ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

আজ প্রায় প্রতিটি পত্রিকা , এবং টিভিতে ফলায় করে প্রচার করছে আজ শব-ই-বরাত। শবে বরাত নিয়ে আমাদের দেশে যা হয় পৃথিবীর কোথায় তা হয় না । আমাদের দেশে হালুয়া রুটি থেকে শুরু করে মসজিদে আলোক সজ্জা পযর্ন্ত করা হয়। আমি একজন সাধারন মুসলিম হিসেবে শব ই বরাতে পৃথিবীর কোন দেশে এই ধরনের কাজ করে কিনা বহু খুজে বের করতে পারিনি । আসলে শবে বরাত সম্পর্কে আমাদের সঠিক জ্ঞান নেই। আমাদের বাংলাদেশের মানুষের একটা অভ্যাস আমরা ফরজ রেখে নফলের পিছনে সময় বেশী ব্যয় করি। শবে বরাত সম্পর্কে আমাদের সঠিক জ্ঞান অজর্ন করতে হবে। আমাদের আলেমদের দায়িত্ব সাধারন মানুষকে সঠিক জ্ঞান দেয়া। তবে খুবই কম সংখ্যাক আলেম এই কাজটি করে থাকেন। অনেক আলেম আছেন যারা পবিত্র কোরআনে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে যে আয়াত নাযিল হয়েছে তা শবে বরাত বলে চালিয়ে দেন। আমি কোন আলেম নয়, জেনারেল লাইনে পড়াশুনা করেছি তবে ছোট বেলা থেকে আমার ইসলামের প্রতি তীব্র আকর্ষন থাকায় আমি ইসলাম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে থাকি। শবে বরাত সম্পর্কে আমার জানা বিষয়গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরব যদি কোন ভূল তথ্য দিয়ে থাকি তাহলে যে কেউ ভূল ধরিয়ে দিলে খুশি হব। পবিত্র কোরআন এবং হাদীসে শবে বরাত বলতে কোন শব্দ আমি খুজে পাইনি। শবে বরাত বা ভাগ্য রজনী যে কোথা থেকে আসলো তা আমার জানা নেই । ফারসি শব্দ থেকে শবে বরাত এসেছে তবে একে কি কারনে ভাগ্য রজনী বলা হল তা বোধ গম্য নয় যেহেতু মাহান আল্লাহ আমাদের আগেই জানিয়ে দিয়েছেন যে কোন মানুষের সৃষ্টি অবস্থায় তার মধ্যে রুহ দেয়া হয় তখনই তার জীবনের প্রতিটা জিনিস সন্নিবেশিত থাকে, সে কত বছর বাঁচবে, কি রিজিক সে গ্রহন করবে মোট কথা রুহ দেয়ার সাথে সাথে তার জীবনের প্রতিটা কাজ সেখানে বলে দেয়া হয় তাহলে আগামী বছর আমি কি করব , কি খাব বা কি হবে তা এই রাতে নির্ধারন হয় তা কোথা থেকে আসলো । ইসলামের প্রতিটা মসের গুরুত্ব অপরিসীম । সবেচয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাস হল রমজানের মাস আর সবচেয়ে দামী রাত হল লাইলাতুল কদরের রাত। যা কোরআন হাদীস দ্বারা স্বীকৃত।

এরপর মহররম ,জিলহজ্ব , রজব এবং শাবান মাসের গুরুত্ব বেশী । আমাদের মহানবী রজব এবং শাবান মাসে একটি দোয়া বেশী করে পরতেন তার অর্থ এই রকম হে আল্লাহ আমাকে রজব এবং শাবানের বরকত দ্বান করুন এবং রমজানে এই বরকত আরো বৃদ্ধি করুন। এ ছাড়া তিনি রজব এবং শাবানে অতিরিক্ত নফল রোজা রাখতেন। এখন আসি তথাকথিত শবে বরাত সম্পর্কে পবিত্র কোরআন এবং হাদীসে কি আছে এবং সাহাবারা কি ধরনের আমল করতেন। আমার জানা মতে কথিত শবে বরাত সম্পর্কে একটি গুরুত্ব পূর্ন হাদীস আছে যা এরকম । একদিন রাতে মা আয়েশা ( রাঃ) আনহু ঘুম থেকে জেগে দেখেন রাসুল (সঃ) তার পাশে নেই তখন তিনি রাসুলকে খুজতে বের হলেন। রাসুল (সঃ) কে দেখলেন জান্নাতুল বাকিতে কবর জিয়ারত করছেন। তখন তিনি তার কাছে গেলেন এবং রাসুল (সঃ) তাকে বললেন তুমি কি জানো আজ কোন রাত । হযরত আয়েশা (রাঃ)আনহু বললেন তার কিছু জানা নেই , রাসুল (সঃ) ভাল জানেন। তখন রাসুল(সঃ) বললেন আজ লাইলাতুন নিছফে মিন শাবান মানি আজ শাবান মাসের পনের তারিখ দিবাগত রাত। এই রাতে আল্লাহ তায়ালা মানুষের গুনাহ মাফ করে থাকেন। এই রাতে মহান আল্লাহ প্রথম আসমানে এসে মানুষকে গোনাহ মাফের জন্য ডাকতে থাকেন বলেন এমন কে আছো আমার কাছে সাহায্যে চায় আমি তোমাদের সব রকম সাহায্যে করব , তোমাদের গুনাহ মাফ করব ,তোমাদের অভাব দূর করব যে অসুস্থ তাকে সুস্থতা দান করব । বিশেষ কিছু লোক যারা সুদ খায় , যারা নেশা করে যারা পিতা মাতার সাথে খারাপ ব্যবহার করে , যারা ব্যাভিচার করে এমন প্রায় বিশ শ্রেনীর লোকের দোয়া মহান আল্লাহ কবুল করেন না । তাছাড়া যে কারো দোয়া মহান আল্লাহ কবুল করে তাকে মাফ করে দিতে পারেন। যেহেতু রাসুল (সঃ) রজব এবং শাবানে প্রচুর নফল রোজা রাখতেন এবং পরের দিন রোজা রাখার কথা বলা আছে তাই আপনি ইচ্ছা করলে পরের দিন রোজা রাখতে পারেন। আর বহু হাদীসে এটা এসেছে নফল ইবাদত ঘড়ে বসে করা উত্তম । তাই যথা সম্ভব ঘড়ে বসে ইবাদত করুন তাতে আপনার ঘড়ে যারা থাকবে তাদের ইবাদতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে ।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম এই রাত্রে ইবাদত করা উচিৎ, কবর জিয়ারতের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া যেতে পারে এবং পরের দিন রোজা রাখা যেতে পারে । অথচ আমরা যা করি এবং যা প্রচার করি তার সাথে লাইলাতুন নিছফে মিন শাবানের সাথে কি সম্পর্ক তা আমার জানা নেই। আর এই রাত্রে বিশেষ কোন আমল নেই । আপনার খুশি মত আমল করতেন পারেন। ফরয আমলের পর পবিত্র কোরআন পাঠ সবেচেয়ে বড় আমল, তাহাজুদ নামাজ বড় আমল এই সব আমাল করতেন পারেন। যে কোন বেদাত পরিহার করে আমাদের সঠিক ইসলাম জানতে হবে এবং তা অনুসরন করতে হবে , হলুয়া রুটি , মসজিদে আলোক সজ্জা আর রাত জেগে ঘোরার মধ্যে ইসলাম নেই বরং ইসলাম সেই জিনিস আপনি যতটুকু পারেন ইবাদত করুন এবং এশার নামাজ , ফজরের নামাজ সহ সব নামাজ জামাতের সাথে আদায় করুন। এর মধ্যেই কল্যান নিহত । আর ঘড়ের মধ্যে নফল ইবাদত করুন যাতে ঘড়ের মধ্যে শান্তি স্থাপিত হয় । আপনি সারারাত মসজিদে ইবাদত করলেন আর ঘড়ের মধ্যে আপনার স্ত্রী , সন্তান বা ভাই ,বোন টিভি দেখে , ইন্টারনেটে বসে সময় কাটাল তাতে আপনার ইবাদতের কতটুকু মূল্য থাকল চিন্তা করুন । বরং সবাইকি নিয়ে যতটুকু সম্ভব ইবাদত করুন এবং ঘড়ের ভিতর ইসলামী পরিবেশ সৃষ্টি করুন তাতে আপনার যেমন লাভ , তেমনি সমাজ এবং রাষ্ট্রের লাভ ।