ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

প্রখ্যাত সাংবাদিক, আওয়ামী লীগের বিশিষ্ট (সাবেক?) নেতা, বঙ্গবন্ধুর আমলের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি দৈনিক প্রথম আলোতে লেখা এক প্রবন্ধে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে তুলনা করেছেন। (দেখুন: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-05-05/news/151751)।

আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে এবিএম মুসা সাহেব বিএনপি এবং জিয়াউর রহমানকে ইচ্ছেমতো তুলোধূনো করেছেন। এর সাথে সাথে তিনি জেনারেল ওসমানীকেও একহাত নিয়েছেন।

মুসা সাহেবের জেনারেল জিয়াউর রহমানকে অপছন্দ করা খুবই স্বাভাবিক। তিনি সেই এমপি সাহেবদের একজন, যারা মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে চতুর্থ সংশোধনী পাশ করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জিয়াউর রহমান দেশ ও জনগণের জন্য যতো ভালো কাজই ভালো কাজই করে থাকুন, তিনি চতুর্থ সংশোধনীকে বাতিল করে বাকশালকে ধ্বংস করেছেন। কাজেই মুসা সাহেবের জিয়াউর রহমানকে পছন্দ করার কোনো কারণ নেই।

আরেকটি কথা, যারা আওয়ামী লীগের তালেবান, অর্থাৎ মুসা সাহেবের নিজের দেয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী সব সময়েই আওয়ামী লীগের তালে নাচেন, মুসা সাহেব তাদের একজন। কাজেই দলীয় দৃষ্টিভঙ্গীর বাইরে গিয়ে তার পক্ষে কিছু বলা অসম্ভব। আওয়ামী লীগের ভূবনে যা আছে তার সবই আলোকিত। এর বাইরের জগতে শুধুই অন্ধকার। অবশ্য টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স না পাওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে কিছু বলে ফেলাটা ভিন্ন কথা। সেটা তো বিএনপি বা জিয়াউর রহমানের সমর্থন নয়; বরং বঙ্গবন্ধু তনয়ার একটি ‘অন্যায়’ বা ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নসীহতমূলক বক্তব্য।

মুসা সাহেবরা সেনাবাহিনীকে অপছন্দ করেন, একথা সর্বজনবিদিত। সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়ে তারা ভারতীয় অফিসারদের কমান্ডের অধীনে রক্ষীবাহিনী করেছিলেন। কিন্তু তারা যখনই সুযোগ পান, তখনই সেনাশাসনকে স্বাগতঃ জানান। ২০০৭ সালের অঘোষিত সেনাশাসন যে তাদের সংগ্রামের ফসল, মুসা সাহেবের নেত্রীর সেই ঘোষণা একমাত্র আওয়ামী তালেবানরা ছাড়া অন্য কারো এতো তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়ার কথা নয়। এরশাদ সাহেবের সামরিক শাসনকেও মুসা সাহেবের নেত্রী স্বাগতঃ জানিয়েছিলেন। শেখ মনির (এমপি তাপসের বাবা) প্রতিষ্ঠিত বাংলার বাণী পত্রিকায় এরশাদের সামরিক শাসনকে স্বাগতঃ জানিয়ে সম্পাদকীয় লেখা হয়েছিলো। ১৯৮৬ সালে নিজেকে জাতীয় বেইমানে পরিণত করে শেখ হাসিনা জেনারেল এরশাদের নির্বাচনে যোগ দিয়ে এরশাদকে বৈধতা দিয়েছিলেন। আপনারা জানেন, হাইকোর্টের সপ্তম সংশোধনী সংক্রান্ত রায় অনুযায়ী ১৯৮৬ সালের সেই নির্বাচনের পর থেকে এরশাদের শাসন বৈধ ছিলো। আর সেই বৈধতাটি তখন এনে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা আর এখন ঘোষণা দিয়ে তা নিশ্চিত করলেন আওয়ামী লীগের দলীয় বিচারকরা।

ওইতো সেদিন পড়লাম, আইয়ূববিরোধী আন্দোলনের আগুনে পানি ঢেলে দেয়ার লক্ষ্যে ফিল্ড মার্শাল আইয়ূব খানের নির্দেশে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের সচিব জনাব রুহুল কুদ্দুস ছয় দফা প্রণয়ন করে বঙ্গবন্ধুর হাতে দিলে তিনি সেটিকে লাহোরে অনুষ্ঠিত গোল টেবিল বৈঠকে পেশ করেন এবং তা নিয়েই ময়দানে ঝাপিয়ে পড়েন। গোলটেবিল বৈঠকে ঘোষণা দেয়ার আগে পর্যন্ত এমনকি তার সঙ্গীরা পর্যন্ত জানতেন না যে, তিনি এই দফাগুলোর ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের পত্রিকাগুলো পড়লেও দেখবেন, ৭ মার্চের পরও বঙ্গবন্ধু অসংখ্যবার সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়হিয়া খানকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, তিনি তার খেদমত করতে চান (অথচ তিনি নাকি ৭ মার্চে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন)।

মুসা সাহেব বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে, ‘কতিপয় উছ্শৃঙ্খল’ সেনাসদস্যের দ্বারা সেই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলে তিনি মানেন না। আমি তার সাথে সম্পূর্ণ একমত। আমার জানতে ইচ্ছে করে, সেই সময়ের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ আর বিমানবাহিনী প্রধান একে খন্দকারের বিরুদ্ধে কেনো এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছেনা। কেনো তারা দুইজনই আওয়ামী লীগ থেকে এমপি হওয়ার (খন্দকার সাব মন্ত্রী হওয়ার) সুযোগ লাভ করেছেন? উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমান নামে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হলেও তিনি ছিলেন টুটো জগন্নাথ। তার হাতে সেনাবাহিনীকে কমান্ড করার কোনো ক্ষমতা ছিলোনা। শফিউল্লাহর পরে কমান্ড ছিলো চীফ অব জেনারেল ষ্টাফ খালেদ মুশাররফের হাতে। শফিউল্লাহর মতো খালেদ মুশাররফও বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করার জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। তবুও তিনি আওয়ামী লীগের বীর।

মুসা সাহেব উর্দি পরা অবস্থায় বা উর্দি ছেড়ে সেনাকর্মকর্তাদের রাজনৈতিক দলে যোগদানের সমালোচনা করেছেন। আমি তো হিসাব করে দেখেছি, আওয়ামী লীগেই অবঃ সেনাকর্মকর্তাদের আধিক্য। বর্তমান সংসদের দিকে তাকালে কি আমরা সাবেক আর্মি অফিসারদের উপস্থিতি দেখতে পাইনা? সেনাবাহিনী থেকে আসা কতোজন মন্ত্রী বর্তমান সরকারে রয়েছেন? তাহলে এই অহেতুক উন্নসিকতার মানে কি?

বীরশ্রেষ্টদের সবাই সামরিক বাহিনীর লোক হওয়ার বিষয়ে মুসা সাহেব আপত্তি তুলে এজন্যে ওসমানী সাহেবকে দায়ী করেছেন। করারই কথা। দুটো কারণে। এক. বাকশাল প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে ওসমানী সাহেব পার্লামেন্ট থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। সেটি ছিলো এমন এক সময় যখন বাকশালে যোগ না দিলে এমপি পদ রাখা যেতো না। আতাউর রহমানের মতো বিরোধীদলীয়রাও শুধুমাত্র এমপি পদ রাখার জন্য বাকশালে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু বাংলার অকুতোভয় সন্তান জেনারেল ওসমানী বঙ্গবন্ধুর রক্তচক্ষুকে পরোয়া করেননি। তাই সুযোগ পেলেই তাকে গালাগালি করা আওয়ামী লীগের তালেবানদের দায়িত্ব। ওসমানী সাহেবকে দোষারোপ করার দ্বিতীয় কারণ তিনি এখন বেঁচে নাই বিধায় প্রতিবাদের কোনো সুযোগ পাবেন না। তাই তাকে দোষারোপ করে যা খুশী তাই বলা যাবে। নইলে ১৯৭১ সালেরও আগে থেকে সুপ্রতিষ্ঠিত একজন সাংবাদিক হিসেবে মুসা সাহেবের ভালোই জানা থাকার কথা যে, পদক বিতরণের দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান একে খন্দকারের উপর ছিলো। কিন্তু মুসা সাহেবের মতো জ্ঞানপাপীরা জেনেশুনে মিথ্যা বলেন। ভাসুরের নামতো আর নেয়া যায়না! একে খন্দকার তো এখন আওয়ামী লীগের নেতা, বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার সরকারের বড় মন্ত্রী। তার নাম নিলে বঙ্গবন্ধু তনয়ার অপমান হবে না! তাই উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে।

মুসা সাহেব অপারেশন ক্লিন হার্টের সাথে বর্তমানের ক্রসফায়ারের তুলনা করেছেন। আবারও সেই একদেশদর্শী তুলনা। ক্লিন হার্ট অপারেশনের সমস্যাটি বুঝতে পারার সাথে সাথেই তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো। অপরদিকে ক্রসফায়ার? ক্রসফায়ার হচ্ছেনা। ক্রসফায়ার সম্পূর্ণ আইনসম্মত। ক্রসফায়ার বন্ধ করা হবে। আত্মরক্ষার জন্য ক্রসফায়ারের অধিকার রয়েছে। বঙ্গবন্ধু তনয়া থেকে শুরু করে তার মন্ত্রীদের আরো কতো যুক্তি। কাজেই দুটো এক হয় কেমন করে?

সাংবাদিক নির্যাতন? এবিষয় নিয়ে লিখতে বসলে তো মহাকাব্য হয়ে যাবে। সংক্ষেপে বলা যায়, বিএনপির কোনো নেতা প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের নির্যাতন করে রেহাই পায়নি। আর আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে। লক্ষীপুরের তাহের, ফেনীর হাজারী অসংখ্যের মধ্যে মাত্র দুটো নাম। বর্তমান সময়েও তো তা চলছে। গোলন্দাজ সাহেবতো আওয়ামী লীগপন্থী সাংবাদিকদেরকে পর্যন্ত ঠেঙ্গিয়েছেন। আর আজ এখানে কাজ সেখানে কোনো না কোনো এমপি সাহেব, কোনো দলীয় নেতা, কেউ না কেউ সাংবাদিকদের নির্যাতন করেই যাচ্ছেন। পত্রিকার পাতা উল্টালেই অসংখ্য উদাহরণ পাওয়া যাবে। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্রের কথিত দূর্নীতির বিষয়ে তদন্তের রিপোর্ট ছাপানো এবং এটর্নি জেনারেলের অফিস কর্তৃক দূর্নীতির মাধ্যমে ষ্টে অর্ডার নেয়ার বিষয়ে সংবাদ ছাড়ানোর অপরাধে মাহমুদুর রহমানের নির্যাতিত হওয়া বা জেলবাসের বিষয়টি উল্লেখ করে শুধু কলেবরই বাড়ানো হবে।

মুসা সাহেব কর্ণেল তাহেরের ফাঁসির সাথে লিমনের গুলিতে পা হারানোর তুলনা করেছেন। তিনি ভুলে গেছেন, কর্ণেল তাহেরের বিচার হয়েছিলো অসংখ্য সেনাকর্মকর্তাকে হত্যার উসকানীর দায়ে। ওইতো সেদিন মেজর জেনারেল ফজলুর রহমান ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন সেই সময়টিতে অফিসারদের অবস্থা কেমন ছিলো। মুসা সাহেবরা বলবেন, তাহের উসকানী দেয়ার অভিয়োগ স্বীকার করেননি। দোষ স্বীকার না করার ফলেই যদি তিনি নির্দোষ হয়ে যান, তাহলে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী তৎপরতার অপরাধে যাদেরকে ধরে জেলে পোরা হয়েছে, তাদের বিচার কেমন করে করবেন? তারা কি কেউ নিজে স্বীকার করবেন যে, তারা কাউকে হত্যার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন? তাহলে অনর্থক দেশের জনগনের অর্থের অপব্যয় করে বিচারের তামাশা করা হচ্ছে কেনো?

আর লিমন? লিমনকে নিয়েও চলছে তামাশা। RAB-এর মহাপরিচালক পর্যন্ত স্বীকার করেছেন এটি ছিলো একটি দূর্ঘটনা এবং লিমন হয়েছে ঘটনার শিকার। কিন্তু তারপরও স্বরাষ্টমন্ত্রী দাবী করে বসলেন, লিমন অপরাধী এবং এ বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই। তার মানে পুলিশকে গ্রীন সিগন্যাল দেয়া হলো, একে নিয়ে যাও। এর কারণে সরকারের বদনাম হচ্ছে। এই বদনামের জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে। আর এখন তাই হচ্ছে। পঙ্গু হাসপাতালের ডাইরেক্টার বাধ্য হয়ে সুস্থ হওয়ার আগেই লিমনকে রিলিজ করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছেন। মানবাধিকার কমিশনের প্রধান নাকি এর সমালোচনা করেছেন। তিনি হয়তো এই দুঃখে কেঁদেও ফেলতে পারেন (তারতো আবার কান্নকাটির অভ্যাস আছে)। কিন্তু ওই পর্যন্তই। তার কান্নাতে কোনো ফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আর নারী নির্যাতন? আমি সম্প্রতি আমার এক ব্লগে বলেছি (দেখুন: http://sonarbangladesh.com/blog/maraqib/38748):
“হাসিনা ক্ষমতায় এলেই নারী নির্যাতন বেড়ে যায়। সোনার ছেলেরা ধর্ষণে সেঞ্চুরী করে। ইডেন আর বদরুন্নেছার ছাত্রীদেরকে নেতাদের বাড়ীতে আর হোটেলে পাঠানো হয়।” ইডেন আর বদরুন্নেছার ছাত্রীদের মধ্যে যারা হোটেলে আর নেতাদের বাড়ীতে যেতে রাজী হয়নি, তাদেরকে শিবির আখ্যা দিয়ে মারপিট করে হোষ্টেল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের নেত্রীরাই এ অভিযোগ করেছেন। কিন্তু তারপরও কোনো প্রতিকার হয়নি। প্রতিদিন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ আর যুবলীগের নেতাকর্মীদের হাতে অসংখ্য নারী নির্যাতিত হচ্ছে। অথচ জ্ঞানপাপীরা এতে কোনো অস্বাভাবিকত্বই দেখতে পায়না। পাওয়ার কথাও অবশ্য নয়। একেতো সোনার ছেলেদের কর্মকান্ড, তায় আবার আওয়ামী তালেবানের দৃষ্টিভঙ্গী।

মুসা সাহেব দাবী করেছেন, মাওলানা ভাসানী নাকি আওয়ামী লীগ ত্যাগ করলেও ত্যাজ্য করেননি। দুই দলের মধ্যে নাকি ৯৯% মিল ছিলো। একথা ঠিক যে, মাওলানা সাহেবের তরফ থেকে সহায়তার হাত প্রশস্ত করা ছিলো সবসময়েই। কিন্তু আওয়ামী লীগের তরফ থেকে? ১৯৭১ সালে ভাসানী সাহেবকে ভারতে নজরবন্দী অবস্থায় থাকতে হলো কেনো? সংগ্রামের পর তার হককথাকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হলো কেনো? বঙ্গবন্ধুর আমলেও মাওলানা ভাসানীকে বারবার গৃহবন্ধী করা হয়েছে কেনো? এসবই কি মাওলানা ভাসানীর প্রতি বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। হবেও বা। সেই কবে শরৎচন্দ্র বলে গেছেন, প্রেম শুধু কাছেই টানেনা, দূরেও ঠেলে দেয়।

সবশেষে আসি জেনারেল জিয়াউর রহমানের করুণাধন্য হয়ে আওয়ামী লীগের পূণর্জীবন লাভের প্রসঙ্গে। আমি মুসা সাহেবের সাথে সম্পূর্ণ একমত যে জিয়াউর রহমানের করা আইনের অধীনে বা আইনটিকে অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ পূণর্জীবিত হয়েছিলো। কিন্তু চতুর্থ সংশোধনীকে বাতিল করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের আইনটি করেছিলো কে? মুসা সাহেবের মতে বহির্বিশ্বকে দেখানোর জন্য জিয়া এই আইনটি করেছিলেন। যেভাবেই হোক, জিয়া সেনাবাহিনীর লোক হয়েও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে পূণঃপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। অথচ ‘গণতন্ত্রের মানসপূত্র’ শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিলেন। তারপরও গণতন্ত্রের হত্যাকারীকে জাতির শ্রেষ্ট মানব বলতে হবে। আর যেই ব্যক্তিটি গণতন্ত্রকে রাহুমুক্ত করেছিলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পূণঃপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, তিনি হলেন কুলাঙ্গার।

হায় সেলুকাস! কি বিচিত্র এই দেশ!