ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

হঠাৎ করেই আবার পরিকল্পিত ভাবে উত্তপ্ত করে তোলা হচ্ছে দেশকে। গতকাল ঢাকা সহ সারা দেশে যে বর্বর ও চোরাগোপ্তা হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা নিঃসন্দেহে কোন অপশক্তির কাজ। প্রশ্ন হচ্ছে কোন অপশক্তি এমন চোরাগোপ্তা এবং বর্বর হামলায় দেশবাসীকে বিপর্যস্ত করতে পারে। আমি বলব এর প্রশ্নের উত্তর এ দেশের রজনৈতিক ইতিহাস ঘাটলে কারো অজানা থাকার কথা না। এর আগেও দেখা গেছে রাজপথে জামায়েত ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির আর বিএনপি এর প্রতিক্রিয়াশীল অংশ দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশের মানুষকেই সবচেয়ে বেশী বলির পাঠা বানিয়েছে। রাজাকার, আলাবদর আর যুদ্ধপরাধীর নিশ্চিত বিচার যখন দেশবাসীর সরাসরি সমর্থন এবং দাবী হিসেবে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে তখন এ তান্ডব কেবল এই অন্ধকারের শক্তিকে বিচারের হাত থেকে রক্ষা করার অপচেষ্টা আর কি হতে পারে? অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় মাত্র ২/৩দিন আগে বিএনপি’র বিজয় দিবসের মহাসমাবেশে তাদের দলীয় সহ-ড়সভাপতি নোমান সাহেব বুক ফুলিয়ে বলেছিলেন “বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার দল।” আমরাও চাই একথা বিশ্বাস করতে তারা যেন যে রাজনীতি করুক স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধকে তাদের দলীয় রাজনীতির স্বার্থ কলুসিত না করে এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সপক্ষের প্রতিটি মানুষের কাম্য। কিন্তু তার দুদিন পরেই ঘটে যাওয়া যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য এ তান্ডব কি নোমান সাহেবের কথার প্রতিফলন ঘটায়, সচেতন দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন রাখা ছাড়া আর কি বা মন্তব্য করা যেতে পারে এ বিষয়ে।

বিজয়ের এই মাসেই এ দেশের কুখ্যাত রাজাকার গোলঅম আযমকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নিয়েছে যুদ্ধপরাধ ক্ষষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল। বিজয়ের মাস যেমন আমাদের ৪০ বছর আগের বিজয়ের আনন্দকে উজ্জীবীত করে একই সাথে তা আমাদের একাত্তরের তিরিশ লক্ষ শহীদের প্রাণ উৎসর্গের বেদানাকে স্মরণ করায়। আমাদের হৃদয় ও মস্তিষ্ক বার বার দুঃখ ভরাক্রান্ত হয় ১৪ই ডিসেম্বরন এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বর্বর ভাবে হত্যার নির্মম ঘটনার স্মরণে। এই হত্যাকান্ডে যে এই সব দেশীয় দালাল, রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের প্রত্যক্ষ মদদ ছিল এ নিয়ে ন্যানো নিউজে ১৪ই ডিসেম্বরে একটি লেখা প্রকাশ হয়েছে ন্যানো নিউজে। সুতরাং এ মাসে এই দালালদের বিচারের উদ্যোগ নেয়ার চেয়ে দেশীয় গর্ব আর বড় কিছুই হতে পারে না। কিন্তু এই ঘটনায় একমাত্র যাদের গাত্রদাহ ঘটতে পারে তাদের আমরা খালিচোখেই চিনতে পারি। বিএনপি এর মতো মুক্তিযুদ্ধোদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল(তাদের দাবী অনুসারে!!) যদি এই সব যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে রাজপথে নামে তাদের গলায় বেধে নিয়ে দেশ জুড়ে মানুষের কাছে নিজেদের নির্বাচিত করার দাবী করে বেড়ায় তখন আমরা যারা রাজনীতি থেকে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টিকে মুক্ত করে একে পৃথক ঐক্যমতে মর্যাদা দিতে চেয়ে সচেষ্ট তাদের পরিষ্কার হয়ে যাই দলটি কি আসলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের না’কি বিপক্ষের দল। এর বাইরের পুরোণো কাসুন্দি আর পুরোনো বিতর্ক না হয় নাই বা ঘাটলাম।

কালকের যে বর্বরতা দেশ জুড়ে দেখা গিয়েছে, যে চোরাগোপ্তা হামলার চরিত্র লক্ষ্য করা গেছে এ তো এক সুপরিকল্পিত জাতীয় আক্রমন বলে ধরে নেয়া যেতে পারে। পত্রিকার পাতায় ছবিতে যে লোকটি বাসের জানালা দিয়ে আধপোড়া পা বের করে, পৃড়ে এবং মরে ঝুলে থাকল সে কি আমাদের দেশের জনগণের চরম নিরাপত্তাহীনতা আর এই সব দু®কৃতিকারীদের হাতে নিজেদের জীবন জিম্মি থাকার প্রমাণ দিচ্ছে না। রাজনৈতিক দলের কর্মসূচী থাকতে পারে। বিএনপি জামাত কি দেশে প্রকাশ্য সমাবেশ কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচী করে নাই, তারা তো গোপন কিংবা নিষিদ্ধ দল নয়। তবে কোন দুরভিসন্ধি নিয়ে তারা বাস ভর্তি লোক কোন ব্যানার বা শ্লোগান ছাড়াই মতিঝিলে নেমে হঠাৎ বোমাবাজি শুরু করে? কেন দেশের বড় শহরগুলোতে হঠাৎ বাসে আগুন কিংবা ভাঙচুর করা শুরু হয়ে গেল। এগুলোকি কোন অপশক্তির কমান্ডো কায়দায় জঙ্গী হামলার চাইতে পৃথক কোন বিষয় বলে গণ্য হতে পারে। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ করতেই পারত। সরকারী দল বাংলাদেশের এতিহ্য অনুসারে তাতে বাঁধা দিতে পারে, বিএনপি তার আমলে অন্যান্য দলের এই রাজনৈতিক কর্মসূচী পালনের ব্যাপারটি নিরাপদ করতে পেরেছিল। তারাও কি পুলিশ দিয়ে আওয়ামী লিগের নেতা কর্মীদের পিটিয়ে রাস্তা থেকে তুলে দেয় নাই। তাহলে আজ আওয়ামী লীগ যা করছে তাতে তো তাদের গাত্রদাহ হবার কোন কারণ নেই। বরং যদি সত্যিই বি এনপির পক্ষে জনসমর্থন থাকে তবে তারা চোরাগোপ্তা হামলা না করে বরং জনগণকে নিয়েই সরকারের এ সব অগণতান্ত্রিক আন্দোলনকে মোকাবিলঅ করতে পারত। আন্দোলন করতে গেলে পুলিশী বাঁধা মারপিট এসব আসতেই পারে আমাদের দেশে কি কোন আন্দোলনই অহিংস হয়েছে কখনো? এরশাদের মতো জেকে বসা ৯ বছরের স্বৈরাচারী শোষককে হঠাতে কি পুলিশী অত্যাচার কাইকে কম সহ্য করতে হয়েছিল। তার পরেও কি এদেশের মানষকে এরশাদকে গদিচ্যুত করে নাই। তাহলে সরকার যদি ব্যার্থ হয় তবে তার জন্য জনগণ রয়েছে। জনগণের বিরুব্ধে গিয়ে আজ পর্যন্ত কোন শাসক কিংবা শোষক টেকে নাই আওয়ামী লীগ কোন ছাড়। তাহলে তাদের গদিচ্যুত করতে চোরাগোপ্তা হামলা করার কি প্রয়োজন হতে পারে? আবার তাদের দাবী ক্ষমতাসীনরাই তাদের উপর হামলা করেছে চোরাগোপ্তা ভাবে। সরকার কেন যেচে দেশে মানুষের মৃত্যুর দায় দায়িত্ব নিতে যাবে সেটা তো কোনভাবেই বোধগম্য হয় না। যখন যে সরকারে থাকে কোন মৃত্যু ঘটলে সেটা তারই তো অযোগ্যতার দায়ভার বহন করতে হবে। কেননা আইনশৃংখলার অবনতি তো তার স্বার্থেরই বিরেধী। তাহলে বিএনপি এর এই যুক্তি ধোপে টেকার কোন প্রশ্নই আসে না। তবে এ কিরকম জনগণের পক্ষের দল যারা সাধারণ জনতাকে বাঁচাতে তাদেরই বেগুনপোড়া করে বাসের জানলায় ঝুলিয়ে রাখে। এর কোন উত্তর কি পাওয়া যাবে। যাবে না।

মাত্র কদিন আগেই এই একই রকম তান্ডব চালিয়েছিল জামায়েত ইসলামী আর ইসলামী ছাত্র শিবির ঢাকাতে, কেবল যুদ্ধাপরাধীদের বাচানোর দাবী নিয়ে, এর আগে এদেশে যে সব বোমা হামলা ঘটেছে, সাধারণ মানুষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর সঙ্গে এই চোরাগোপ্তা হামলার কোন পার্থক্যই নেই। এর সাথে বিএনপি এর সংশ্রবও খুব সহজেই বোঝা যায়। যারা সোজা পথে ক্ষমতায় আসতে অভ্যস্ত নয় তারা কখনোই গণতান্ত্রিক পথে অগ্রসর হতে পারে না। আর পারে না বলেই বিএনপি এর আগেও আওয়ামী লীগের শাসন আমলে আন্দোলনে সুবিধা করতে না পেরে দেখা গিয়েছিল এই ধরণের চোরাগোপ্তা হামলার পথ বেছে নেয়। নিশ্চয় সবার মনে আছে সেই বিএনপি এর হরতাল কর্মসূচীর আগের দিন শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে গানপাউডার দিয়ে আগুন লাগিয়ে ৯ জন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছিল বিএনপি। আর তা আবার তা আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপানোর প্রচেষ্টাও ছিল লক্ষ্যনীয়। তখনও এই প্রশ্নই ছিল স্বাভাবিক, সরকারে বসে থাকা কারো কি প্রয়োজন শুধু শুধু সাধারণ মানুষ মেরে নিজের গদি টলানোর।
সবশেষে বলি দেশের মানুষকে এখন আর তৃণভোজী প্রাণী সম্প্রদায়ের ভেবে লাভ হবে না। মানুষ সচেতন, নতুন প্রজন্ম এসেছ তারা সচেতন অন্ততঃ যুক্তিবাদী তাারা, বিএনপির ভারত বিরোধীতার ধুঁয়ায় মশা তাড়ানো গেলেও যেতে পারে তবে মানুষের যুক্তি নির্ভর চিন্তাকে পাল্টে দেয়া যাবে না। যাবে না বলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতননার সপক্ষে আজ আমরা অনেক অনেক মানুষকে পাশে পাই, সবচেয়ে বড় পাশে পাই নতুন এবং তরুণ মুক্তিযুদ্ধের সন্তান কিংবা মুক্তিযুদ্ধ না দেখা প্রজন্মকে। এই বর্বরতার অসংখ্য স্বাক্সী পাক হানাদারদের আর রাজাকারদের হাতে দেখে দেখে তারা সত্য মিথ্যা পরিষ্কারভাবে বুঝতে শিখেছে। আমরা তাই সহজে এখন মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের ষড়যন্ত্র হিসেবে বুঝতে রাজী নই মোটেই। জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধ প্রীতির নমুনা কিংবা প্রমাণ খুব কম আমরা দেখিনি, কম দেখিনি তারেক জিয়ার মুক্তিযুদ্ধ প্রীতি তাই নিজেদের কেবল মুক্তিযুদ্ধের সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে জনগণকে অন্ধকারে রাখা যাবে না। লাভও বিশেষ হবে না। এখনও সময় আছে রাজাকারদের হাত থেকে নিজেদের ছাগিয়ে এনে মুক্তিদযুদ্ধের সপক্ষে সরকারের সত্যিকার অকাজগুলোর বিরুদ্ধে মাঠে নামুন। জনগণের সমর্থনে কমতি হবে না। তখন আর গণআন্দোলন করতে চোরের মতো মাইক ব্যানার না লাগিয়ে রাজধানীতে লোক জড় করবার দরকার হবে না। মানুষের ঢলই আপনাদের সব বাঁধা দুর করে দেবে। ক্ষমতায় আসার পথ তো সহজেই খুলে যাবে। আর যে পথে যুদ্ধাপরাধীদের বাচানোর জন্য দেশের মাটিতে তান্ডব চালিলে দেশের মানুষকেই খেসারত দেয়াচ্ছে বিএনপি আর জামাত তাতে আগামী ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এই তিরিশটা সীট জিতে আসাও বোধহয় আর তাদের সম্ভব হবে না। অন্ততঃ বাংলাদেশের মানুষ আর যাই করুক মুক্তিযুদ্ধের পুনরুত্থিত চেতনাকে নতুন করে জলাঞ্জলি দেবে না এটুকু বিশ্বাস করাটা বোধহয় খুব অলীক নয় এখনকার বাংলাদেশে।

এই পোষ্টটি ন্যানোনিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কমে পড়ার জন্য ক্লিক করুন

আপনার এবং আপনার পাশের বাড়িরর খবরের জন্য ভিজিট করুন……….
www.nanonews24.com