ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

মানুষ মাত্রই সফল হতে চান, সুখী হতে চান। কিন্তু পৃথিবীর কয়জন মানুষ সফল হতে পারেন? অনেক মানুষের অনেক কিছু থেকেও সফল হতে পারেন না। আবার অনেকে নিঃস্ব থেকেও সফল হন। কিন্তু কীভাবে? এরকম অনেক বিশ্ব বিখ্যাত সফল ব্যক্তির সাফল্যের রহস্য পর্যালোচনা করে কিছু কৌশল নিয়েই আমাদের ধারাবাহিক এ নতুন বিভাগ ‘সফল হতে হলে’ আপনি যদি নিজেকে একজন সফল ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তাহলে নিয়মিত পড়ুন এ বিভাগটি। সেই সঙ্গে রপ্ত করুন এখানে দেয়া কৌশলগুলো।

কৌশল-এক
কখনও ওপরওয়ালার ওপর কেরামতি দেখাতে যাবেন না : আপনার ওপরে যাঁরা আছেন তাঁদের আপনার থেকে যোগ্যতাসম্পন্ন ভাবতে দিন। তাঁদেরকে তুষ্ট ও প্রভাবিত করার জন্য নিজের প্রতিভা এমন কিছু বেশি জাহির করতে যাবেন না; গেলে উল্টো ফল হবে-তাঁদের মনে ভয় এবং নিরাপত্তাবোধহীনতা জাগবে। ওপরওয়ালারা যত প্রতিভাবান তার থেকে বেশি প্রতিভাবান ভাবতে দিন এবং তাতে আপনার মতা বৃদ্ধি পাবে। প্রত্যেকে নিরাপত্তাবোধহীনতায় ভোগে। যখন আপনি দুনিয়ায় নিজেকে মেলে ধরবেন এবং আপনার প্রতিভার প্রকাশ করবেন তখন অন্যদের মধ্যে সবরকম বিদ্বেষ, ঈর্ষা ও অন্যরকম নিরাপত্তাবোধহীনতার আবির্ভাব ঘটবে। এটা হওয়া স্বাভাবিক। অন্যেরা কে কী ভাববে সেটা ভেবে সারাটা জীবন কাটাতে পারেন না। কিন্তু যাঁরা আপনার ওপরে তাঁদের ব্যাপারে আপনাকে অন্য পদ্ধতি নিতেই হবে। ওপরওয়ালাদের ওপরে কেরামতি দেখানো সব থেকে বড়ো ভুল। এটা ভাবলে বোকামি করা হবে যে, ষোড়শ লুই এবং মেডেসিসদের কালের থেকে জীবন একেবারে পাল্টে গেছে। জীবনে যাঁরা প্রতিষ্ঠিত হয় তাঁরা রাজা এবং রানির মতো। তাঁরা তাঁদের অবস্থানে নিরাপদ এবং তাঁদের চারপাশে যাঁরা আছেন তাঁদের থেকে জ্ঞান, বুদ্ধি এবং আকর্ষণ শক্তিতে যোগ্যতর। এটা অত্যন্ত মারাÍক হলেও খুব সাধারণ ভুল ভাবনা যে, আপনি আপনার মেধা ও প্রতিভার প্রকাশ ও বড়াই করে ওপরওয়ালাদের জয় করে নিচ্ছেন। তিনি আপনার তারিফ করার ভান করবেন, কিন্তু প্রথম সুযোগেই আপনার জায়গায় কম বুদ্ধিমান, কম আকর্ষণীয়, কম আশঙ্কাজনক কাউকে নিযুক্ত করবেন। এই আইনের দুটি ব্যাপার আপনাকে অবশ্যই বুঝতে হবে। প্রথমত আপনি আপনার মতো থেকেই অসাবধানতাবশত আপনার ওপরওয়ালাকে ছাপিয়ে যেতে পারেন। কোনো কোনো ওপরওয়ালা অন্যদের থেকে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন; তাঁদের নিরাপত্তাবোধহীনতা অস্বাভাবিক। আপনি আপনার আকর্ষণী শক্তি ও লাবণ্য দ্বারা স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের ছাপিয়ে যেতে পারেন। যদি আপনি আকর্ষণীয় হওয়া থেকে বিরত হতে না পারেন তবে এই আত্মম্ভরী দৈত্যদের এড়িয়ে চলুন অথবা তাঁদের সামনে আপনার ভালো গুণাবলিকে চাপা রাখুন। দ্বিতীয়ত কখনও মনে করবেন না যে, ওপরওয়ালা আপনাকে ভালোবাসেন বলে আপনি যা খুশি তাই করতে পারেন। নিজেদের অবস্থানকে নিশ্চিত ধরে নিয়ে এত বেশি মানুষ ওপরওয়ালাদের ছাপিয়ে যাবার প্রয়াস করে প্রিয় থেকে অপ্রিয় হয়েছেন যে, তাঁদের নিয়ে একটা গোটা বই লিখে ফেলা যায়। ওপরওয়ালাকে ছাপিয়ে যাওয়ার বিপদ জানা থাকলে আপনি এই আইনকে আপনার সুবিধার্থে ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমত আপনি অবশ্যই আপনার ওপরওয়ালার তোষামোদ করে তাঁকে গর্বিত করুন। খোলাখুলি তোষামোদ কাজ দেয়, কিন্তু এর সীমাবদ্ধতা আছে। এটা একদম প্রকাশ্য এবং বোধগম্য। ফলে অন্যদের খারাপ লাগতেই পারে। সতর্ক তোষামোদ অনেক বেশি শক্তিশালী। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি আপনার ওপরওয়ালার থেকে বেশি বুদ্ধিমান হোন, তাঁর সামনে উল্টোটার ভান করুন। তাঁকে ভাবতে দিন যে, তিনি আপনার থেকে বেশি বুদ্ধিমান। সরল হওয়ার অভিনয় করুন। তাঁকে ভাবতে দিন যে, আপনার তাঁর অভিজ্ঞতার দরকার আছে। এমন ছোটোখাটো ভুল করুন, যার জন্য আপনার কোনো দীর্ঘমেয়াদি তি হবে না, কিন্তু তাঁর সাহায্য চাওয়ার সুযোগ করে দেবে। ওপরওয়ালারা এরকম অনুরোধের কদর করে। যে ওপরওয়ালা আপনার ওপর তাঁর অভিজ্ঞতার দান না বর্ষণ করতে পারে তিনি আপনার প্রতি বরং বিদ্বেষভাব এবং খারাপ ভাবনা পোষণ করবেন। যদি আপনার ধারণা অধিকতর সৃষ্টিমূলক হয়, সেটা যতটা প্রকাশ্যে সম্ভব ওপরওয়ালার বলে প্রচার করুন। এটা পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিন যে, আপনার পরামর্শ তাঁর পরামর্শের প্রতিধ্বনি মাত্র। আপনি যদি স্বভাবগতভাবে আপনার ওপরওয়ালার থেকে বেশি মিশুক এবং উদার হন, খেয়াল রাখুন যাতে সেই মেঘ না হয়ে পড়েন, যা তাঁর অন্যদের কাছে তাঁর উজ্জ্বলতা পৌঁছুতে বাধা দেয়। তিনি যেন নিজেকে সেই সূর্যের মতো ভাবতে পারেন, যে মতা ও উজ্জ্বলতার উৎস এবং মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু; যার চারিদিকে আজ সকলে ঘুরছে। এই সকল ক্ষেত্র, আপনার মতাকে ছদ্মবেশ পরানো দুর্বলতা নয়; যদি তা শেষ পর্যন্ত আপনাকে মতায় অধিষ্ঠিত করে। অন্যদের আপনাকে ছাপিয়ে যেতে দিয়ে আপনি তাঁদের নিরাপত্তাবোধহীনতার শিকার না হয়ে, বরং নিয়ন্ত্রণ করছেন। যেদিন আপনি আপনার নীচু অবস্থান থেকে ওপরে ওঠার সিদ্ধান্ত নেবেন, সেদিন এগুলি আপনার খুব ভালো কাজে আসবে। যদি আপনি অন্যদের চোখেও আপনার ওপরওয়ালাকে ছাপিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন, তাহলে আপনার ওপর ঈশ্বরের আশীর্বাদ আছে এবং খুব শীঘ্রই আপনার পদোন্নতি হবে।

উপমা : আকাশে অনেক তারা। কোনো এক সময়ে একটিমাত্র সূর্য থাকতে পারে। কখনও সূর্যালোককে অস্পষ্ট করতে বা সূর্যের উজ্জ্বলতার প্রতিদ্বন্দ¡ী হতে যাবেন না। বরং আকাশে ফিকে হয়ে যান এবং কীসে ওপরওয়ালার তারকাভাব বৃদ্ধি পাবে তার উপায় বের করুন।

মহাজন বানী: ওপরওয়ালাকে ছাপিয়ে যাওয়া বর্জন করুন। সব শ্রেষ্ঠতাই বীতৃষ্ণাজনক। কিন্তু শাসকের ওপর শাসিতের শ্রেষ্ঠতা শুধু বোকামিই নয়, মারাÍকও। আকাশের তারারা আমাদের এই শিক্ষায় দেয়। তারারা সূর্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং সূর্যেরই মতো উজ্জ্বল হতে পারে। কিন্তু কখনও সূর্যের সাথে আবির্ভূত হয় না। (বাল্টাসার গ্রেসিয়ান ১৬০১-১৬৫৮) চলবে………..