ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

বিডিনিউজ ২৪-এর মতামত বিশ্লেষণ অংশে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক এম. এম. আকাশ। প্রবন্ধটিতে রামু তথা কক্সবাজার এলাকার বৌদ্ধদের ধর্মীয় স্থান এবং স্মৃতিচিহ্নগুলোকে ধ্বংস করার বিষয়ে আকাশ সাহেব অনেক সুন্দর কথা বলেছেন। তবে আমার মনে হয়েছে, ভাসুরের নাম নিতে চাননি বলে কথাগুলো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

পাকিস্তান আমলে হিন্দুদের উপর নির্যাতন হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু নির্যাতন স্বাধীনতার পরেও হয়েছে। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই (১৯৭২ সালেই) ঢাকায় মরণচাঁদের দোকানে লুটপাট হয়েছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে একটি আইন নাকি করা হয়েছিলো যে, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রেজিষ্ট্রি করা কোনো দলিলই যুদ্ধশেষে স্বীকৃতি পাবেনা। দুঃখজনক হলেও সত্যি, যুদ্ধশেষে সেই আইনটি বাস্তবায়িত হয়নি। দূর্মূখেরা বলেন এর কারণ নাকি ছিলো যে, যুদ্ধের সময়ে হিন্দু এবং বিহারীরা যেসব জমি রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছিলেন, তার সিংহভাগের গ্রহিতা ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। তাই আওয়ামী লীগের নেতাদের সম্পত্তি ফেরত দেয়ার প্রয়োজন হবে বলেই মুক্তিযুদ্ধকালে দেয়া প্রতিশ্রুতিটি রক্ষা করা হয়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তির বীজ বপনের বিষয়েও আকাশ সাহেব একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চেপে গেছেন। আর সেই তথ্যটি হলো, বঙ্গবন্ধু চাকমাদেরকে বাঙ্গালী হয়ে যেতে বলেছিলেন। যে তরুণ এমপিকে (তিনি সম্বভবতঃ সন্তু লারমার বড় ভাই ছিলেন) বঙ্গবন্ধু এই নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিনি পরে আর বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করেননি। তিনি সোজা নিজের এলাকায় চলে যান এবং সেখানে থেকে যুদ্ধের আয়োজন শুরু করেন।

রাজশাহীতে যখন একজন ছাত্রের লাশ পাওয়া গেলো, ছাত্রশিবিরকে সেজন্যে দায়ী করে সারা দেশে চিরুণী অভিযান চালিয়ে সেই দলটির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হলো। এরপর বেশ কয়েকবারই ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সহ সারা দেশে খুনের হোলি বইয়ে দিলো। কই, চিরুনী অভিযানের মাধ্যমে দলের সবাইকে গ্রেফতারের চেষ্টা দূরে থাকুক, যারা পুলিশ সহ অসংখ্য প্রত্যক্ষদর্শীর সামনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে, খুন করেছে, তাদেরকে পর্যন্ত পাকড়াও করা হয়নি। বরং পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হলো, অস্ত্রহাতে দেখা গেলে বা অস্ত্র ব্যবহার করলে কোনো সমস্যা নেই। শুধুমাত্র অস্ত্রসহ কাউকে পাকড়াও করা হলেই তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কি চমৎকার আইনী ব্যাখ্যা। এ ব্যাপারে আকাশ সাহেব একান্ত নিরব।

আকাশ সাহেব ভারতের সেভেন সিষ্টার এলাকার সমস্যাটি উল্লেখ করেছেন কিন্তু এর কোনো ব্যাখ্যা দেননি। ব্যাখ্যা দিলেই স্পষ্ট হতো যে, এই এলাকাটিতে গন্ডগোল লাগিয়ে রাখা যুক্তরাষ্ট্রর চেয়ে ভারতের জন্যই অধিকতর প্রয়োজনীয়। তাহলে ভারত ডামাডোলের মধ্যে নিজেদের এলাকাটিকে ‘ঝামেলামুক্ত’ করতে পারবে। আর করছেও তাই। কিন্তু সেই কথাটি বলে ফেললে তবু প্রভুরা অসন্তুষ্ট হবেন। কাজেই উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে!

বর্তমান সময়ে শেখ হাসিনা সরকারের উদ্যোগ গ্রহণ না করার বিষয়ে আকাশ সাহেব এরশাদ সাহেবের দলকে দায়ী করেছেন। হাসিনার কোনো উদ্যোগে বাধা প্রদানের ক্ষমতা জাতীয় পার্টির আছে – এমন বিশ্বাস আকাশ সাহেবই হয়তো করতে পারেন। বাংলাদেশের আর কেউ তেমন বিশ্বাস করেন না। এমন একটি প্রমাণও হয়তো পাওয়া যাবেনা।

মিছিলে যারা বৌদ্ধদের নির্মূলের আহ্বান জানিয়েছেন, তারা কারা ছিলেন, এ তথ্য অবশ্যই আকাশ সাহেব জানেন। তাদের ছবিতে ইন্টারনেট ছয়লাব হয়ে গেছে। সেখানে দেখে দেখে গ্রেফতার করলেই অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা যাবে। কিন্তু তাতো আর করা যাবেনা। তাহলেতো সোনার ছেলেদেরকেই জেলে পুরতে হবে। আর সে কারণেই তিনি পিছনের শক্তিকে খুঁজেছেন, এর ফলে কাদের স্বার্থ উদ্ধার হবে, তা অনুসন্ধান করছেন। যে কারণটি আকাশ সাহেব উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন, তা হচ্ছে, বাংলাদেশে ধর্মীয় নির্যাতনের বাহানা সৃষ্টি করতে পারলে ভারত সহ অন্যান্য বিদেশী মোড়লদের আস্তানা গাড়তে সুবিধা হবে।

বিদেশী মোড়লদের সাথে হাসিনারই তো সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক থাকার কথা। তার আত্মীয় স্বজনরা সবাই বিভিন্ন দেশের নাগারিক। তারা সেখানে থেকে জনমত সৃষ্টির কাজ করতে পারেন। হাসিনার সন্তানদের শত শত মিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে (আমি বৈধ অবৈধের প্রসঙ্গ তুলছিনা। কিন্তু আমরা জানি যে, জয় আমেরিকার সবচেয়ে বিখ্যাত যুবক এন্ট্রেপ্রেনারদের একজন)।

এই অর্থ ব্যয় করে তারা ভালো লবিংয়ের কাজ করতে পারবেন। এছাড়াও জলিল সাহেব সহ বিভিন্ন আওয়ামী লীগার এবং আওয়ামী লীগের সহযোগিদের বাণী থেকে আমরা জানি যে, গত নির্বাচনে দেশী বিদেশী বিভিন্ন শক্তি হাসিনাকে ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করেছিলো। তাই হাসিনা এখন দুই হাত ভরে ভারতকে দিয়ে যাচ্ছেন। ভারতের পত্রপত্রিকাতেই এর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

কাজেই আকাশ সাহেবরা যতো চেষ্টাই করুন না কোনো, যা কিছুই ঘটুক, কেষ্টা বেটাই চোর বলে হয়তো এ দফা সারতে পারা যাবেনা।