ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

এর আগে লিখেছিলাম আমার চাওয়া আওয়ামী লীগ। মোটামুটি পাঠক সাড়া পেয়েছি । এবার বিএনপিকে এখন আমি কি রকম দেখতে চাই তাই লিখব। কোন রাখঢাক না রেখে সরাসরি মূল আলোচনায় চলে যেতে চাই। এখন থেকে বা আজ থেকে বি এন পি কি রকম হলে আমি খুশি হব বা দেশ উপকৃত হবে তাই আমার লেখার বিষয়। আজ এখনই বি এন পি কে সংসদে যেতে হবে । কোন খোড়া যুক্তিতে সংসদ বর্জন করা ঠিক নয়। কোন অবস্থাতেই লাগাতর সংসদ বর্জন জাতির জন্য কল্যাণকর নয়। প্রয়োজনে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করা যেতে পারে তবে লাগাতর সংসদ বর্জনের রাজনীতি থেকে বি এন পি কে বের হয়ে আসতে হবে। সংসদে গিয়ে জনগনের সমস্যার কথা , জাতীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে । যতো বাধাই আসুক লাগাতর সংসদ বর্জন করা যাবে না ।

ছাত্রদলের যে নতুন কমিটি হয়েছে তাতে ও বিবাহিত এবং অছাত্রদের স্থান দেখা যাচ্ছে এই কাঠামো থেকে বি এন পি কে বেড়িয়ে আসতে হবে। বি এন পির আগের আমলে যে সকল ভূল করেছে বিশেষ করে একুশে আগষ্টের গ্রেনেড হামলা , কিবরিয়া হত্যা , আহসানউল্লাহ মাষ্টার হত্যা , সারা দেশে বোমাবাজি এর দায়িত্ব থেকে তারা মুক্তি পেতে পারে না তাই সে সকল ঘটনার জন্য জনগনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। ভবিষ্যতে দুর্নীতিবাজরা আর বিএনপি তে জায়গা পাবে না তা জনগনের সামনে ওয়াদা করতে হবে। তৃনমূল থেকে বিএনপির নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে । নমিনেশন বানিজ্য বন্ধ করতে হবে। হাওয়া ভবনের মত কোন দ্বৈত সরকার যেন না গড়ে উঠে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

শোনা যাচ্ছে, তারেক রহমান ইংল্যান্ডে পড়াশুনা করছে যা জাতির জন্য খুবই মঙ্গলজনক তাই তার পড়াশুনা শেষ হওয়া না পর্যন্ত তাকে যেন দেশে ফিরিয়ে না আনা হয়। তারেক রহমানের বিরুদ্ধ যে সকল অভিযোগ আছে তা যেন শুধু ক্ষমতার কারনে খারিজ করে না দেয়া হয় বরং তারেক রহমান যেন নিরপেক্ষ আদালতের মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ প্রমান করে আসেন আর সবচেয়ে ভাল হয় তার মামলা গুলো যেন তিনি নিজেই পরিচালনা করেন। হরতালের অপরাজনীতি বন্ধ করতে হবে। বিএনপি আগামী বার ক্ষমতায় গেলে তারা কি আগের মত দেশ পরিচালনা করবে না কি তাদের নতুন কোন পরিকল্পনা আছে তা জনগনের কাছে প্রকাশ করতে হবে। দলের মধ্যে গনতন্ত্র চর্চা বেশী করতে হবে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’তে দলের মধ্যে কোন গণতন্ত্রের চর্চা নেই সবাই নেত্রীদের খুশি করতে চায় এই মানসিকতা থেকে দলকে বেড়িয়ে আসতে হবে । আগে দলের মধ্যে গনতন্ত্র চর্চা করতে হবে। বিএনপি’কে যদি ক্ষমতায় আসতে হয় তা হলে এমন এক ঐক্য করতে হবে যেখানে সব শ্রেনী পেশার মানুষের সমাবেশ ঘটাতে হবে । বেগম খালেদা জিয়া আমার জানা মতে তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন রাজনীতির সময় পাড়ি দিচ্ছেন। সেই ১/১১ সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান সরকার সবাই তার দল , তার পরিবার এবং ব্যাক্তিগত ভাবে তাকে ক্রমাগত আক্রমন করে যাচ্ছে । তার পরে ও তিনি তার দলকে সুসংগত করেছেন এবং সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন তাই এখন এই অবস্থায় তাকে কোন মতেই ভুল পথে চলা যাবে না । দেশের এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে তাকে জনগনের পাশে থাকতে হবে ।

বিএনপি’কে শেয়ার বাজারে মূলধন হারানো মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে , অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে , দূর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, সাগর রুনির হত্যার বিচারের জন্য মেঘের পাশে দাঁড়াতে হবে , এম ইলিয়াস আলীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে , সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াতে হবে , হলমার্কের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, বুয়েটের ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতে হবে , মোট কথা বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে । বি এন পি কোন ব্যাক্তি বা কোন গোষ্ঠীর জন্য রাজনীতি করবে না, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করবে না , বি এন পি শুধু জনগনের জন্য, দেশের জন্য রাজনীতি করবে তাহলেই জনগনই তাদের সঠিক মূল্যায়ন করবে আর যদি ব্যাক্তি বিশেষের জনে কোন গোষ্ঠীর জন্য আর ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করে তার জবাব ও জনগনই দিবে । সবশেষে বি এন পিতে আগামীতে কিভাবে শীর্ষ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে তা এখন থেকেই বেগম খালেদা জিয়া কে নির্ধারন করতে হবে তার মানি বেগম খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানের পরে কে বি এন পির শীর্ষ নেতৃত্ব পাবে বা তার কাঠামো কি হবে তা এখনই ঠিক করতে হবে তাহলেই বিএনপি একটি দল হিসেব দীর্ঘদিন টিকে থাকবে আর দেশের ও জনগনের খেদমত করতে পারবে ।