহু শুনেছে দেশ, বহু দেখেছে স্বাধিনতার চেতনার রাজণৈতিক ব্যাবসা। এখন সময় এসেছে শোনার সুযোগ এসেছে, স্বাধিনতার সত্যিকারের নায়ক সাধারন মুক্তিযোদ্ধাদের মুখ থেকে সরসরি সোজা বাংলায় – আসলে কি চেতনায় উদবুদ্ধ হয়ে তারা জীবন বাজি রেখেছিলেন, আসলে বাস্তবে কি ধরনের বাংলাদেশ পেতে তারা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন।