ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

কথা হচ্ছিল একদিন । কোন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা নাকি ধান গাছ চেনে না । উচ্ছ্বসিত বক্তা কারণও ব্যাখ্যা করলেন এবং বললেন- “হাই ক্লাসের মানুষ তো”। ভাবলাম- হায়রে হাই ক্লাসের মানুষ ! বাংলাদেশে জন্মে ধান গাছ চিনিস না । তোরা তো অধম রে । তোদের এই দেশে বাস করার ন্যুনতম যোগ্যতাও তো নেই ।
তারপর আমিও দেখলাম-ধান গাছ না চেনা অনেক মানুষকে । সেই মানুষগুলো গর্বিতই । তাদের এতকিছু ভাবার , জানার প্রয়োজনই হয় না । ওরা শুধু খেতে জানে , কি খাচ্ছে তাও মনে হয় খেয়াল করে না । থালায় যে ধানের ভাত – সেটুকু খেয়াল করবার ফুরসৎ মনে হয় নেই । আর এদেরকেই আমরা বলি, ‘হাই ক্লাসের মানুষ’ ।
এই তথাকথিত হাই ক্লাসের মানুষগুলো নিয়েই একটি শ্রেণী আছে । এরা সমাজে কোন অবদান রাখতে পারে কিনা , আমার ঘোরতর সন্দেহ হয় । এরা ব্রয়লার মুরগির মত । নিজেদের প্রয়োজনীয়তাই এদের কাছে মুখ্য । ব্যক্তি হিসেবে এরা যথেষ্ট সুখী । এদের কোন কিছুর অভাব নেই । ব্যক্তি হিসেবে যতসব প্রয়োজনীয়তা সব এদের পুর্ণ । ব্রয়লার মুরগিকে যেমন একটা নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে রেখে পেলে-পুষে বড় করা হয় ,বাইরে যে হরেক রকমের পরিবেশ আছে- তা এরা জানতেও পারে না । তেমনি ‘ধান গাছ না চেনা’ তথাকথিত ‘হাই শ্রেণীর লোকেরা তাদের ঘরের বাইরে কি হচ্ছে সেটুকুও খেয়াল করে না । কোথায় মানুষ খাবার পাচ্ছে না, কোথায় বন্যা- এসব ওরা জানে না । বাজারে নতুন কোন বিনোদন পণ্য এলো কি না- সেটুকুর খবর বেশ ভাল জানে । ওরা জানে জ্যাকসন, শাকিরা, বেইবার কে । হাছন, লালন, রবীন্দ্র, নজরুল কে চেনে না । নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ল , কৃষকের ফসলের দাম নেই- তাতে ওদের কি । ব্রয়লার মুরগিদের চিন্তা করার তো কিছু নেই । ওরা তো সুখেই আছে, সব পাচ্ছে । আর হাহাকার করতে হয় , মুটে- মজুর , নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সাধারণ মানুষদের ; দেশি মুরগিদের ।
হলফ্ করে বলতে পারি- আবার যদি কোন মুক্তিযুদ্ধ হয় , তবে তাতে দেশি মুরগিরাই আসবে । যারা আবর্জনাও ঘাটতে পারে, পরিচ্ছন্ন একটা পরিবেশও তৈরি করতে পারে । ব্রয়লার মুরগিদের সেখানে পাওয়া যাবে না ।
ভীষণ কষ্ট হয় । এই ছোট জীবনে কেন আমরা এতো স্বার্থপর হতে পারি । কেন আমরা ব্রয়লার মুরগি হয়ে বেঁচে থাকি , এর চেয়ে তো মরে যাওয়া ভাল । ওহে ‘ধান গাছ না চেনা’ বাংলাদেশিরা, তোমাদের সত্যিই ঘৃণা করি । এসো – আমরা সবাই ধান গাছ চিনি , আমরা সবাই দেশি মুরগি হয়, সত্যিকারের বাংলাদেশি হয় ।