ক্যাটেগরিঃ ইতিহাস-ঐতিহ্য

 

মহান আল্লাহর নিকট হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ’কেনান’ অঞ্চলে বসতি স্থাপনের জন্য ওহী লাভ করেন। এ ’কেনান’ অঞ্চলই হল ইহুদীদের ’প্রমিজল্যান্ড’। য এটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ইসরাইল – ফিলি‍স্তিন অঞ্চলে অবস্থিত। এ অঞ্চলের ভূ-খন্ড মুসলমান, ইহুদী ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নিকট মহাপবিত্র।

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) যখন আল্লাহর আদেশ প্রাপ্ত হন তখন তিনি বসবাস করতেন ব্যাবিলনের উর নামক স্থানে। উর ছিল তৎকালীন সময়ের অগ্রগামী শহর যা কিনা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর আমল থেকেও ৫০০ বছর আগের। উর একটি অত্যাধুনিক নগর যেখানে ছিল লাইব্রেরী, স্কুল এবং নিয়মতান্ত্রিক আইন ব্যবস্থা। মহামূল্যবান জুয়েলারী ও ধনসম্পদে সমৃদ্ধ।

মুসলমানদের দখলে আসার পর ফিলিস্তিন এ অঞ্চল পুনরুদ্ধারের জন্য খ্রিষ্টানরা বেশ কয়েকবার ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধে অংশ নেয়। পরবর্তীতে ইহুদীরা এ অঞ্চলে ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালালেও অটোম্যান বা তুর্কি সাম্রাজ্যের শাসনাধীনে এ ভূ-খন্ড থাকায় তারা দীর্ঘদিন সফল হয়নি।

ইহুদীদের মাতৃভূমির জন্য ব্রিটিশ কলোনী সেক্রেটারী জোসেফ ক্যামবারলেন প্রথম প্রস্তাব তৈরী করেন থিউডর হ্যাজেলস্ জায়োনিজম গ্রুপ ১৯০৩। ৫,০০০ স্কয়ার মাইল বা ১৩,০০০ কিলোমিটার Mau Plateau যা বর্তমানে কেনিয়া এবং উগান্ডার অন্তর্গত। বেলফোর ওয়েজম্যান আলোচনা করে ইহুদী রাষ্ট্র হিসাবে প্যালেষ্টাইনের চেয়ে উগান্ডা যেহেতু নিরাপত্তা বেষ্টিত পূর্ব আফ্রিকার ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রনাধীন একটি দেশ। যা ব্রিটিশ উগান্ডা প্রাগ্রাম নামে পরিচিত।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের সমর ব্যবস্থা গ্লিসারলের অভাবে বিপর্যস্ত হলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বৈজ্ঞানিকদের গ্লিসারলের বিকল্প উদ্ভাবনের মাধ্যমে ব্রিটেনের অস্তিত্ব রক্ষার আহবান জানান। ইহুদী বিজ্ঞানী চীম ওয়াইজম্যান গ্লিসারলের বিকল্প ’এসিটোন’ আবিস্কারের মাধ্যমে ব্রিটিশদের সমরব্যবস্থাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন। পুরস্কার স্বরুপ ওয়াইজম্যান প্রমিজল্যান্ডে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড বেলফোর প্রমিজল্যান্ড অঞ্চলে ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে ঘোষণা দেন সেটিই বেলফোর ঘোষণা নামে পরিচিত।