ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজ জীবনে প্রবেশের প্রথম ক্লাসটির কথা মনে পড়ে। বলরম বিশ্বাস স্যার, ভদ্রলোক পুরো সময় ধরে বুঝিয়েছেন ”সদাসত্য কথা বলবে”। ক্লাসটি আর কারো মনে রেখাপাত করতে পারছে কি না, জানি না কিন্তু আজও মনে পড়ে কলেজ জীবনের প্রথম ক্লাসটির কথা।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় বা রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ পর্যায় থেকে যদি মিথ্যা বা ভুল তথ্য আসে, তাহলে পুরো জাতিই মিথ্যা শিখবে ও চর্চ্চা করবে। বিগত জোট সরকারের আমলে ২১শে আগষ্টের গ্রেনেড হামলার তদন্তের নামে তৈরী করা হয় আষাঢ়ের এক জজমিয়া গল্প। যার পরিনতির জলন্ত প্রমাণ তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।

এক ব্যবসায়ীকে ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করলো তুমি বেহেশতে যেতে যাও নাকি দোজখে এ যেতে চাও? তখন ব্যবসায়ী তার উত্তরে বললো দোজখে বেহেশত বুঝিনা যেখানে লাভ আছে সেখানে যেতে চাই। ব্যবসায়ীরা যেখানে লাভ পাবে সেখানেই যাবে এটাই স্বাভাবিক। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে, চাকুরীজীবি চাকুরী করবে, রাজনীতিবীদ রাজনীতি করবে। কিন্তু অন্য পেশার লোক যদি রাজনীতি করে তবে দেখা দিবে অসামঞ্জস্যতা। দক্ষ রাজনীতিবিদদের অভাবে, পেশি শক্তি ও কালো টাকা জায়গা করে নিয়েছে রাজনীতির একটি অংশে। যার মাধ্যমে মানুষ হচ্ছে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। মানবাধিকার হচ্ছে চরমভাবে লঙ্ঘিত ।

ইতিহাস পড়ানো হয় অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনার জন্য। বর্তমান মহাজোট সরকার তাহলে কি অতীত থেকে শিক্ষা না নিয়েই পথ চলছে? সাবধান আপনাদের পরিনতিও কিন্তু বাবর, মামুন ও হারিস চৌধুরীর মত হতে পারে।

সংবাদপত্র জাতির দর্পন, এটি জাতির দিক নির্দেশক। সংবাদ পত্র একটি মিথ্যা সংবাদ ছাপিয়ে একটি জাতিকে ভুলপথে পরিচালিত করতে পারে। কিন্তু বর্তমান সমাজে পুঁজিপতিরা তাদের অপকর্ম ও অবৈধপথে অর্থ উপার্জনকে বৈধতা দিতে বা ক্ষমতাধর হতে এই সংবাদপত্রকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। অনেক সংবাদপত্রের মালিকানা এখন পুঁজিপতিদের দখলে। যে কারণে ঘটছে সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের মত লোমহর্ষক ঘটনা। এ সকল পুঁজিপতিরা রাজনৈতিকভাবে থাকে ক্ষমতাশীনদের ছত্রছায়ায় লালিত পালিত।

সাংবাদিক সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি দম্পত্তির নির্মম হত্যাকাণ্ড কেন? কি কারণে? কার স্বার্থে হয়েছিল তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ না করলেও মানুষ আচ করতে পেরেছে সরকার কি বুঝাতে চায়। যারা ক্যামেরার পিছনের খবর তুলে আনে তাদের নির্মম হত্যা কাণ্ডের খবর কেন তুলে আনতে পারছেন না গন-মাধ্যম ও গন মাধ্যম কর্মীরা? নাকি কোন অশুভ শক্তি সংবাদ পত্র ও সংবাদকর্মীদের পায়ে বেড়ি পরিয়ে রেখেছে।

আসলে ৫২ সাল থেকে শুরু হয় বাঙালির রক্তদানের পালা’ ৫২- এর ভাষার আন্দোলন থেকে এটা স্পষ্ট হয় যে, বাঙালিকে তার দাবি আদায়ের কৌশল জানতেই হবে। সেই থেকে শুরু – স্বাধিকার আন্দোলন। ৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ৬ দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন করেই বাঙালী জাতি এই – স্বাধীকার অর্জনের সীমানায় এসে পৌছেছে। কিন্তু আজ ৪০ বছর পরও যেন বাংলার আকাশে – স্বাধীনতা পতাকা উড়লেও এই দেশের মানুষের মধ্যে হাহাকার স্বাধীনভাবে চলতে পারছে না। বেডরুম তার জন্য নিরাপদ নয়, বেডরুমে তাকে নির্মমভাবে খুন হতে হয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বেডরুমের নিরাপত্তা দিতে অপারগ। রাষ্ট্রের নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা বিধান একজন প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক কর্তব্য। সেই কর্তব্য পালনে তিনি শতভাগ সফল নাও হতে পারেন। তিনি -স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে পবিত্র শপথ নিয়ে ওই পদে বসেছেন। কিন্তু কর্তব্য পালনের বাধ্যবাধকতা নিয়ে পরিহাস করার অধিকার রাখেন না। এটা নিয়ে তামাশা মানে প্রধান মন্ত্রীর শপথ নিয়ে তামাশা, প্রধান মন্ত্রীর পদ নিয়ে তামাশা।

আসুন আমরা আবার ৫২ ভাষা আন্দোলন, ৭১এর মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম, ৯০এর স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনের মত ঐক্যবদ্ধ হই জাতিকে বিভেদ থেকে রক্ষা করি। প্রতিবাদ করি অন্যায় অত্যাচার ও জুলুম এর বিরুদ্ধে।

দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দুই শক্তি, অগনতান্ত্রিক সামরিক শাসন তৃতীয় শক্তি। আমরা তিন শক্তির শাসনে শাষিত হয়েছি। এবার আমরা চতুর্থ শক্তির অপেক্ষায়।

দুর্গম গিরি, কান্ডার – মরু, দুস্তর পারাপার
লঙ্ঘিত হবে রাত্রি নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার!

দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?

হিম্মৎ ওয়ালা মাঝির জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছি।