ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আগে টেলিভিশনে দেখতাম জাতিসংঘে অধিবেশন চলাকালীন সময়ে হাজার হাজার মানুষ বাহিরে বিক্ষোভ করছে আর বিক্ষোভের ইস্যুগুলো ছিল হয়ত ফিলিস্তিনিদের উপর ইযরায়েলীদের নির্যাতন, ইরাক-আফগানিস্তানে সেনা অভিযানের বিরোধিতা অথবা যে কোন যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ যেগুলোর স্লোগান ছিল “আমরা যুদ্ধ চাইনা শান্তি চাই“ এরকম।আর ও দেখা যেত যুদ্ধ বিদ্বস্ত, দুর্ভিক্ষে নিঃস হয়ে যাওয়া মানুষের দাবি আদায়ের আন্দোলন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও যেন এসব ব্যাপারে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।প্রায় এখন শুনা যায় আওয়ামী লীগ সমথর্করা বি এন পির কোন কর্মসূচীর বিপক্ষে, বি এন পির সমথর্করা আওয়ামী লীগের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে।প্রশ্ন হচ্ছে এসব আন্দোলন অথবা বিক্ষোভের পিছনে জাতীয় স্বার্থ’ কতটুকু কাজ করছে নাকি শুধু দলীয় অথবা ব্যক্তিগত স্বাথ জড়িয়ে আছে।যেখানে ইতিপূর্বে’ সংঘটিত প্রায় সকল আন্দোলনে জাতীয় স্বার্থ’ জড়িত ছিল। শুধু এই মাচ’ মাসেই জাতিসংঘের সামনে কতগুলো বিক্ষোভ হবে একটু নিচে দেখুন (বিডিনিউজ থেকে পাওয়া তথ্য):

২- মার্চ :- ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার ষড়যন্ত্র রোখার আহ্বান জানিয়ে শুক্রবার বেলা ১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মানববন্ধন।
৪- মার্চ :– চট্টগ্রামে মন্দির ভাংচুর ও হিন্দুদের বাড়িঘর লুটপাটের প্রতিবাদে রোববার বেলা ২টায় বিক্ষোভ করবে যুক্তরাষ্ট্রস্থ বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
৯- মার্চ :- দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দেশে মামলা-হামলা-নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ।
১১- মার্চ:- যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘নর্থ আমেরিকা আওয়ামী লীগ’ মানববন্ধন।
১৮- মার্চ:- নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ ও যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করার দাবিতে বিক্ষোভ করবে।

বি এন পি -আওয়ামীলীগের এসব পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী বহির্বিশ্বে যে বাতা’ পাঠাচ্ছে নিশ্চয় তা খুব সুখকর নয় ? তাহলে কি আমরা ও ধরে নিব আমাদের দেশে ও এখন ইরান, আফগানিস্থান অথবা যুদ্ধ-বিগ্রহে বিদ্বস্থ কোন দেশের মত পরিস্তিথি বিরাজ করছে ? কেনই বা আমাদের অভ্যন্তরীন কোন বিষয়ে বাহিরের কোন দেশের মাথা ব্যাথা বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ? দেশের বাহিরে দেশে বিদ্যমান পরিস্তথি আর ও ঘোলাটে করার কি কোন দরকার আছে ?

আর ৪ মাচ’ চট্টগ্রামে মন্দির ভাংচুর ও হিন্দুদের বাড়িঘর লুটপাটের প্রতিবাদে রোববার বেলা ২টায় যে বিক্ষোভ করবে যুক্তরাষ্ট্রস্থ বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সেটা নিয়ে বলছি–বাংলাদেশ যথেষ্ট অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ।এখানে প্রায় সব ধমে’র লোকই শান্তিতে মিলে মিশে আছে।জানি না হয়ত এটি কোন সাম্প্রদায়িক আক্রমন নাকি কোন বিচ্ছন্ন ঘটনা ? যাই হোক এটির আন্দোলন সম্ভবত প্রথমে দেশের ভিতর করলেই ভাল হত যেহেতু আমাদের বত’মান সরকার সাম্প্রদায়িকতার দিক থেকে খুব বেশি উদার। বহির্বিশ্বে এটা নিয়ে আন্দোলন করা মানে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া যে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা কাজ করছে। নিশ্চয় এতে বাংলাদেশের ভাবমূতি’ উজ্জল হবে না?

Mail: nasir1073@yahoo.com