ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

কয়েকদিন আগে একটি অনলাইন পত্রিকায় দেখলাম শ্রদ্ধেয় বড় ভাই ও সময় টেলিভিশনের বাতা সম্পাদক তুষার আব্দুল্রাহ লেখার একটি বিশ্লেষণ। সেখানে তিনি টেলিভিশন সাংবাদিকতার নৈতিকতার স্খলন ঘটেছে তা সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। তিনি হুমায়ূন স্যারের টিভি কাভারেজ নিয়ে যে বক্তব্যগুলো তুলে ধরেছেন তা একান্ত ব্যক্তিগত হলোও সেটা গ্রহণযোগ্যও বটে। আমি তার সাথে একটি বিষয় যোগ করতে চাই। পত্রিকাগুলোর সাংবাদিকতা ও অনলাইন পত্রিকাগুলোর সেই সময়গুলোর নিউজ গুলো দেখলে আজও গা শিউরে উঠে। সাংবাদিকতার মতো একটি মহান পেশা দিনে দিনে এভাবে ব্যক্তি রাহু গ্রাসের ফসল হয়ে উঠবে তা কল্পনা করিনি। আমি জানি এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত ধারণা। তবে সার্বজনীন সত্য কথা এই যে আমরা আমাদের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছি। চিলে কান নিয়েছে কথা শুনে চিলের পিছনে মিছেমিছি ধাওয়া করছি। কিন্তু আমরা ভুলেও আমাদের মস্তকের কনাদেশে হস্তপাত করছি না। অনলাইন সাংবাদিকতা হচ্ছে সবচেয়ে গতিশীল একটি মিডিয়া। এখানে যখন ঘটনা ঘটে তাৎক্ষণিক পাঠক ক্লিক করে জেনে নিতে পারছে। হুমায়ূন স্যারের মৃত্যুর পর থেকে এই পত্রিকাগুলো তাদের যে খবর প্রকাশ করেছে তা একান্ত কিছু দার্শনিক মতবাদ ছাড়া কিছু নয়। একটি খবরকে তারা যেভাবে লম্বা করেছে তার সর্বোচ্চ ইলাস্টিসিটি নিয়ে আমার প্রশ্ন জাগে। কোন খবর প্রকাশ করা যাবে আর কোনটি যাবে না তা নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নয়। কয়েক শ শব্দ নিয়ে একটি মাইক্রোসফট ওয়াড ডকুমেন্ট পেলেই সেটাই খবর হয়ে যায়!

হুমায়ূন আহমেদ কে দাফন করা নিয়ে যে কাহিনী ঘটেছে মিডিয়ায় নিতান্ত অগ্রহণযোগ্য সংবাদ মৃত্যুর ফসল। শাওনকে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন। আবার কেউ কেউ শাওনকে সমর্থন দিয়ে নূহাশ পল্লীতে দাফন ফিরিস্তি নিয়ে কিস্তি কিস্তি খবর দিয়েছে পাঠকদের। আর এইসব খবর দেখে পাঠকও স্তম্ভিত হয়েছে বেশ। আর অনলাইন পত্রিকাগুলোর সংবাদ নিয়ে পত্রিকা কিংবা টেলিভিশনগুলোও একই রকম সংবাদ পরিবেশন করে। স্বাভাবিকভাবেই পাঠকদের মনে প্রশ্ন এসেছে দেশের মিডিয়াগুলো বড় কোন ঘটনায় এভাবে কেন নিউজ কাভারেজ করে কেন?

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের সময় যেভাবে সংবাদ পরিবেশন করে সমালোচনার ঝড় তুলেছিল ঠিক তেমনি হুমায়ূন স্যারের মৃত্যু নিয়ে দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো উন্মাদনার খেলায় মত্ত ছিল। উদাহরণ হিসেবে একটি কথা বলতে বড় ইচ্ছে করছে আর তা হল একটি অনলাইন পত্রিকা সেই দাফন নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য ওই সময়ের কিছু সংবাদ নিয়ে হুমায়ূন স্যারের মায়ের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করেছে যে ওইগুলো সংবাদ ঠিক ছিল কিনা? শাওন যে হুমায়ূন আহমেদর দাফন নিয়ে সূক্ষ কারচুপি করেছে সেটা প্রকৃত পক্ষে কতটুকু ঠিক? পরে অবশ্য ওই খবরে বলা হল যে অনলাইনটির একটি বিশেষ সংবাদ সঠিক বলে দাবী করছে হুমায়ূন আহমেদের মা’’?। ড. ইউনূস যখন হুমায়ূন আহমেদের পরিবারকে শান্তনা দেয়ার জন্য গিয়েছিল সেই সময়ও সাংবাদিকদের প্রশ্নগুলো ছিল অনৈতিক ও অযৌক্তিক। আমি জানি এটা কেউ মেনে নিতে পারবেন না। তবে নিছক হলেও কথাগুলো সত্য। দেশের বড় কোন ঘটনায় যখন মিডিয়াগুলোর এই ধরনের ভুমিকা তখন একজন দূর্বল সচেতেন পাঠক হিসেবেও আমারও কিছুটা সংশয় জন্মে আসলে সব জায়গায় কি রাজনীতি ঢুকে গিয়েছে? তথ্যসূত্রের উৎস গোপন করে ( নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলে চুইংগামের মতো খবরকে দীর্ঘায়ন করা কেবল পাঠকদের ধোঁকা দেয়া ছাড়া বৈ কিছূ নয়। মিডিয়ায় আলু পটল ব্যবসায়ীরা দখল করলেও সাংবাদিকতা দখল করছে তাদেরই অনুগত সাগরেদরা(সাংবাদিকরা)। ফলে যে লাউ সেই কদু অবস্থা। ব্লগার ও সাংবাদিক আরিফ জেবতিক ভাই কয়েকদিন আগে একটি মতামত বিশ্লেষণ করেছে এইসব নৈতিকতা নিয়ে। আমি তার সাথে একমত পোষণ করে শুধূ এইটুকু বলছি যে আমাদের একটি আশ্রয়স্থল দরকার। যত্রতত্র সাংবাদিকদের কাড পয়দা হওয়ায় মূল ধারার সাংবাদিকরা বাধ্য হচ্ছে এই পেশা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে। তারা পারছে না এইসব অনৈতিকতা সমৃদ্ধ খবর লেখতে। পারছে না পাঠককে বিভ্রান্তিতে ভ্রুকুটি করতে। আশা করি আমরা আমাদের দায়বদ্ধতার জায়গাগুলো থেকে বস্তুনিষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য সংবাদ পরিবেশনে এগিয়ে আসবো

(অগ্রজ ভাইয়ারা যদি আমি কিছু অন্যায় কিংবা বেফাঁস কথা বলে থাকে অনুগ্রহ করে সংশোধন করে দিবেন)