ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

এই তিলোত্তমা ঢাকা শহরে প্রতিদিন আসছে নানা পেশার মানুষ নানান কাজে। নানান প্রয়োজনে। প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়ছে তো বাড়ছেই। আসবে না কেন? সরকার বাহাদুর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু করে রেখেছে ঢাকা শহরকে। প্রতিদিন কত মানুষ কত স্বপ্ন বুনতে বুনতে এই ঢাকা শহরে আসে। কৃষক তার কৃষি কাজ সেরে রিক্সাওয়ালা হয়ে আসে এই ঢাকা শহরে। বেকার যুবক যুবতী আসে বেকারত্ব ঘোঁচার তাগিদে নতুন এক স্বপ্ন নিয়ে। কেউ সফল হয় কেউ ব্যর্থ হয়। কেউ বা লাশ হয়ে গন্তব্যে ফিরে যায়। আবার কারো বা গন্তব্য বেওয়ারিশ হিসাবে। প্রেমিকের আহবানে সাড়া দিয়ে প্রিয়া এই শহরে এসে ২৬ টুকরার লাশ হয়।

‍বেশ কিছু দিন আগে পত্রিকায় পড়ে ছিলাম ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার জনৈক ব্যক্তি ছোট বেলা হতে তার স্বপ্ন বিদেশ পাড়ি দিবে ভাগ্যোন্নয়নে। কিন্তু তার সেই আর্থিক সামর্থ্য নেই। তাই বলে কি তার স্বপ্ন থেমে থাকবে। ‍না তার স্বপ্ন থেমে থাকেনি। নিরাপত্তা কর্মীদের ‍নজর এড়িয়ে এয়ারপোর্টের রানওয়েকে অরক্ষিত ঘোষণা করে সে পৌঁছে গেছে তার লক্ষ্যে। নিজের স্বপ্নকে বিমানের চাকার সঙ্গে বেধে নিয়ে চলছে। স্বপ্নের পূণ্য ভূমির উদ্দেশ্যে। আশা তার পূরন হয়েছে জীবন্ত নয় লাশ হয়ে।

তেমনি এক ভাগ্যহত যশোর জেলার বেজপাড়ার মানুষ আমেনা। দু’চোখে স্বপ্ন নিয়ে এই তিলোত্তমা নগরে তার আগমনী বার্তা জানান দেয়। অনেক ঘুরে ফিরে কোন কাজ না জোড়ায় আবার তার প্রত্যাবর্তনের পালা। কিন্তু প্রত্যাবর্তন করবে কি করে তার কাজে সেই অর্থ নেই। কিন্তু তাকে যে যেতে হবে তার বাস গৃহে যে ‍করে হোক। যেখানে আছে আদরের সন্তান, মা ভাই বোন। তাইতো সে উঠে পড়েছে রেলের বগির নিচের স্পি‍রিং এর সাথে। সাথে কিছু চিড়া এবং পানির বোতল। ‍ভাগ্যিস ‍কেউ একজন দেখে ফেলেছে। ন‍চেৎ ঘটে যেত কোন হৃদয় বিদারক ঘটনা। এ ভাবেই ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মানুষ এ নগরে আসে নগরের অধিবাসী নাগরিক হতে।