ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

গতকাল অফিস থেকে বের হয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম গাড়ির অপেক্ষায় | অনেকক্ষণ পার হয়ে গেলেও গাড়ির কোনও দেখা নেই|কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখলাম রাস্তা একেবারে ফাঁকা |প্রায় কদম বিশেক পর পর এক জন করে পুলিশ দাঁড়িয়ে রাস্তায় | রাস্তার মাঝ দিয়ে দু’একজন পুলিশকে এদিক সেদিক ছোটা ছুটি করতে দেখা যায়| মুহূর্তেই বুঝতে পারি সরকারী কোনও রুই কাতলা এই পথে গমন করবেন, যেই কথা সেই কাজ! মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মাথায় দেখলাম জাতীয় পতাকাবাহী এক বিরাট গাড়ির বহর শো করে চলে গেল আমার চোখের সামনে দিয়ে |দেখতে দেখতেই কোথায় যেন হারিয়ে গেল গাড়ি গুলো| গাড়ির গতি দেখে বোঝার উপায় নেই এই আমাদের চির চেনা ঢাকা! তীব্র যানজট যার নিত্য সঙ্গী! ঘন্টার পর ঘণ্টা কেটে যায় পিছ ঢালা রাস্তার বুকে, সূর্যের ছাতার নিচে ঘামে জর্জরিত কর্মজীবীর, বুদ্ধিজীবীর, শিক্ষকের , সাংবাদিকের, দোকানির, কুলির, সাধারণ মানুষের! এমন ফাঁকা রাস্তায় শো শো করে গাড়ি হাঁকিয়ে গেলে কী করে বুঝবে তারা নাগরিক জীবন কতটা বিপর্যস্ত?
অফিস যাওয়ার পথে যানজটে আটকা পড়ে ঘামে ভেজা ৩ ঘণ্টা আর ফেরার পথে ঝুলোঝুলির ৩ ঘণ্টা যারা পার করেন তাদের কী অনুভূতি তা কী করে বোঝাবেন ওই মন্ত্রীদের!

শহরে সীমাহীন যানজট আর উপশহরের রাস্তায়, সারা দেশ জুড়ে নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনা ! আমদের দেশের মত এত সড়ক দুর্ঘটনা আর বোধহয় পৃথিবীর আর কোনও দেশে হয় না! আমাদের এখানে দুর্ঘটনা খুব স্বাভাবিক, সহজ আর মোটেও যেন অনাকাঙ্ক্ষিত নয় ! দেশের বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় সড়ক দুর্ঘটনা যেন একটি নিত্য নৈমিত্তিক বেপার | প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ, বাড়ছে কান্না| আর লাশের সারি বাড়ছে দিনের পর দিন! এত প্রাণের কান্না যেন শেষ হয় না, একটি ভুলতে না ভুলতে আরেকটি হাজির! কোলের শিশুটি রেখে মা, বাবা, ভাই,বোন সহ পরিবারের সবাই সড়ক বা নৌ দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া এদেশে খুব পরিচিত ঘটনা| কোথাও কোনও প্রতিকার নেই, নেই কোনও শোক প্রকাশ! এ মানুষ গুলোর জনমই হয়েছে যেন জলে ডুবে মরার জন্যে, গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মরার জন্যে! খাদে পড়ে প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার জন্যে! দেশে যোগাযোগ বেবস্থা মানুষকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে| একের পর এক যোগাযোগ মন্ত্রী আসেন, নৌ মন্ত্রী আসেন, আবার তিনি চলেও যান, কিন্তু রাস্তা পড়ে থাকে আগের মতই! রাস্তার বুক থাকে ক্ষত বিক্ষত, আর নদীতে চলে টিনের বাক্স তলা ফাটা লঞ্চ, স্টিমার! আমাদের মন্ত্রীদের চামড়া ও যেন গণ্ডারের চামড়ার চেয়ে পুরু| তারেক মাসুদ, মিশুক মুনিরের মত গুণীজন সহ হাজার মানুষের প্রানেও যেন তাদের টনক নড়ে না! কোথায় রাস্তা খারাপ , কোন গাড়ির জরাজীর্ণ অবস্থা, ড্রাইভারের লাইসেন্স আছে কিনা, তা নিয়ে মাথা ঘামনোর সময় মন্ত্রীদের কোথায়? তাদের পদতেগ দাবি করে বুদ্ধিজীবীদের ঈদের দিন পর্যন্ত শহীদ মিনারে অবস্থান করতে দেখলেও পদ আক্রে পড়ে থাকতে দেখা যায় আমাদের জনদরদি মন্ত্রীদের! তারা জনগণের সেবা করার জন্যে এসেছেন, তাদের সেবা না করে, মৃত মানুষের সটকার না করে কী করে ছাড়বেন নিজের গদি? উল্টো তাদেরকে বলতে শুনি আল্লাহর মাল আল্লাহ নিচ্ছে আমি কী করুম? এই তদন্ত কবে শেষ হইবো আমি কেন কেউ বলতে পারব না ! কারো বেড রুমের নিরাপত্তা কেঠা দিব ………???