ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

চারিদিকে যখন গণজাগরনের জোয়ার ,দেশের সর্বস্তরের মানুষ যখন রাজাকারদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছে, চারিদিকে যখন অহিংস আন্দোলনের দামামা বাজছে ঠিক তখনই কিছু কিছু অবুঝ আর নিরপেক্ষ নামধারী মানুষের বক্তব্যে মাথাটা গরম হয়ে যায়।তাদের বক্তব্য – এরা সবাই টাকার বিনিময়ে নাকি এখানে রাতদিন পড়ে থাকছে, সবাই নাস্তিক একসাথে ঝড়ো হয়েছে বলে মন্তব্য করে। এইসব জায়গায় আন্দোলনের নামে কুকর্ম হচ্ছে বলে জনমনে কুৎসা রটানো হচ্ছে। যে সব অতি সাধারন মানুষ শাহবাগের আন্দোলন দেখছেন না তাদের অনেকর কাছে বিষয়টি ভিন্ন ভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে।

ঐ দিন যখন বাসে উঠলাম একজন অন্যদের কাছে ব্যাপারটা ঠিক এভাবে নেগেটিভলি তুলে ধরছিলেন সাথে সাথে জিজ্ঞাস করলাম আপনি কি গিয়েছিলেন শাহবাগে? তিনি বললেন না। তখন বলতে লাগলাম তাহলে আপনি কিভাবে বুঝবেন আর তদেরকেই বা কি বুঝাবেন।সেখানে গিয়েছিলাম আমি স্বচক্ষে দেখেছি সেই দুর্বার আন্দোলন, দেখেছি জনসধারনের স্বতঃস্ফূত অংশগ্রহন, দেখেছি পরিচিত অপরিচিত মানুষগুলোকে যারা নয় কোন দলের তারা কিভাবে গলা ফাটাচ্ছে দেশটাকে কলংক মুক্ত করার জন্য। কিভাবে তারা দিন রাত প্রজন্ম চত্তর তথা সারা বাংলাদেশকে মিছিলে মিছিলে উত্তাল করে রাখছে। এত্তসব দেখে ও আমি কিভাবে আপনার কথা সহ্য করি?

এদের কেউ কেউ বলছেন ৪২ বছরের পুরান জিনিস টেনে লাভ কি, কখনও সাগর রুনী কিংবা বিশ্বজীতকে আবার কখন ও পদ্মাসেতু দুর্নীতির কথা টেনে তারা বলছেন এগুলোকে আড়াল করার জন্য সরকার এসব করছে আবার কখন ও ধর্মের যুক্তি টানছেন।

প্রশ্ন জাগে ঐ সব মানুগুলার প্রতি যারা এই আন্দোলনটাকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে সেটা বুঝেই হোক আর না বুঝে হোক- কেন একটি বার তারা পারছেনা আওয়ামীলীগ, বিএনপি, অথবা ধার্মিকতার বৃত্ত হতে বের হয়ে একত্র হতে ?

কবে তারা বুঝবে নিজেদের ভালো মন্দ? কবে হবে তাদের বোধোদয়?