ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

উন্নয়নের পূর্ব শর্তই হলো নতুন নতুন পুযুক্তির উদ্ভাব এবং তাকে কাজে লাগানো। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে অনেক এগিয়ে গেছে। আর এর পেছনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে প্রযুক্তি। বিগত ২/৩ টি সরকার প্রযুক্তিকে সহজলভ্য করায় তার বিকাশ দ্রুতই ঘটেছে। এটা নিশ্চয় মহৎ উদ্যোগ। এখন তো এক হাজার টাকা দিয়েও একটা মোবাইল সেট পাওয়া যায়। আর এতে করে গ্রাম-শহরের ফারাক অনেকাংশেই কমে গেছে। গ্রামের একজন সাধারণ ছাত্র সেখানে বসেই কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত খবরা খবর নিতে পারছে। এমনকি পৃথীবির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খবরও নিতে পারছে।

অতিসম্প্রতি মোবাইল ব্যাংকিং চালু হয়েছে। তাছাড়া পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই দেশের এক স্থান হতে অন্য স্থানে টাকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। সত্যিই এতোসব উন্নতি দেখে আশ্চর্য লাগে। এইতো কয়েক বছর আগেও আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতাম তখন বাবার কাছে টাকা চেয়ে চিঠি লিখতাম তারপর বাবা মনি ওর্ডারের মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন। এতে অনেক সময় লাগত। আর এখন ইচ্ছা হলেই বাবা-মা’র সাথে কথা বলা যায়। টাকা-পয়শার দরকার হলে তা নেয়া যায়। এখন তো ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, মজদুরসহ সকলের হাতে হাতে মোবাইল ফোন। শুধু তাই নয় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এফ.এম রেডিও এবং গান শুনা যায়। মোবাইল ফোনের এমন সব বাহারি বাহারি সেট ব্যবহৃত হচ্ছে যেখানে অডিও-ভিডিও’র সকল সুবিধা রয়েছে।

সরকারের সঠিক উদ্যোগ থাকায় কম্পিউটার/ল্যাপ টপের দাম এখন হাতের নাগালে। তাই অনেকেই এসব প্রযুক্তির ব্যবহার করতে সক্ষম হচ্ছে। তাছাড়া মোবাইল কোম্পানীগুলো ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এতে করে গ্রাহক স্বল্প খরচে ইন্টারনেট সংযোগ নিতে পারছে। ফলস্বরুপঃ অবাধ তথ্য প্রবাহের স্বাধীনতা সৃষ্টি হয়েছে যা নিশ্চিতভাবে প্রশংসার দাবি রাখে। এ তো গেল নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের সুবিধা বা ইতিবাচক। এর অন্য পিঠে রয়েছে ব্যাপক উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার দিক।

সাম্প্রতিক সময়ে এসব প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে এক শ্রেণীর নোংরা মানসিকতার লোক ইন্টারনেটের মাধ্যমে যৌনতাকে ব্যবহার করছে। এর ছবি ওর সাথে লাগিয়ে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও চরিত্রকে নোংরাভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় ভয়-ভীতি দেখিয়ে বা প্রেমের সম্পর্ক তৈরী করে মোবাইল ফোন বা ভিডিও রের্কোডারেরর মাধ্যমে নোংরা দৃশ্য রেকর্ড করে ইন্টারনেটে ছাড়া হচ্ছে। থেকে থেকে এসবের সিডি করে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। এতে করে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্হ হচ্ছে। মান-সম্মানের ভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কারও কাছে মূখ দেখাতে পারছেনা।

নতুন নতুন এসব প্রযুক্তি যেহেতু জ্ঞান বিকাশের সহায়ক সেহেতু আধুনিক কালের অভিভাবকরা এসব প্রযুক্তিকে তাদের কোমল-মতি শিশু-কিশোরদের হাতে অবাধেই তুলে দিচ্ছেন। আর এটা দোষেরও কিছু নয়। কিন্ত দুষ্ট প্রকৃতির বন্ধুদের খপ্পরের পড়ে আমাদের শিশু-কিশোররা ঐ সব সেক্স ভিডিও দেখছে এবং বিপদগামী হচ্ছে।

এখনই সময় এসব অনাচার বন্ধ করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে। উদ্যোগটা প্রথমে সরকারকেই নিতে হবে। এব্যাপারে আইনগত ঘাটতি থাকলে তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। আর এ উদ্যোগে ঘাটতি দেখা গেলে আমাদের নিজেদেরকেই একটা কঠিন সামাজিক বিপর্যয়ের মুখোমুখী হতে হবে।