ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বেশ কিছু দিন থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, আওয়ামী লীগ এর উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বিভিন্নভাবে নিজেকে জাহির করতে ব্যস্ত রয়েছেন। তিনি এক এক সময় এক এক কথা বলে বর্তমান রাজনীতিকে আরও উসকে দিচ্ছেন। অথচ কিছু দিন আগেও তিনি নিজেই মন্ত্রীদের কম এবং সংযতভাবে কথা-বার্তা বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এখন তিনি কেন যেন নিজেই তা মানছেননা। এটা কি তার ব্যক্তিগত হতাশার প্রতিক্রিয়া নাকি কারও কাছে ভাল সাজার ভান করা।

গত বুধবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে ‘মরা গাছ’ অভিহিত করে তিনি বলেছেন, এতে আর ফুল ফুটবে না। গত কাল তিনি আবারো তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ‘মৃত’ উল্লেখ করে নির্বাচনকালীন অন্তর্র্বতী সরকারের রূপরেখা তুলে ধরতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন (সূত্রঃবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচীব মরা গাছকে পরিচর্যা করেই জীবিত করার পল্টা জবাব দিয়েছেন। বস্তুতঃ এসব অনাকাঙ্খিত ব্যক্তিদের কারণে দেশে পাল্টা-পাল্টি বক্তৃতা-বিবৃতির রাজনীতি শুরু হয়। এতে করে রাজনীতি এবং রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট জনেরাই বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হোন। ওয়না এলিভেনের পূর্বেও এরকম অবস্থাই ছিল। এসব দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন, সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের মতো হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিরা কি রাজনীতির মাঠকে গরম করে অন্য কোন ফল প্রত্যাশা করছেন?

আমার যতদুর মণে পড়ে ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য আন্দোনল করেছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সেদিন জনগণের দাবীতে পরিণত হয়েছিল। অবশেষে ১৫ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনটি টেকসই হয়নি এবং তৎকালীন বিএনপি সরকার বাধ্য হয়েছিল পদত্যাগ করতে। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এখন সেই আওয়ামী লীগই রাষ্ট্র ক্ষমতায়। তারাই আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে কালো আইন বলে বাতিল করেছে। এব্যাপারে তারা আদালতের রায়কে যুক্তি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। অথচ আদালতের সেই রায়েই বলা হয়েছে গণতন্ত্রের স্বার্থে আগামীতে অন্ততঃ দু’টো নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় করা যেতে পারে। তাহলে আইনটি বাতিল করা হলো কেন? নির্বাচনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা? নাকি তারা জনগণকে ভয় পেয়েছেন? আওয়ামী লীগের মতো একটা ঐতিহিসক দল কেন জনগণকে ভয় পাবে? এসব প্রশ্ন এখন আমজনতা সকলেরই।

এখানে একটা কথা বলে রাখা ভাল যে, সংবিধান সংশোধনী কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন এই সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি তখন রাজনীতিবিদ, আমলা, বুদ্ধিজীবিসহ বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতাদের সাথে সংবিধান সংশোধনের জন্য পরামর্শ নিয়েছিলেন। তখন অনেকেই তো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বহাল রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তারপরেও কোন এক অদৃশ্য শক্তির কল-কাঠিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল করা হলো! আশ্চর্য জনক হলেও সত্য যে, এখন তারাই আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে মৃত বলছে। এসব প্রশ্নের প্রতি উত্তরে আমরা যদি জনগণের পক্ষ থেকে বলি, এই অপ-মৃত্যুর জন্য দায়ী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এবং কিছু ধামাধরা চামচা প্রকৃতির লোক যারা প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়েন। সাধারণ জনগণ এখনও বিশ্বাস করে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন এবং তার গড়া দল আওয়ামী লীগ বার বার গণতান্ত্রীক উপায়েই রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে। আর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও তা ভাল করেই জানেন। তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে বিরোধী দলকে এমন একটা ইস্যুতে রাজনীতি করা সুযোগ দেয়া হলো কেন?

তাই বলছি আলতু-ফালতু কথা-বার্তা না বলে দল এবং দেশের জন্য কিছু করুন। এক সময় মিডিয়াকে দেখলেই সাকা চৌধুরী ওরকম আবল-তাবল বক্তৃতা দিতেন। আজ তিনি কোথায়? জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। কখনও কেউই কোনোভাবেই জনগণকে ভুল কিছু বুঝাতে পারবেননা।