ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

আজ অনেক দিন পর কেনো জানি বুকের ভিতর একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস দানা বেঁধে উঠেছে। আমি জানিনা হঠা এমন হচ্ছে কেনো? খানিক পরে আচমকা কেনো এই দীর্ঘশ্বাস? অগত্যা নেটে বসে গুগলে ইমেজ সার্চ দিতে গিয়ে প্রথম বারের মতো বুঝতে পারলাম কেনো এই দীর্ঘশ্বাস? মনের অজান্তেই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিষয় খুঁজতে লাগলাম। চোখের সামনে যা ভেসে উঠলো তা একজন নবীন বাংলাদেশী হিসেবে সহ্য করা আমার পক্ষে বেশ কষ্টকর হয়ে উঠলো। কেননা আমিও অন্যসব উন্নত রাষ্ট্রের নবীনদের মতই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছিলাম। স্বাধীনতার ৪১ বছর শেষ হতে চললো, আমরা কিছুই করতে পারিনি। আমরা পেরেছি শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কিভাবে দেশটাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করা যায়,কিভাবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে দেশকে অগনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পাশের দেশের কাছে বিক্রি করা যায়? কিংবা কিভাবে জনগণের টাকা নিজের পকেটে বিশেষ(!) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থানান্তরিত করা যায়? অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কিভাবে দিনের পর দিন হরতাল ডেকে মানবজীবন বিপন্ন করা যায়। সে যাই হোক, হরতালের নতুন থিওরিও এই দেশে প্রথম চালু হয়েছে। এখন শুধু বিরোধীদল নয়, সরকারী লোকেরাও হরতাল ডাকছে। আমি নতুন ব্লগ লিখছি এবং এটাই আমার প্রথম ব্লগ তাই হয়তো গুছিয়ে বলতে পারছিনা। আমি তাই কিছু বলার আগে প্রথমেই সিনিয়র ব্লগার এবং মুক্ত চিন্তার মানুষদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

আমি নিরীহ মানুষদের একজন। আমরা কিভাবে ভালো মতো বাঁচবো সেই চিন্তা করি। আর আমাদের ভালো থাকার ব্যবস্থা এবং তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সকলের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের। হ্যাঁ,সরকারের। আমরা দিন দিন আধুনিক থেকে আধুনিক হতে চাইছি। জীবনধারার মাধ্যমে, পোশাকে,ব্যবহারে, কথা-বার্তায়। কিন্তু, আমরা সেই পুরাতনটি থেকে গেছি আমাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি (এমনটাই কোথাও পড়ি মাঝে মাঝে)। ১৯৭১ সালের চেতনা ছিলো মুক্তি আদায়ের চেতনা। পরাজয়ের শৃংখলা থেকে মুক্ত হবার চেতনা। এখন ২০১২ সাল। স্বাধীনতা পাওয়ার ৪১ বছর হয়ে গেছে। এই ৪১ বছরে আমরা বদলাতে চেষ্টা করে গেছি। পেরেছি কী? শুধু বসুন্ধরা শপিং মল,যমুনা ফিউচার পার্ক কিংবা গুলশান,বনানী,উত্তরা মডেল টাউন করেই সব কি খালাস হয়ে গেছে? না হয়নি। যতই দেশের চেহারা দুবাই কিংবা সিংগাপুর বানাই না কেনো, আমাদের চিন্তাধারা,গনতন্ত্র এবং রাজনৈতিক কনসেপ্ট উন্নত যতদিন না হচ্ছে ততদিন আমাদের দেশের আসল মুক্তি অধরাই থেকে যাবে। হ্যাঁ আমি বিশ্বাস করি, এটা একটা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। এটাও বিশ্বাস করি যে, চাইলে রাতারাতি অনেক কিছুই করা যায়। রাজনৈতিক দলগুলোর একার দোষ নেই, আমাদের জনগণেরও কিছু ভার নিতে হবে। আমরা ব্লগ লিখবো,পেপারে ছবি ছাপবো, টিভিতে খবর প্রচার করবো আর ঘরে বসে তা দেখবো আর পড়বো তাতো হবেনা। নিজের জায়গা থেকে উঠে আসতে হবে। বর্তমানে আমরা সবাই স্যাটেলাইট চ্যানেল দ্বারা মোটামুটি সচেতন। আমাদের কি উচিত না, সরকার ব্যবস্থাপনাটাকে একটু নতুন দিকে মোড় দেই? অনেক পুরাতন নীতি আমরা মেনে নিয়েছি। আমাদের কি উচিত না, নতুন করে কিছু ভাবার? দেশকে ভারতের কাছে পুরোপুরি বিক্রি হবার আগেই আমাদের কি কিছু করা উচিত না?

আমি আগেই বলেছি এটা আমার প্রথম ব্লগ। ভুল ভ্রান্তি তাই হতে পারে। আমি ক্ষমা প্রার্থী সেই জন্য।