ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বিশাল ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রমাণ করেছেন, সন্ত্রাস নয়, জনগণই ক্ষমতার উৎস। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট বিপ্লব ঘটেছে আর তা হয়েছে শান্তির পক্ষে ন্যায় ও সততার পক্ষে উন্নয়নের পক্ষে ভোটবিপ্লব হয়েছে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, পেশীশক্তি, কালো টাকার বিরুদ্ধে। ভোটবিপ্লব হয়েছে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিপক্ষে এই নির্বাচনে আইভীর পক্ষে ছিল নারায়ণগঞ্জ তথা সারা বাংলাদেশের জনসাধারণ, বুদ্ধিজীবী, শিার্থী, মিডিয়াকর্মীরা আর শামীম ওসমানের পক্ষে ছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা, স্থানীয় ক্যাডাররা। শেষ পর্যন্ত বিজয় হয়েছে জনতার। এই জন্য আমরা অভিনন্দন জানাই নারায়ণগঞ্জের আপামর জনসাধারণকে।

এই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নারায়ণগঞ্জে হলেও এই নির্বাচনের প্রতি চোখ ছিল সারাদেশের মানুষের আর দেশের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ছিল তাদের স্ব স্ব প জোরদার করার লক্ষ্যে। দেশের দুই প্রধান দলের স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য বলি হতে হয়েছে শামীম ওসমান ও তৈমুর আলম খন্দকারকে। আসলে দুটি রাজনৈতিক দলের কোনটাই চায়নি তাদের সমর্থিত প্রার্থী জিতুক কারণ তাহলে তাদের স্বার্থ হাসিল হত না। আওয়ামী লীগ চেয়েছিল এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ করতে যে এই সরকারের অধীনে, সেনা মোতায়েন ছাড়া ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্্‌ভব এবং তাদের প্রস্তাবিত ইভিএম সফলভাবে প্রয়োগ হয়েছে যা তাদের সমর্থিত শামীম ওসমান জিতলে প্রমাণ করা সম্্‌ভব হত না। এজন্য আমার মনে হয় আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকেরা হয়ত আইভীর ভালো অবস্থান জেনেও ওসমানকে সমর্থন দেয়। সমর্থন দিলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের এই নির্বাচন নিয়ে বেশি একটা কথা বলতে দেখা যায়নি। মাঠে নেমে ওসমানকে সমর্থন দেখা যায়নি যার ফলাফল ওসমানের পরাজয়। এবং আওয়ামী লীগের এই উদ্দেশ্য আপাততভাবে সফল হয়েছে এবং তারা সংবাদ সম্মেলন করে ঠিকই তাদের অবস্থান যে সঠিক সেটা বলতে পারছে। শামীম ওসমানও ফলাফল মেনে নিয়ে আইভীকে সব ধরণের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

পক্ষান্তরে, দেশের প্রধান বিরোধী দল চেয়েছিল এই নির্বাচনকে ইস্যু করে তাদের সরকার বিরোধী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে আর এজন্য তারা বলির পাঠা বানিয়েছে তৈমুর আলমকে। যদি তৈমুর আলম নির্বাচনে জিতে যেতেন তাহলে বিএনপি’র বলার কিছু থাকত না। সেনা মোতায়েন না করার অজুহাত ধরে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৈমুর আলমের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীতা থেকৈ সরে দাঁড়ানো ছিল অনেকটা আত্মঘাতী। দলতে বাঁচাতে গিয়ে নিজে অপমানিত হয়েছেন এবং নারায়ণগঞ্জের ভোটারদের বঞ্চিত করেছেন। তিনি দলের কথায় নির্বাচন কমিশনকে বেকায়দায় ফেলতে চেয়েছিলেন কিন্তু সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচনের ফলে নির্বাচন কমিশন তার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে সম হয়েছে। অন্যদিকে তৈমুর আলম খন্দকারের ভাবমূর্তি এখন শূন্যের কোটায়। সংবাদ সম্মেলনে তার কান্না এবং বিএনপির হাইকমান্ডের নেয়া সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে নিজেকে কোরবাণী দিয়েছেন বলে ঘোষণা দেন। তিনি সেনা মোতায়েন ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়ে ফলাফল মেনে নেওয়ায় বিএনপি’র আসল উদ্দেশ্যকে নিরর্থক করে দিয়েছেন। সেই সাথে বিএনপির হাইকমান্ড প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন। দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য কাউকে যোগ্য রাজনীতিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে না। তিনি তাই প্রমাণ করলেন।

তবে যাই হোক, শামীম ওসমান ও তৈমুর আলম খন্দকারের নির্বাচনের ফলাফলকে মেনে নেয়া এবং নতুন মেয়রকে স্বাগত জানানো এবং তাকে সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া আমাদের দেশের রাজনীতির একটি পজিটিভ দিক প্রকাশ করে।