ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা গত ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়। তার ঠিক তিন দিন পর ফল প্রকাশ করা হয়। তারপর অনেক শিক্ষার্থী ফল পুনর্মূল্যায়ন এর দাবি জানায়। গত ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন ও গ ইউনিটের ভর্তি কমিটির প্রধান অধ্যাপক জামাল উদ্দিন আহমেদ শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে জানান যে ‘গ’ ইউনিটের প্রশ্নে সাত থেকে আটটি ভুল পাওয়া গেছে। সুতারাং ফল পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। সেদিনই রাতে ফল আবার পুনর্মূল্যায়ন করা হয় এবং প্রথম বারের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ফল প্রকাশ করা হয়। এরফলে প্রথম বার যারা চান্স পেয়েছিল তাদের অনেকেই পরের বার চান্স পেলেন না। বিষয়টি ভেবে দেখুন, যারা এই ফল প্রকাশের আগে প্রথম বারের ফল এ চান্স পেয়েছিল তাদের অনেকেই পরের দিন সকালে উঠে জানলেন যে, তারা আসলে চান্স পান নাই। নাটকের এখানেই শেষ না।

পরবর্তী্তে ফল পুনর্মূল্যায়ন এর পর যারা চান্স পেলেন তাদের কে চয়েস ফর্ম পূরণ করার জন্যে বলা হল। তারা চয়েস ফর্ম পূরণ করলেন। গত ১৫ নভেম্বর ভর্তি কমিটি নোটিশ দিল যে, তারা ২২ নভেম্বর কে ( চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীরা) কোন বিষয় পেয়েছেন সেটা প্রকাশ করবেন। হঠাত্ ২০ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আবার নেওয়া হবে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি থাকায় শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ফল পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এরপরও আরো বিপুল পরিমাণ পুনমূর্ল্যায়ন আবেদন আসায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

এখন আমার প্রশ্ন এটা কী কোন গ্রহণযোগ্য উত্তর যে, বিপুল পরিমাণ পুনমূর্ল্যায়ন আবেদন আসায় পরীক্ষা আবার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কী দয়ার সাগর ? আবেদন করলেই ফল পরিবর্তন ? যে সকল শিক্ষার্থী দুইবার পর পর মূর্ল্যায়নের পরও চান্স পেয়েছে তারা যদি আবেদন করে যে তারা দুইবার চান্স পেয়েছে তাই তারা আবার পরীক্ষা দিবে না, সেটা কী খুব ভুল চাওয়া হবে? যদি প্রশ্নপত্রে ভুল থাকে তার জন্য ভর্তি কমিটি দায়ী, তার দায় কেন শিক্ষার্থীরা বার বার নিবেন?

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র। আমি আসলেই লজ্জিত যে আমি আমার বোনের কাছে এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সবসময় অনেক বড় বড় কথা বলেছি। যে (আমার বোন) কি না দুই দুই বার চান্স পাবার পরও আবার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিবে। সুধী জনদের কাছে আমার প্রশ্ন আমি যদি এই বিষয়ে বিবেচনার জন্যে হাইকোর্টে রিট আবেদন করি, সেটা কী আমার উচিত হবে না ?