ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

৩০ অক্টোবর নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাধারণ জনগণ অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে নির্বাচনটি দেখার জন্য। এদিকে খোদ আওয়ামী লীগ হতে দু’জন প্রার্থী নমিনেশন পেপার দাখিল করায় নির্বাচনটি নিয়ে কৌতুহল বেড়ে গেছে। ইতিমধ্যে দু’জন প্রার্থীই কেন্দ্রীয় সপোর্ট পেয়েছেন বলে দাবী করেছেন। আওয়ামী লীগ অবশ্য এখন পযর্ন্ত অফিসিয়ালভাবে এব্যাপারে কিছু জানায়নি। তারা দু’জনই নিবার্চনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই ভাবছেন এমন যদি অব্যাহত থাকে তাহলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তৈমুর রহমান খন্দকার ফাঁকা মাঠে গোল দেবেন। তাই আওয়মী লীগের নিজের প্রয়োজনেই একজনকে চুড়ান্তভাবে সপোর্ট দিতে হবে। শোনা যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এব্যাপারে দলের শী্র্ষ নেতাদের সাথে আলোচনা করেছেন। আগামী ২/১ দিনের মধ্যেই দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত করা হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাকে সপোর্ট দেবেন? শামীম ওসমান না সেলিনা হায়াত আইভিকে। তার এ সাপোর্ট এর মধ্য দিয়ে চুড়ান্তভাবে কোন পক্ষ জয়ী হবে? সততা এবং রাজপথে সাধারণ জনগণের সাথে টিকে থাকা পক্ষটি নাকি পেশী শক্তি নিভর্র পক্ষটি?

গত কাল দেশের শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক প্রথম আলো প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই করে একটি প্রতিবেদন ছাপিয়েছে। সেখানে দেখা যায় একমাত্র সেলিনা হায়াত আইভি’র বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। তিনি রাশিয়া থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন। নারয়নগঞ্চ পৌরসভার মেয়র হিসেবে পাওয়া সম্মানী ছাড়া তার আর কোন আয় নেই। তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করেন এবং স্বামীর খরচে সংসার চালান। তার নিজের বা স্বামী-সন্তানদের নামে কোনো বাড়ি বা ফ্ল্যাট নেই। কোনো ব্যবসা, ব্যাংকে শেয়ার বা সঞ্চয়পত্র নেই।

পক্ষান্তরে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৭ টি মামলা। আদালত কতৃর্ক ঘোষিত না হলেও নারয়নগঞ্জবাসী তথা দেশবাসী তাকে গডফাদার হিসেবে চেনে। আওয়ামী লীগের দু:সময়ে তাকে পাওয়া যায়না। তাছাড়া নিন্দুকের কাছে আওয়ামী লীগকে খারাপ দল হিসেবে পরিচিত করাতে তার এবং জয়নাল হাজারীর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। সব্বোর্পরি শামীম ওসমানকে জনগণ ভয় পায়। তার পরিবারের সদস্যরা নারায়গঞ্জের ব্যবসা-বানিজ্যসহ সবকিছু অগণতান্ত্রিক উপায়ে নিয়ন্ত্রন করে এমনও অভিযোগ পাওয়া যায়।

আমার বিশ্বাস নারয়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সততা এবং আদর্শকে বেজ ধরেই একজন প্রার্থীকে সাপোর্ট দেবেন। আমরা সেই অপেক্ষাতেই থাকলাম। এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো যে, একজন টাউট-বাটপারকে দল থেকে উপেক্ষা করা হলে দলের ক্ষতি হয়না বরং দলের-ই লাভ হয়। জনগণ টাউন-বাটপারদের ভয় পায়-সত্য কথা, তবে সময় পেলে তারাই আবার এর দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়।