ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবিরের পদত্যাগ বা অপসারণ এবং নির্বাচিত উপাচার্য দাবির আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছে জাবি ক্যাম্পাস। ‘শিক্ষক সমাজ’ ব্যানারে উপাচার্য পরিবর্তনের এই আন্দোলনের কারণে বর্তমান উপাচার্য গত ১০দিন অফিস করতে আসেননি।

এছাড়াও ‘শিক্ষক সমাজ’ এর কর্মসূচীর দিন উপাচার্য নিজ বাসায় বা ঢাকায় সময় কাটান। অন্যদিকে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখায় এবং আওয়ামীপন্থী প্রভাবশালী শিক্ষকরাও উপাচার্য থেকে দূরে থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যাকান্ডের পর থেকে ‘শিক্ষক সমাজ’ ব্যানারে বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষকরা। ইতিমধ্যে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সাথে উপাচার্যের কয়েক দফা সমঝোতা হয় বলে জানাগেছে। তবে বৈঠকে উপাচার্য আন্দোলনকারীদের যেসব দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন তা তিনি রক্ষা করেন নি বলে দাবি ‘শিক্ষক সমাজ’ এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নাসিম আখতার হোসাইন।

তিনি বলেন, ‘উপাচার্য আমাদের দাবি মানার প্রতিশ্র“তি দিয়ে এখন প্রতারণা করেছে। ভিসি অনির্বাচিত হওয়ার কারণে তার কোন দায়বন্ধতা নেই। একারণে আমরা তার অপসারণ বা পদত্যাগ এবং উপাচার্য নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছি।’ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

উপাচার্য অপসারণ ও নির্বাচনের দাবিতে ‘শিক্ষক সমাজ’ এর ঘোষিত কর্মসূচীর কারণে কার্যত উপাচার্য অফিস বন্ধ রয়েছে। কর্মসূচী চলাকালীন অবস্থায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবিরও অফিস করছেন না।

গত মার্চ মাসে ‘শিক্ষক সমাজ’ এর কর্মসূচী থাকার কারণে প্রায় ১০দিন অফিস করতে পারেন নি উপাচর্য। এরপর ১০ এপ্রিল থেকে গতকাল পর্যন্তও তাকে অফিস করতে দেখা যায় নি। কর্মসূচী চলা অবস্থায় অফিসে আসলে তাকে অবরুদ্ধ করে পদত্যাগে বাধ্য করা হতে পারে এমন আশংকা থেকেই তিনি অফিসে আসছেন না বলে শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিদের দাবি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবিরের পতনের আন্দোলনে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে আওয়ামীপন্থী ও বামপন্থী শিক্ষকরা। ‘গণতান্ত্রিক প্রগতিশীলর, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষক সংগঠন’ সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. এম এ মতিন, বর্তমান সভাপতি প্রফেসর ড. সুভাষ চন্দ্র দাস, শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক এ এ মামুনসহ অনেক আওয়ামীপন্থী প্রভাবশালী শিক্ষকরা সরাসরি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

একই সাথে ক্যাম্পাসে বামপন্থী শিক্ষকদের মধ্য থেকে অধ্যাপক ড. নাসিম আখতার হোসাইন আন্দোলনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও ভিসির সাথে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে প্রায় ৮০জন শিক্ষক গোপনে আন্দোলনে সহযোগীতা করছে বলে ‘শিক্ষক সমাজ’ এর একটি বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায়। আওয়ামীপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক আফসার আহমেদসহ আরো কিছু প্রভাবশালী শিক্ষক নিরব ভুমিকা পালন করায় ভিসি তাদেরও সন্দেহের চোখে দেখছেন।

তবে বর্তমান এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে উপাচার্যকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মনে করছেন সচেতন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ক্যাম্পাস এভাবে চলতে পারে না। এ অবস্থার উত্তরণ সম্ভব না হলে একসময় আবারো সেশন জটের কবলে পড়তে হবে বলেও জানান তারা।

একই সাথে বিভিন্ন বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা ও ক্লাস থাকাতে আগামী ২৩ তারিখ থেকে ডাকা সর্বাত্মক ধর্মঘট ক্যাম্পাসকে অচল করে দিতে পারে এমন আশঙ্কা অনেকের।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সকলের দাবি উপাচার্য নির্বাচন কিংবা পদত্যাগ যে করেই হোক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক।