ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

মানুষ গল্প শুনতে ভালোবাসে। গল্পশোনার শুর“টা কবে থেকে তা হয়তো সাল তারিখ হিসাব করে বলা মুশকিল। তবে প্রাগঐতিহাসিক যুগে গুহাবাসী মানুষ গল্প বলতো এবং শুনতো তার প্রমান পাওয়া যায় গুহা চিত্রের মাধ্যমে। গুহাবাসী মানুষ গল্প বলতো দেব দেবীদের। পর্যায়ক্রমে লিপির আবিস্কারের ফলে দেব-দেবী, রাজা-রানী ও বীর যোদ্ধারা গল্প বলার বিষয়বস্তুতে চলে আসে। কালক্রমে এর পরিবর্তন সাধিত হয়ে এখন গল্প বলার বিষয় বস্তুতে দাড়িয়েছে মানুষ।

আরবেও গল্প বলার প্রচলন ছিল যেমন- ’’আলিফ লায়লা ও লায়লা’’ বা আরব্য রজনী।
গল্পে কাহিনীতে বাদশাহ প্রতিদিন একটি কুমারী মেয়েকে বিয়ে করতেন আর সকালে নব বিবাহিতা বধূকে কতল করতেন। এভাবে চলতে চলতে উজির কন্যা শহরজাহান এর পালা আসে। তখন উজির কন্যা কৌশলে বাদশাহকে গল্প বলা আরম্ভ করলেন। এই গল্প বলতে বলতে ভোর হয়ে যেত কিন্তু গল্প শেষ হত না এবং শহরজাহান এমন এক পরিস্থিতিতে গল্পের শেষ করতেন যেখানে বাদশাহর গল্প শোনার তীব্র আগ্রহ থেকে যেত এবং পরবর্তী গল্প শোনার আগ্রহ তৈরী হত। এভাবে শহরজাহান গল্প বলার এক হাজার এক রাত অতিক্রম করার পর বাদশাহ নারী জাতির প্রতি যে ভূল ধারনা ছিল তার সংশোধিত হয় এবং উজির কন্যা হত্যা থেকে রেহাই পান।

গল্প বলার ধরনে মধ্যে একটু পরিবর্তন আসছে। তখনকার প্রজারা গল্প বলতেন রাজা-রানীরা শুনতেন। এখনকার বেলায় রাজা রানীরা গল্প বলেন প্রজাতন্ত্রের জনগন তা শোনেন। গত আমলেও গল্প শুনেছি। এ আমলেও গল্প বলবে বলে ৪৮ ঘন্টা সময় চাওয়া হয়েছে। আবার বলা হয়েছে ১ মাসেও কি একটি গল্প বলা হয়? আপনারাই বলুন। ভালো গল্প বলার জন্য একটু সময়তো লাগবেই। গল্প বলার ঘন্টা, দিন, মাস বেধে দিলে হয়? হয়তো আলিফ লায়লার গল্পের মত একহাজার এক রাত শেষ হয়ে যাবে তবু গল্প বলা শুর“ হবে না। কিন্তু মেঘ তার বাবা-মার গল্প শুনতে চায়।