ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

বেশ কয়েকদিন ধরে পত্র পত্রিকায় দুটি সংবাদ খুব বেশী ছাপা হচ্ছে । এর একটি হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা এবং অন্যটি হচ্ছে ধর্ষন, গণধর্ষণ অতঃপর মোবাইল ফোনে ধারণকৃত নগ্ন ভিডিও ইন্টারনেটে প্রকাশ, কিছু আত্মহত্যা, কিছু লজ্জা। এই দুটি খবর কিংবা ঘটনার মধ্যে কোন প্রার্থক্য আছে কিনা তা উদঘাটন করার জন্য আমি আমার নিজেকে নিজেই তদন্ত কমিটির প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করি। তদন্ত কমিটি গঠন করার পর আবার চিন্তায় পড়ে গেলাম, আমাদের দেশে তো প্রতিদিনই কোন না কোন ঘটনার তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, এরপর এই তদন্ত কমিটি জীবিত না মৃত তা খুজে বের করার জন্য আরো কিছু তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এক সময় আমরা ভূলে যাই কিসের জন্য কখন কি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। অর্থাৎ ঘটনারই নড়াচড়া নাই, তদন্ত কমিটি আসবে কোথায় থেকে!

যাই হোক আমি মনে হয় এ ব্যাপারে একধাপ এগিয়ে গেলাম। কিছুক্ষণ আগে আমি আমার তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেয়েছি এবং স্বচ্চতা জবাবদিহিতা বিশ্বাস করি বলে জ্ঞানীগুণী বিশেষজ্ঞদের সামনে উপস্থাপন করলাম :

অনেক খুঁটিনাটি বিষয় চিন্তা করে তদন্ত কমিটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, সড়ক দূর্ঘটনা এবং ধর্ষণ-গণধর্ষণ, মোবাইল ফোনে নগ্ন ভিডিও ধারণ অতঃপর ইন্টারনেটে সেটি প্রকাশ দুটি ঘটনাই স্থান কাল পাত্র ভেদে সম পর্যায়ের কারণ:

সড়ক দূর্ঘটনা ১:: যখন ড্রাইভিং সিটে বসে ড্রাইভার চিন্তা করে ‍‌’বাবা ছিল একাত্তরের রাজাকার, মা জানে আমি হালাল না হারাম, আমিতো রাস্তায় নয় আকাশেই গাড়ী চালাই, তখনই হারামির বাচ্চা দুর্ঘটনা ঘটায়, হারমির বাচ্চা বেঁচে যায়, তরতাজা প্রাণগুলো ঝড়ে যায়।

সড়ক দূর্ঘটনা ২:: ওস্তাদ ডানে যান বামে যান, স্লো যান বরাবর যান এই শব্দগুলো প্রয়োগ করে অর্থাৎ হেলপার থেকে যারা ড্রাইভার বনে গেছে, তাদের যানবাহনে উঠলেই দুর্ঘটনা নিশ্চিত। কারণ সে ড্রাইভিং সিটে বসে এই শব্দগুলোই বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়ে।

ধর্ষন, গণধর্ষণ অতঃপর মোবাইল ফোনে নগ্ন ভিডিও ধারণ ১:: যেসব পোলাপাইন বাপের ফাইল আটকানো টাকায় ডিজিটাল জীবন যাপন করে, কোন কাজ নেই তারপরে ল্যাপটপ ডেস্কটপ কম্পিউটার দামী দামী মোবাইল সেট ব্যবহার করে, হেই পোলাপাইনের মাথায় আর কি আসবে । সারাদিন কম্পিউটারে কিংবা মোবাইল ফোনে ‘হট’ ছবি দেখবে এবং মনে মনে কল্পনা করবে সেও এইরকম একটা ছবির নায়ক হতে। হারামির বাচ্চা ঠিকই মিডিয়ার কল্যাণে নায়ক হবে। কিন্তু নায়িকা হওয়ার লোভে কিংবা জোড় করে নায়িকা বানানো মেয়েটি অবশেষে নিজের পথ নিজেই বেছে নেয়।

২। আর বর্ণনা না করে এই যুগের ডিজিটাল আলট্রামর্ডাণ ললনাদের উদ্দেশ্যে আমার এক প্রিয় শিল্পীর একটি গানের শেষ কয়েকটি লাইন উৎসর্গ করলাম।
****************************
** তোমাকে তুমি সামলে রেখো তোমার মত করে **
** সস্তা প্রেমের ধোঁকায় নয়তো কাদবে বালিশ ধরে **
** বালিকা……….. পুড়ে যাবে সব সুখ **
*****************************
================================
সম্পূর্ণ গানটি সবার জন্য
================================
বালিকা তোমার প্রেমের পদ্ম দিওনা এমন জনকে
যে ফুলে ফুলে উড়ে মধু পান করে অবশেষে ভাঙ্গে মনকে
একটা হৃদয় বার বার নয় একবারই প্রেমে পড়ে
সেই হৃদয়ের সুখ লুট হয় নিঠুর মন ঝড়ে

হও হুশিয়ার মনের দুয়ার নজর রাখো খুব
চোখের পাটিতে ঠোটের হাসিতে হইওনা উৎসুখ
বালিকা পুড়ে যাবে সব সুখ

তোমার দিকে বাড়াবে সবাই ভালোবাসার হাত
কারণ তোমার কাছে আছে প্রেমের প্র্রপাত
তোমার জন্য হাবা ছেলেও যেতে চাবে যুদ্ধে
আসল কিন্তু মা বকলেই তোমায় ভূলবে
তোমার জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করবে পাড়াতো ভাই
প্রেম হয়ে গেলে কিছুদিন পরে দেখবে ভাই আর নাই
কতই শুনবে তোমার জন্য পারবে দিতেও পারে প্রাণ
কেউবা আবার তোমায় নিয়ে লিখবে কবিতা গান
সব আয়োজন আসলেই ঐ তোমার প্রেমের জন্য
তুমি ভেবে দেখো করবে কার জীবনটা করবে ধন্য,
নইলে…. পুড়ে যাবে সব সুখ

তোমার জন্য হাউস টিউটর অংকে করবে ভূল
পড়া বাদ দিয়ে প্রেমের হিসেবে কসবে নির্ভূল
তোমার জন্য ক্লাস ফাকি দিয়ে সেরা ছাত্রটাও
যন্ত করে মালা গেথে বলবে জান নাও
তোমাকে খাওয়াতে সন্ধ্যা রাতে চাইনিজে চাওইন
বাবার পকেট মারবে লক্ষী ছেলেটা প্রতিদিন
তোমার প্রেমে হাবুটুবু খেয়ে বুড়ো হাবরা সেও
লজ্জা শরম ভুলে গিয়ে বলবে আই লাভ ইউ

তোমাকে তুমি সামলে রেখো তোমার মত করে
সস্তা প্রেমের ধোকায় নয়তো কাদবে বালিশ ধরে
বালিকা……….. পুড়ে যাবে সব সুখ