ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

সাম্প্রতিক সময়ে যেসব রোগ ব্যধি বৃদ্ধি পেয়েছে তার মধ্যে মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যান্সার অন্যতম । পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছর এই রোগের কারণে সারা বিশ্বে প্রায় ২০ হাজার নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটছে । যা দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর চাইতে বেশী এবং রোগের বিস্তার ক্রমেই বেড়ে চলছে । চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি হয়েছে ঠিকই কিন্তু এই রোগের চিকিৎসা একদিকে যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি বেশ সময় সাপেক্ষ এক প্রক্রিয়া । উপরন্তু সুস্থ এবং স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা পুরাপুরি বাদ দিয়ে দিতে হয় । কারণ আক্রান্ত স্তনকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলা হয় এবং সেই নারীর স্বাভাবিক সৌন্দর্যের উপর অযাচিত এক পর্দা নেমে আসে । সুতরাং চিকিৎসা দিয়ে ব্রেষ্ট ক্যান্সারের সাময়িক সমাধান করলেও বাকি জীবনের উপর তা এক অস্বাভাবিক ফলাফল টেনে নিয়ে আসে ।
তাই ব্রেস্ট ক্যান্সার যেসব কারণে হয়- তা প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা নেয়ায় সর্বোত্তম । যার ফলে যে কেউ কম খরচে ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে সরে আসতে সক্ষম হবে । আসুন,ব্রেষ্ট ক্যান্সার হবার কারণগুলোর দিকে নজর দেয়া যাক-

১। ব্রা ব্যবহারঃ আধুনিক কালের নারীদের মধ্যে ব্রা’র ব্যবহার লক্ষ্যণীয় মাত্রায় বেড়ে গেছে । মুলতঃ নারীর সৌন্দর্য্য বাড়াতে এই ‘ব্রা” এক অত্যাবশ্যকীয় অনুষঙ্গ হয়ে পড়েছে । আধুনিক সমাজে যে নারী ব্রা ব্যবহার করেন না- তাকে বেশ বিব্রতকর অবস্থাতেও পড়তে হয় ।
মুলতঃ ব্রা ব্যবহারের ফলে স্তনের স্বাভাবিক সৌন্দর্যের উপর জোর করে এক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসা হয় । এই আরোপিত নিয়ন্ত্রণের ফলে স্তনের স্বাভাবিক কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়, যা কার্যতঃ ব্রেষ্ট ক্যান্সারের প্রাথমিক বীজ তৈরি শুরু করে থাকে ।

২। দেরিতে সন্তান নেয়াঃ আধুনিক সমাজে বিভিন্ন কারণেই নারীরা দেরিতে সন্তান নিতে আগ্রহী এবং সেজন্য জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে । ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতে- যে কোন নারী যদি তার প্রথম সন্তান ৩০ বছরের মধ্যে গ্রহন করে তাহলে এই ঝুঁকি অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যেতে পারে । কিন্তু নারীদের মধ্যে দেরীতে বিয়ের প্রবণতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে সন্তান দেরীতে গ্রহনের ইচ্ছা । যা ব্রেষ্ট ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি বহন করছে।

৩। সন্তানকে বুকের দুধ পান করাতে অনীহাঃ জন্মের পর থেকে নুন্যতম ছয় মাস পর্যন্ত একজন শিশুর প্রধান খাদ্যাবলম্বনই হল মায়ের বুকের দুধ, যার কোন বিকল্প নেই । যদি সম্ভব হয়- শিশু শক্ত খাবার শুরু না করা পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ পান করতে দেয়াই সর্বোত্তম । কিন্তু এখনকার আধুনিক মায়েরা স্তনের সৌন্দর্যের কথা ভাবতে গিয়ে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে তেমন আগ্রহী নন ।
যার ফলে একদিকে যেমন শিশুকে তার অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়, তেমনি বিপরীত দিকে শিশুর সেই খাবার মায়ের বুকে জমতেই থাকে । এর ফলে স্তনকেন্দ্রিক কোষের বিভাজন প্রক্রিয়াতে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় । যার পরিণতি হিসাবে ব্রেষ্ট ক্যান্সার তৈরি হয় এবং স্তন কেটে ফেলে সেই ক্ষতি পূরণ করা ছাড়া আর কোন বিকল্প থাকে না ।

সুতরাং স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে- ব্রা’ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি বিয়ের পর যত দ্রুত সম্ভব প্রথম সন্তান নিয়ে নেয়া এবং সন্তানকে নিজের আগ্রহ দিয়ে বুকের দুধ পান করানোই হতে পারে সর্বোত্তম সমাধান । শরীরের সাময়িক সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে স্তন কেটে ফেলার ঝুঁকি নেবেন কি’না- সেটা হোক আপনার সিদ্ধান্ত !…