ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

১৪ই এপ্রিল ২০০১, ১লা বৈশাখ ১৪০৮। সকালটা ছিল একদম অন্যরকম, বাংলা বছরের প্রথমদিন। আজকেই প্রথমবার আমি রমনায় যাব বাঙালীর বৈশাখী উন্মাদনা দেখতে, বাংলার ও বাঙালীর উন্মাদনা দেখতে। এটা অবশ্যই আমাকে পুলকিত করছিল কিন্তু আমার যাওয়ার আরেকটি কারন ছিল। আমার এক বন্ধুর পরিবারিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে হাতপাখা ও ক্যপ দেয়া হবে রমনায়, দুঃসহ গরমে মেলায় বেড়াতে আশা অতিথীদের প্রশান্তি দানের নিমিত্তে, পাশাপাশি ওদের কোম্পানীরও একটা বিজ্ঞাপন হয়ে যাবে, ভাবনাটা এমনই। আমি ওদের একজন তালিকাভুক্ত সেচ্ছাসেবক, তাই আমাকেও যেতে হবে সেই বিতরনী কার্যক্রমে অংশ নিতে। আসলে আমার বাল্যবন্ধুত্বটাও আমাকে উৎসাহ ও আগ্রহের যোগান দিয়েছিল পুলকিত হৃদয়ে রমনায় আসতে।

আমি তখন থাকি ১২৮ কাটাসুর, মোহম্মদপুরে। শান্তা আপার বাসা বলে বাসাটা স্থানীয়ভাবে পরিচিত, মেস ভাড়া দিতেন বলেই বেশী পরিচিত ছিল বাড়ীটা। আমি থাকতাম ৪র্থ তলায়। সেখান থেকে একটা রিক্সা নিয়ে এসে এলিফ্যন্ট রোডে বাটা সিগন্যালে নামলাম ভোর সোয়া ছয়টার দিকে। ধীরে ধীরে হাটতে লাগলাম রমনার উদ্দেশ্য। ভোর বেলার পরিবেশে হাটতে বেশ ভালই লাগছিল। আমাকে সাতটার সময় রমনার দ্বিতীয় গেট ”অস্তাচল” এ থাকতে বলেছে সালাম। আমি ঠিক সময়েই এসেছি, ধীরে ধীরে হাঁটলেও ঠিক সময় মতো পৌছে যাব। পৌছে গেলামও সাতটার মধ্যে। কিন্তু আমার বন্ধু বা ওদের কোম্পানীর কাউকেই দেখতে পাচ্ছি না। এদিক ওদিক খুজেও পাচ্ছি না। আমি হাটতে থাকি এলোমেলো ভাবে। মাইকে ভেসে আসছে রমনা বটমুলের গান। কখনও দাড়িয়ে শুনছি বা কখনও বন্ধুটিকে খুজছি। অস্তাচল গেটটা দিয়ে ভেতরে ঢুকে ২০/৩০ হাত ভেতরে হাতের ডানদিকে একটি সাদা রঙের দালান, আসলে দালান ঠিক নয়, একটি মাত্র রুম করা, তালা মারা, খুব সম্ভবত পানি বা অন্য কিছুর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ হবে। তার পাশে দাড়িয়ে আছি, এমন সময় দেখা হলো আমার এক সহকর্মীর সাথে। ভদ্রলোক তখন আমার সাথে একই কোম্পানীতে চাকরী করেন। তবে আমি মার্চেন্ডাইজিং শাখায় আর উনি কমার্শিয়াল সেকশনে। আমাদের কোম্পানীতে উনি বেশী দিন ছিলেন না, এবং ওনার সাথে আমার ঘনিষ্ঠতাও ছিলনা তেমন, তাই ভদ্রলোকের নামটা নিশ্চিত করতে পারছিনা। যা হোক ভদ্রলোককে দেখলাম একটা বাচ্চা কোলে দাড়িয়ে আছেন। কথা হলো, জানলাম ওনার মেয়েকে নিয়ে এসেছেন বৈশাখী মেলায়। ওনার সাথেই দাড়িয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। এমন সময় … … …

সময়টা পৌনে-আট থেকে আটটার মধ্যে। হঠাৎ একটা শব্দ হল। আমরা দুজনেই আলাপরত, কিন্তু শব্দটা কিসের। ভাবলাম হয়তোবা ট্রান্সফর্মার বাষ্ট হয়েছে। কিন্তু তাহলে মানুষ ছোটাছুটি করছে কেন। আমরাও জনতার স্রোতে গা ভাসিয়ে রমনা পার্কের বাউন্ডারি দেয়ালের কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ালাম। ঠিক ফুটওভারব্রিজটির গোড়ার কাছাকাছি। কিন্তু আমরা বুঝতে চাচ্ছিলাম শব্দটা কিসের, কেউ কিছু বলছে না। যে যার মতো বের হয়ে যেতে চাইছে।

আট-দশ মিনিট পরে আবার আরেকটা শব্দ হলো। এবার আর কিছু জানতে ইচ্ছে করছে না। সবার সাথে আমিও পালাতে সিদ্ধান্ত স্থির করলাম, কিন্তু আমার এই স্থূলাকার দেহ নিয়ে এই প্রাচীর টপকাবো কিভাবে? আবার ঘুরে গিয়ে গেট দিয়ে বের হওয়ার সাহসও হারিয়ে ফেলেছি। আমি ঠিক দেয়াল ঘেসে দাড়িয়ে ছিলাম এবং নিজেও এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও পাচিল টপকানোর চেষ্টা করছি জীবনে প্রথম বারের মতো। জনতার স্রোতে, দুঃখিত ততক্ষনে সেই স্রোত ত আসলে ততক্ষনে ঝড়ে পরিনত হয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি সেই জনতার ঝড়ে আমি কখন কিভাবে পাঁচিলের ওপারে চলে এলাম ঠিক বুঝতে পারছিলাম না, বোঝার দরকারও নেই, পালানোটাই জরুরী। কিন্তু কোন দিকে যাব? কোন দিক নিরাপদ, কিভাবে বুঝব? যাক, চট করে কিছু না ভেবেই আমি ফুট ওভার ব্রীজের ওপরে চলে গেলাম। উপরে উঠে মনে হলো আমি আসলে ঠিক সিদ্ধান্তটাই নিয়েছি। ভীড় নেই, নিরিবিলি একটু দাঁড়ালাম। পাশেই ছয় ইঞ্চি উচু একটা কাঠের মঞ্চ গড়ে ঢাকা ক্লাবের দিকে ক্যমেরা ঘুড়িয়ে কয়েকজন দাড়িয়ে। আমার পাশেই দাড়ানো ছিলো একজন পুলিশ, বেচারা নির্ঘাত ভয় পেয়েছে আমার মতো। আমাদের কাছে ওরা শুধুই পুলিশ, কিন্তু পেশাগত দায়িত্বের বাইরে তারাও যে রক্ত মাংসের মানুষ, আমরা অধিকাংশ সময়েই তা মানতে চাইনা। মনে পড়লো আমার সেই সহকর্মীর কথা। কোথায় গেলো সে? জানি না !!! আসলে প্রাণভয়ে আমি এর আগে কখনও এমন করে ছুটিনি, তাই এখন আর আমার সহকর্মীকে নিয়ে ভাববার মতো মানসিক অবস্থায় নেই আমি। ব্রীজের ওপর থেকে নীচের দিকে তাকিয়ে আমি দেখছি একজন একজন করে আহত মানূষদেরকে অন্যেরা ধরে নিয়ে যাচ্ছে। মানূষের এই ভীড়ে কোন যানবাহন ছিলনা। যাও দুএকটা পুলিশ ভ্যন ছিল, প্রথম দিকটাতে যারা নিজেরা রক্তাক্ত অবস্থায় এসে সাহায্য চেয়েছে তাদের নিয়ে চলে গেছে। আমি বারো জনকে চ্যংদোলা করে নিয়ে যেতে দেখেছি। কে আহত, কে নিহত বলতে পারব না। হঠাৎ মাথায় ঢুকলো, ওই বারো জনের মধ্যে আমার বন্ধুটি নেই তো? মাথা খারাপ হয়ে গেলো। কি করবো, ভাবতে পারছি না। হ্যাঁ, ওদের বাসায় ফোন করবো। নেমে গেলাম ফুটওভারব্রিজ থেকে, যাচ্ছি শাহবাগের দিকে। এইদিকের ভীড়টা একটু কমে এসেছে। শিশুপার্কের সামনে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠির আয়োজন, ফকির আলমগীর গাইছেন “মায়ের একধার দুধের দাম” গানটির শেষ অন্তরা। একটু স্বার্থপর মনে হলেও দাড়িয়ে গানটা শুনে তারপর শাহবাগ গেলাম। বন্ধুর বাসায় ফোন করে ওর বড় ভাইয়ের সাথে কথা হলো, উনি আমাকে বললেন,”ওরা টি.এস.সি-র দিকে আছে তুমি যাও, আমিও আসছি।” তখন আমার ক্যসিও অনুযায়ী সকাল ৮.১৮মিনিট।

এবার আমি হাটতে লাগলাম টি.এস.সি-র দিকে। দেখলাম আমার পরিচিত একজনকে, বরাবরের মতো হাটছে ঘাড় উচু করে। ওকে দেখে আমি আশেপাশে ওর বড় ভাইকে খুজতে শুরু করলাম, পেয়েও গেলাম। আমার আরেক বন্ধু এসেছে ওর খালা আর ছোটবোনকে নিয়ে বৈশাখী মেলা দেখতে, কিন্তু আমি এতক্ষনে যে মেলা দেখেছি তা আর ওদের বলা হয়নি। ওদের সাথে দাড়িয়ে কিছুক্ষণ কথা বললাম, খুব তাড়াহুড়া করছিল, ওদেরকে বিদায় দিতেই আমার সেই বাল্যবন্ধুটি এসে আমাকে পেছন থেকে ডেকে জিজ্ঞেস করলো আমি এতক্ষন কোথায় ছিলাম। তখন আমি শাহবাগের পুলিশ বক্সের গেটে দাড়িয়ে। দেখলাম শাহবাগের দিক থেকে ”রমনা বটমুলে বোমা হামলার প্রতিবাদ” মিছিল নিয়ে আসছে সচেতন জনতার দল। পরিচিত মুখ ছিলেন কয়েকজন, তবে এতদিন পরে মনে নেই সবাইকে। আমার বন্ধুটি তখনও উদীচীর সক্রিয় কর্মী, তেমনি বন্ধু প্রেয়সীও। তাই ওদের মাধ্যমেই কয়েকজনকে চিনতাম। এছাড়াও ছিলেন সবার পরিচিত হাসান ইমাম সাহেব। পরে পত্রিকা পড়ে জেনেছিলাম হাসান ইমাম সাহেব প্রকৃত অর্থেই ভাগ্যবান, উনি নাকি বোমা বিস্ফোরনের মাত্র কয়েক মিনিট আগেই ঘটনাস্থলে ছিলেন। ততক্ষনে আমিও জেনে গেছি যে রমনা বটমূলে বোমা হামলা হয়েছে, পরপর দুবার। মানে আমরা যে দুটো শব্দ শুনেছি, দুটোই ছিল বোমা বিস্ফোরনের শব্দ, যা হোক পালিয়ে তাহলে ভালোই করেছি। প্রানটা তো বেচে গেলো। সালামের সাথে ওদের মিছিলের কালো ব্যানারের সামনে সামনে কিছুক্ষণ হেঁটে টি.এস.সি. পৌছানোর আগেই আমি সালামের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসি। বুঝলাম আজ আর ক্যপ বা হাতপাখা কিছুই বিলি করা হবে না।

এটা ছিল ১৪ই এপ্রিল ২০০১, ১লা বৈশাখ ১৪০৮ আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। এর স্থান-কাল-পাত্র কোন কিছুই কাল্পনিক নয়। এবার পাঠক আমার প্রশ্ন দুটো করতে চাই। প্রশ্ন দুটোর বিষয়বস্তুর অবতারনা যে দিনটিকে ঘিরে, এতক্ষন সেই দিনটারই কথা বললাম।

প্রথম প্রশ্নঃ ঘটনা ঘটার পরে এত অল্প সময়ে কেন তারা মিছিল করতে গেলেন, মিছিল করার চেয়ে, আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করাটা কি অধিকতর প্রাধান্য পেতে পারতো না? এবং কালো কাপড়ে লেখা সেই ব্যনারটাই বা কোথা থেকে এলো, এত তাড়াতাড়ি করে ব্যানারটা লিখলোই বা কে আর সেটা শুকালোই বা কিভাবে? জানেন তো কালো কাপড়ের ওপরে সাদা লেখাটা একবারে ফোটে না, কমপক্ষে দুই তিনবার পোজ দিতে হয়। আরেকটি ব্যপার হয়তো অনেকেই খেয়াল করেননি, এই রকম অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকেই স্বেচ্ছাসেবক থাকেন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে। কিন্তু সেদিন ঐখানে কোন সেচ্ছাসেবক থাকেনি, কেন?

একজন সাধারন মানুষ হিসেবে আমার প্রথম প্রশ্নটা কি আপনার কাছে অমুলক মনে হচ্ছে। তেমনটা মনে হবার কোন কারন আমি দেখিনা, তারপরেও আমার বন্ধুর কাছে আমার প্রশ্নটি বরাবরই গুরুত্বহীন। সে মনে হয় ব্যপারটা এড়িয়ে যেতেই বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। আমার কথাবার্তা এতক্ষন আপনার যেমনই লাগুক না কেন, এখন আপনার এটা মনে হচ্ছেনা তো যে আমি প্রগতিশীলদের বিপক্ষে বলছি। মনে হচ্ছে আমি জামাতের লোক বা ঐ ঘরানার লোক, তাই না? তাহলে তো নিজের সাফাই আমাকে একটু গাইতেই হবে। দুঃখিত, আমি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সমপৃক্ত নই কারন আমি রাজনীতি করার মতো মেধাবী নই, এবং আমি কোন ঘরানারও লোক নই। আপনার মনে হতে পারে আমি তাহলে ঘটনাটাকে কেন পুর্ব পরিকল্পিত প্রমান করতে চাইছি। না, আমি আসলে তেমন কিছুই প্রমান করতে চাইছি না। আমি শুধু আপনার মতো বিজ্ঞজনের কাছে শুধু আমার প্রশ্নের উত্তর খুজছি। তবে পরিস্থিতি যা প্রমান করে তা মেনে নেয়ার সৎ সাহস আপনার থাকতে হবে। অন্ধবিশ্বাস থাকলে আপনি কখনোই নিজেকে সচেতন নাগরিক বলে দাবি করতে পারবেন না। প্রাপ্ত তথ্যকে বিবেক ও যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিবেশ ও পরিস্থিতির বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে বিচার করাটাই হচ্ছে সচেতনতা। আপনি নিজেকে সচেতন বলতে পারবেন তখনই যখন আপনি বিশ্লেষনের ব্যপারে নিরপেক্ষ হবেন। আপনি কোন্ রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী, তা আপনার বিচার শক্তিকে প্রভাবিত করতে পারবেনা, তবেই আপনি সচেতন। আপনি কোন মতাদর্শে বিশ্বাসী, বা কোথায় ভোট দেবেন এটা চিরায়ত হতে পারে, যত কিছুই হোক আপনি তাকে ভোট দেবেন। কিন্তু সে যাই করুক, আপনি তার সব কাজের সমর্থন দেবেন, এটা হতে পারেনা। আপনার এমন অন্ধ সচেতনতা যেমন একদিকে আপনাকে অসচেতন প্রমান করে তেমনি এরকম অন্ধ সমর্থন থাকলে আপনার দলটিও হয়ে যেতে পারে বেপরোয়া।

যশোরে উদীচি বোমা হামলার সময়ে পত্রিকায় পড়েছিলাম, নাট্যব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম সাহেব মঞ্চ থেকে নামার পরবর্তী মুহূর্তেই নাকি বোমা হামলা হয়েছিল, আবার রমনার বোমা হামলায়ও তিনি এক মিনিটের জন্যেই বেচে যান। ব্যপারটা কাকতালীয় হতেই পারে। আমিও তেমনটিই মানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি যখন ২০০১এ বি.এন.পি. সহ চারদলীয় জোটের বিজয়ের খবর পেয়েই দেশ ছাড়েন এবং ২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সরকার গঠন নিশ্চিত হওয়ার পরেই ফিরে আসেন, এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও ফেরেননি তিনি, তখন আসলে ঐ ”কাকতালীয়” শব্দটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, যশোরে বোমা হামলার আগে পর্যন্ত বাংলাদেশে উগ্র সমাজতন্ত্রীদের ”সর্বহারা” এবং ”চরমপন্থী” শব্দ দুটো পরিচিত থাকলেও ”জঙ্গিবাদ” শব্দটি থেকে জাতি নিরাপদেই ছিল। তাহলে কি,”ডাল মে কুচ কালা হ্যয়?” কিসের ভয়ে তিনি সাড়ে সাত বছর নির্বাসিত জীবন যাপন করলেন? প্রগতিশীল হিসেবে শাহরিয়ার কবির, রামেন্দু মজুমদার বা মামুনুর রশীদের চেয়ে তিনি কখনোই অধিকতর সোচ্চার ছিলেন না। তাই আমার জানামতে হাসান ইমাম সাহেবের মতো ভদ্রলোকের নামে কোন মামলাও ছিলনা।

দ্বিতীয় প্রশ্নঃ তাহলে কোন মামলা না থাকা স্বত্ত্বেও কেন হাসান ইমাম পালিয়ে থাকলেন? এই এক মিনিটের জন্যে বেচে যাওয়া এবং সাড়ে সাত বছর পালিয়ে থাকাটা কি তাহলে একই সুতোয় গাথা? এবং সরকারই বা কেন এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যপারে আজ পর্যন্ত উদাসীন। অবাক হবেন এই জেনে যে, এই ”যশোরে উদীচী বোমা হামলা” ও ”রমনা বটমূলে বোমা হামলা” মামলা দুটি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ”চাঞ্চল্যকর” তালিকা থেকেও বাদ পড়েছে।