ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

আমাদের দেশে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় অবাধ বিচরন শুধু পুরুষদের নয়, নারীরাও এক্ষেত্রে এগিয়ে আসছেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে। পোঁড়া মাটি আর জড় বস্তুর ইতিহাসের চাক্ষুস সব দলিল বিস্ময় আর চিন্তার রাজ্যে অবাক করা পরিবর্তন এনে দিয়েছিল সেই ছোটবেলা থেকেই ড. সীমা হককে। যিনি বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে চালিয়ে যাচ্ছেন স্থাপত্য ও প্রাণী বিষয়ক গবেষণার কাজ। ভারতের নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করে, মাস্টার্স করেন প্রাচীন ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে। থেমে থাকেননি অদম্য ইচ্ছা আর আগ্রহ থেকে পিএইচডি করেন ভারতের পুনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান-এনিম্যাল রিলেশনশিপ ইন আর্লি ফ্যামিনিং কমিউনিটি অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়ার উপরে। এরপর ১৯৯৫ সালে দৃষ্টি ফেরান বাংলাদেশের সব প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর দিকে। একে একে গবেষণার কাজ সম্পন্ন করেছেন মহাস্থানগড়, ময়নামতি, পাহাড়পুর সহ গোপালগঞ্জের কিছু প্রত্নস্থান। গবেষণার কাজটা জটিল হলেও এর সাথে যদি আগ্রহ আর ভালবাসা নিংরে দেয়া যায় তবে সফল হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন এ শিক্ষিকা। চলতি বছর থেকে বাংলাদেশের প্রাচীন সব মন্দির নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন জন্মসূত্রে ভারতীয় এ নারী গবেষক।

গবেষণার পাশাপাশি লেখনির মাধ্যমে দিনাজপুরের কান্তজি মন্দির সহ বেশ কিছু স্থাপনা বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পরিচিতি এনে দিচ্ছেন বিশ্বের দরবারে। এ পর্যন্ত তার ২০ টির বেশী গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে।

গবেষণার ক্ষেত্রে নানা সফলতার পাশাপাশি তার মুখ থেকে বেড়িয়ে আসে সমস্যার কথা। জাতীয় জাদুঘর সহ অন্যান্য জাদুঘর বিজ্ঞানসম্মত সংরক্ষনের অভাবে নিদর্শনসমূহ ধ্বংসের মুখে। প্রত্নতত্ত্ব বিষয়টি গবেষণাধর্মী একটি বিভাগ। গবেষণার জন্য ব্যক্তিগত বরাদ্দের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক বলে, অচিরেই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিভাগ খোলা জরুরী বলে অভিমত দেন এই নারী গবেষক। বর্তমানে প্রাচীন স্থাপত্য নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বলে জানান তিনি।