ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আগামী নির্বাচন নিয়ে একটা আশংকা থেকেই যাচ্ছে। সরকার এবং বিরোধী দল যার যার অবস্থানে শক্ত অবস্থান নিয়ে আছে। কেউ ছাড় দিতে রাজী নয়। অথচ প্রধান দুই নেত্রীই এই বিষয় নিয়ে বিপরীত মুখী কথা বলছে। এক সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের জন্য ১৭৩ দিন হরতাল সহ লাগাতর হরতাল দিয়েছিল । তখন বর্তমান বিরোধী দলের নেত্রী বলেছিল পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। এখন আবার প্রধানমন্ত্রী বলছে অনির্বাচিত কারো হাতে ক্ষমতা দেয়া হবে না । যদি তাই হয় তাহলে ১৭৩ দিনের হরতাল কেন দেয়া হয়েছিল তার উত্তর কেউ দিতে পারবে না । মোট কথা আমাদের যে চরিত্র তাতে এ দেশে দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন যে নিরপেক্ষ হবে না তা হলফ করা বলা যায় ।

আমরা যে যত বড় নেতা বা নেত্রী হয় না কেন ক্ষমতার মোহ যে আমরা ছাড়তে পারি না তারা প্রমান আমরা অনেকবার দিয়েছি । তাই এখন যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তার মূল কারন ক্ষমতা ধরে রাখা অথচ ক্ষমতায় আবার ফিরে আসা। এর মধ্যে দেশের জনগনের কোন কল্যান নেই । আমরা অনেক বার ঘুড়ে ফিরে সেই দুই দলকেই ক্ষমতায় আনছি আর দেখছি তারা আমাদের কি ভাবে শোষন করছে। মনে হয় এ দেশ তাদের বাপ দাদার সম্পত্তি তারা প্রতি পাচ বছর পর পর তা ভোগ করার লাইসেন্স নিয়েছে। এই দুই দল সহ এদের সাথে যারা জোট করেছে সবাই মূলত ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করছে । তাই এখন সময় এসেছে আমাদের বিকল্প কিছু ভাবা । এমন কিছু ভাবতে হবে যাতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নতুন একটি রাজনৈতিক দল বা শক্তি গড়ে উঠতে পারে । আর এর জন্য দুই দলের এবং জোটের বাহিরে যারা আছে তাদের সকলকে একত্রিত হতে হবে । এখানে অবশ্যই সুশীল সমাজ সহ সমাজের স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যাক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে । মূলত তৃতীয় শক্তিকে আসতে হবে প্রধান দুই দলকে পরিশুদ্ধ করতে । তাদেরকে ধংস করতে নয়। আমি বিশ্বাস করি যদি সত্যকার অর্থে তৃতীয় কোন গনতান্ত্রিক শক্তির উদ্ভব হয় তবেই বাংলাদেশের মঙ্গল হবে । আর যদি তা না হয় তাহলে যে দলই ক্ষমতায় আসুক বাংলাদেশের গুনগত কোন পরিবর্তন হবে না ,এই নেতৃত্ব দিয়ে পরিবর্তন সম্ভব নয়।