ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

গত ৭ অক্টোবরের প্রথম আলোর চিঠিপত্র কলামে প্রকাশিত

একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি। বিগত কয়েক বছর ধরে আমার আম্মু ছোট খাটো বিভিন্ন অসুখে ভূগছেন। এর জন্য জেলা সদরে প্রতি মাসেই তিনি কোন না কোন চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতেন। নানা রকম পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকরা রোগ সনাক্তে ব্যর্থ হলেও নিয়মিত ঔষধ সেবন করতেন তিনি। অবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক চিকিৎসকের নির্দেশে গত সপ্তাহের পর্যবেক্ষণে সঠিক রোগটি চিহ্নিত হয়।

শুধু চিকিৎসাই নয় পূর্বের ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন দেখে অনেকটা অবাক হতে হলো আমাকে। প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকের উল্লেখিত বিশেষণ গুলোতেই তার মিথ্যার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিদেশী ডিগ্রীর কথা সেখানে উল্লেখ করলেও অত্যান্ত সুচারুরূপে এড়িয়ে যান কোন বিষয়ে তিনি তা অর্জন করলেন সে বিষয়টি। রোগীদের আকৃষ্ট করতে অসম্পূর্ণ এসব অর্জন ফলাউ করে উল্লেখ করাটা আমাদের দেশের চিকিৎসক সমাজের জন্য লজ্জাস্কর নয় কি?

এ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার মূলে যে সমস্যাটি আজ প্রকট রূপ ধারণ করেছে তা হলো প্রান্তিক পর্যায়ের চিকিৎসকদের কাজের প্রতি অশ্রদ্ধা এবং নিজেদেরকে কৃত্রিমভাবে বিশেষায়িত করে উপস্থাপন করা। চিকিৎসকদের নির্ধারিত হাসপাতাল রেখে হাসপাতালের বাইরের ঔষধের দোকান, জেলা সদর থেকে বিভাগের হাসপাতালে গিয়ে পার্টটাইম রোগী দেখা এসব এখন অহরহ ঘটছে। আর এসব অবহেলায় বলির পাঠা হচ্ছেন গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলো। পথের সন্ধান না পেয়ে সমাপ্তিলগ্নে জটিল রোগ দেহে বাসা বাঁধলে বাধ্য হন শহরমূখী হতে।

বাণিজ্যিক চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে নিজেকে সঠিক ভাবে পরিবেশনের মাধ্যমে আর্ত মানবতার সেবায় কাজ করার মানসিকতা যাতে চিকিৎসকদের তৈরী হয় সেজন্য তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।