ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

গত ১১ জুলাই মিরসরাই সদর থেকে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে আবুতোরাব-বড়তাকিয়া সড়কের পশ্চিম সৈদালী এলাকায় শিক্ষার্থী বহনকারী একটি ট্রাক খাদে পড়ে যায়। এতে ৪২ জন ছাত্রসহ ৪৪ জন নিহত হয়।

দুর্ঘটনার রাতে মিরসরাইয়ের মায়ানী ইউপি চেয়ারম্যান কবির নিজামী বাদী হয়ে ট্রাকচালক মফিজকে আসামি করে মিরসরাই থানায় মামলা করেন। এর চার মাস ২৯ দিন পর গতকাল মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে মফিজকে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০৪ খ ও ৩৩৮ ক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। প্রথম অপরাধ তথা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর জন্য মফিজের তিন বছর কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই আদেশে দ্বিতীয় অপরাধ তথা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে গুরুতর জখম করার জন্য আরও দুই বছর কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয় মফিজকে।

এতগুলো শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় এত কম সাজা স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের দেশে বিদ্যমান মোটরযান আইনের প্রতি আঙ্গুল তুলতে বাধ্য করেছে।ড্রইভারের অসতক’তা,অবহেলা এবং অদক্ষতার কারনে এতগুলো প্রান অকালে ঝরে পড়েছে,ফোটার আগেই কলিগুলো যেন হারিয়ে গেছে।তাদের মা বাবার তাদেরকে নিয়ে কত আশা ভরসা,স্বপ্ন ছিল।এতগুলো স্বপ্নভঙ্গের সাজা মাত্র পাঁচ বছরের জেল !একজন অভিভাবক অথবা একজন হৃদয়বান নাগরিক হিসেবে এই চরম সত্যিটা মেনে নেওয়া অনেক বেশি কষ্টকর।আর কষ্টকর এই রায় আমাদের মেনে নিতে হচ্ছে শুধু মাত্র আমাদের দেশে প্রচলিত দুব’ল মোটরযান আইনের সীমাবদ্ধতার কারনে।

আর এই রায়ের ফলে চালকরা সচেতন হওয়া দুরে থাক তাদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে না চলার প্রবনতা আর ও বেড়ে যাবে।এই রায়ে যদি চালকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হত তাহলে অন্যান্য চালকেরা সাবধান হত।মোটরযান আইনের সংস্কার না হলে সড়ক দুঘ’টনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে।অনেক বড় বড় দুঘ’টনা ঘটিয়ে আসামীরা সহজেই পার পেয়ে যাবে এতে।
আমাদের চোখের সামনেই প্রাণ দিয়ে মিশুক মনির,তারেক মাসুদের মত ব্যক্তিত্বরা দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন আমাদের দেশের সড়ক দুঘ’টনার ভয়াবহতা।আর এই ভয়াবহতা প্রকট আকার ধারন করার পেছনে অনেকাংশে দায়ী আমাদের দেশের আইনের সীমাবদ্ধতা।এসব ভয়াবহতার কই কোন প্রতিকার নেই? আর কত আমরা সহ্য করব?

এসব কিছুর সমাধান কিছুটা হলে ও সম্ভব সঠিক,বাস্তবসম্মত এবং কঠোর আইন প্রনোয়নের মাধ্যমে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন নাগরিক হিসেবে দেশের আইনপ্রনেতাদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি তারা যেন দেশে বিদ্যমান আইনের সংশোধনী এনে সবো’চ্ছ সাজার মেয়াদ আর ও বাড়ানোর ব্যবস্থা করেন, সড়ক দুঘ’টনা রোধে কঠোর আইনপ্রনোয়ন করেন যাতে বড় বড় দুঘ’টনার ক্ষেত্রে চালকদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করা যায় যা সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে।