ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

লেখার শুরুতেই গত কয়েকদিনের জাতীয় দৈনিকের কয়েকটি হেডলাইনে দৃষ্টি দেওয়া যাক-

# বাসভাডা নিয়ে বচসা : ইডেন ছাত্রীদের রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর
# চকরিয়ায় বাসভাড়া নিয়ে ছাত্র ও পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ
# ফুলবাড়ীয়ায় বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে
# ছাত্রদের দেড় ঘন্টা সড়ক অবরোধ
# মাগুরায় বাসভাড়া কমানোর দাবিতে ছাত্রদের সড়ক অবরোধ
# প্রবির শিার্থীদের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের হাতাহাতি : দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কসহ কয়েকটি রুটে অঘোষিত বাস ধর্মঘট
# যাত্রী-শ্রমিক মারামারি ছাত্রদের নাজেহাল
# বাসভাড়া কমানোর দাবীতে মানববন্ধন
# বাসভাড়া কমানোর দাবিতে ছাত্রদলের মিছিল, স্মারকলিপি
# গণপরিবহনে ছাত্রদের জন্য ভাড়া অর্ধেক করার দাবি
# চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিার্থীদের অর্ধেক বাসভাড়া কার্যকর করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
# ভাড়া নিয়ে বিবাদ : আজিমপুরে দুটি বাসে আগুন দিল ঢাবি ছাত্ররা

বাসভাড়া নিয়ে এই যে ছাত্র-পরিবহন শ্রমিকদের বিবাদ তা আমরা অনেকেই চলার পথে দেখে থাকি। বিশেষ করে আমরা যারা ঢাকার লোকাল বাসগুলোর যাত্রী তাদের কাছে এটি নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা। শুধু যে বাসভাড়া নিয়েই ছাত্র-পরিবহন শ্রমিকদের বচসা হয় তাই নয়। এছাড়াও আরো অনেক কারণে ছাত্র-পরিবহন শ্রমিক বিবাদ হয়। কখনও কখনও এই বিবাদ শুধু কথা কাটাকাটির মধ্যে না থেকে তা ভাংচুর, রাস্তা অবরোধ, মারামারির পর্যায়ে গড়ায়। ছাত্র-পরিবহন শ্রমিকদের এই ঘটনা নিয়ে, বিশেষ করে ছাত্রদের এমন সব কাণ্ডকারখানা নিয়ে জনৈক ব্লগার লিখেছেন-

“বল্টু ভাইকে পুলিশে ধরেছে? বাস ভাঙো।

ভাড়া বেশি? বাস ভাঙো।

কন্ডাক্টর বেয়াদবি করেছে? বাস ভাঙো।

কদম আলীর মুরগী রাস্তা পার হতে গিয়ে মারা গেছে? অবশ্যই বাস ভাঙো।’’

যারা ভার্সিটিতে পড়ে তারা অবশ্যই মেধাবী ছাত্র। এছাড়া তারা যে অধিকাংশই মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তের সন্তান তা উল্লেখ না করলেও চলে। কারণ ভার্সিটিতে ভর্তি হতে এবং সেখানে লেখাপড়া করা কোনো গরিব ঘরের সন্তানের পে সম্ভব নয়; বিশেষ করে ঢাকাতে (ব্যতিক্রম বাদে)। সুতরাং আমরা ভাবতে পারি ভার্সিটিতে পড়–য়া একজন ছাত্র অন্যান্য সাধারণ যাত্রীদের মতো স্বাভাবিক বাসভাড়া দিতে অবশ্যই সম।

কারণ, শুধু এই বাসভাড়া ছাড়া অন্য কোথায়ও কিন্তু তাদের জন্য কোনো ছাড় নেই। যেমন- ভার্সিটি এরিয়ার মধ্যেই অনেক শিল্পোপকরণের বিক্রেতা রয়েছে; তারা কিন্তু ছাত্র বলে তাদের নিকট থেকে কোনো পণ্যের দাম কম নেয় না। ছাত্রদের পোষাক-পরিচ্ছদ কিন্তু ছাত্র বলে নরমাল দামের ক্রয় করা হয় না। ছাত্র বলে তাদের মোবাইল খরচ কিন্তু মোবাইল অপারেটররা কম রেট রাখেন না।

আমার জানা মতে- আমার পাশের বাড়ির প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক এক পিতার এসএসসি ও এইচএসসি-তে এ+ পাওয়া মেধাবী সন্তান ২০১০ সালে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। তাকে প্রতি মাসে শুরু থেকেই ৬ হাজার টাকা করে তার পিতা যোগান দিত। ইদানিং তাকে বাড়তি আরো ১ হাজার টাকা করে তার পিতা দিয়ে থাকে। মাঝে মাঝে আমার নিকটও টাকা পাঠায় বা আমি এখান থেকে দিলে আমার বাড়িতে সেখান থেকে দিয়ে দেয়। তো এই ছাত্রটির সাথেই একদিন বিকেলে মিরপুর ১২ নম্বর থেকে গুলিস্তান আসার পথে সে ছাত্র বলে হাফ ভাড়া আর আমি অছাত্র বলে পূর্র্ণ ভাড়া দিলাম। আমি তাকে বললাম- কবির (ছদ্মনাম) এখনতো তোমার ভার্সিটি যাওয়ার সময় নয়, তাহলে তুমি কিসের ভিত্তিতে হাফ ভাড়া দিলে? তার উত্তর হলো- সবাই এভাবে দেয় তাই আমিও দিলাম। এই ছাত্রটিই যখন স্টেডিয়াম মার্কেট থেকে জুতো কিনলো তখন কিন্তু তার নিকট থেকে ছাত্র বলে কোনো কম নেওয়া হয়নি বা সে নিজেকে ছাত্র উল্লেখ করে দাম কম দেওয়ার চেষ্টা করেনি। তাহলে কেন, সে বাসভাড়া কম দেবে? এদের এই চারিত্রিক দৈন্যতা দেখে অনেকেই বলে, “লাখ টাকা দিয়া ভার্সিটিতে পড়ে আর বাসভাড়া দিতে পারে না।”

অনেক সময় দেখা যায় ছাত্রদের কাছ থেকে কন্ডাক্টররা অর্ধেক ভাড়া নেয়। এটা স্বাভাবিকভাবে বেশ ভালই মনে হয়। কিন্তু কখনও কখনও দেখা যায় কন্ডাক্টর ভাড়া চাইলে তারা এই হাফ ভাড়া দিতেও রাজি নয়। আমি ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত মাঝে মাঝেই যাতায়াত করি। এখানে কবি নজরুল ও জগন্নাথের ছাত্রদের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের বচসা নিত্যনৈমত্তিক। দেখা যায় ৪/৫ জন ছাত্র গাড়িতে উঠে হল্লা করতে থাকে। কিন্তু যখন তাদের কাছে ভাড়া চাওয়া হয় তখন দেখা যায় ৫/১০ টাকা দিয়ে বলে ৫ জন বা ৭ জন। যেখানে অন্য যাত্রীরা জনপ্রতি ৫টাকা করে ভাড়া দেয় সেখানে তাদের জনপ্রতি ২ টাকা দেওয়ায় যেন অনেক কষ্টের। এমনও দেখা যায় কেউ কেউ বলে যে, যা ব্যাটা আজ ভাড়া দিমুনা। যেন মগের মুল্লুক আর কী!

গাবতলা-গুলিস্তান রোডে ঢাকা কলেজ, ইডেন, ঢাকা ভার্সিটির ছেলেরাই মোড়ল। ওরা ইচ্ছে করলেই পুরো রাজপথ বন্ধ করে দিতে পারে। অনেক কলেজ ইউনিভার্সিটিতেই ছাত্ররা তাদের ছাত্রত্ব দেখায় ভাঙচুরের মাধ্যমে। এমনকি তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবী নিয়ে আন্দোলনের সময় দেখা যায় ভাঙচুর করে কোটি কোটি টাকার তি করে এক শ্রেণীর ছাত্র। কিন্তু কেন? তারা কি আদর্শ হতে পারে না? যাদেরকে দেশের ভবিষ্যত গণ্য করা হয় তারা কেন এমন হবে? এটাই কি হওয়া উচিত।