ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

হাদীসে মধুর কথা
আল্লাহ প্রিয় রাসূল, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা)-এর বিভিন্ন হাদীছেও মধুর উল্লেখ দেখা যায়। নিচের মধু সসন্ধীয় কয়েকটি হাদীছ উল্লেখ করা হলো-

শরষে ফুল থেকে মধু আহরোণের দৃশ্য


১. হযরত মা আয়েশা (রা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা) মধু এবং হলুয়া খুবই ভালবাসতেন (বোখারী শরীফ)

২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন কুরআন হলো যে কান আত্মিক রোগের জন্য আরোগ্যকারী এবং মধু হলো যে কোন দৈহিক রোগের জন্য আরোগ্যকারী । (ইবনে মাজাহ)।

৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক মাসে তিন তিন ভোরে মধু চেটে খায় তার কোন বড় বিপদ (মারাত্মক রোগ) হতে পারে না। (ইবনে মাজাহ বায়হাকী)

৪. রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, সর্বোত্তম পানীয় হলো মধু। উহা হৃদপিন্ডকে সবল করে এবং বুকের ঠাণ্ডা দূর করে।

৫. হযরত রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে কেউ আরোগ্য কামনা কর তার ভোরের নাশতা হিসাবে পানি মিশ্রিত মধু পান করা উচিত।

৬. রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, আল্লাহর শপথ, যে ঘরে মধু আছে অবশ্যই ফেরেশতাগণ সে ঘরের অধিবাসীদের মাগফেরাত কামনা করেন। যে মধুপান করে তার যেন পেট লক্ষ ওষুধ স্থির হলো এবং পেট হতে লক্ষ রোগ বের হয়ে গেল। আর যদি সে পেটে মধু থাকা অবস্থায় মারা যায়, তবে তাকে দোযখের আগুন স্পর্শ করবেনা।

৮. রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, মধু কখনো হাতছাড়া করো না। কারণ এর মধ্যে মৃত্যুছাড়া যে কোন রোগের ওষুধ রয়েছে।

৯. একবার এক ব্যক্তি হযরত রাসূলে করীম (সা) এর কাছে আরজ করলেন, আমার ভাই এর পায়খানা হচ্ছে, কি করবো? রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, তাকে মধু খেতে দাও। লোকটি চলে গেলেন এবং তাঁর ভাইকে মধু খেতে দিলেন কিন্তু তাকে পায়খানা আরা বেড়ে গেল। লোকটি পুনরায় হযরতের কাছে এসে আরজ করলেন, হুজুর আমি ভাইকে মধু খাইয়ে দিয়েছি, কিন্তু তাতে পায়খানা আরো বেড়ে গেছে। রাসুলুল্লাহ (সা) আবারও বললেন, যাও তাকে আবারও মধু খেতে দাও। লোকটি চলে গেলেন এবং তাঁর ভাইকে মধু খেতে দিলেন। এভাবে কয়েকবার মধু খাওয়ার পর সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠল। কারণ মধু পেটের জমানো আবর্জনা বের করে দিয়ে পেটকে খালি করে এবং পরিণামে রোগী সুস্থ হয়ে যায়।

উপরোক্ত হাদীছ সমূহ হতেও একথা ভালোভাবোই প্রমাণিত হয় যে, মধু একটি শীর্ষস্থানীয় ওষুধ। “মধুতে মৃত্যু ছাড়া যে কোন রোগের ওষুধ রয়েছে” এ হাদীছটি থেকে বুঝা যায় মধু শুধু একটি উল্লেখ্যযোগ্য ওষুধই নয়, বরং এতে মানবদেহের সকল প্রকার ব্যাধির ওষুধ রয়েছে। শুধু প্রয়োজন এর পরিকল্পিত ব্যবহার।

মধু আহোরণের কারিগর মৌমাছির মৌচাক

একটি হাদীছে মধু পানি মিশ্রিত করে খেত বলা হয়েছে। ঘন মধু অনেক বেশী খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। তাই পানি মিশ্রিত করে খেলে সে ক্ষতির ভয় থাকে কম। মধুর স্বভাব গরম, কাজেই গরম মেজাজের মানুষের জন্য ঘন মধু খাওয়া উচিত নয় বরং পানি মিশ্রিত করে খাওয়া উচিত। পানির সহজাত স্বভাব ঠাণ্ডা, তাই মধুর সাথে পানির মিশালে মধুর গরম স্বভাব কেটে গিয়ে মৃদু স্বভাব সৃষ্টি হয়। আল্লাহ আকাশ হতে যে পানি বর্ষণ করে সেটাই সর্বোত্তম পানি। আল্লাহপাক রহমত হিসাবেই আকাশ থেকে পানি সেটাই সর্বোত্তম পানি। আল্লাহপাক রহমত হিসাবেই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। কাজেই মধুর সাথে বৃষ্টির পানি মিশানোই উত্তম।

চলবে…..