ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

আমরা দেখিয়ে দিলাম যে তরুণরা চাইলেই সব কিছু করতে পারে। স্বাধীনতার ৪২ বছর পরেও এদেশ একাত্তরের মানবতা বিরোধি অপরাধে অভিযুক্তদের সুষ্ঠু বিচার পায়নি। তাই আমরা তরুণ সমাজ বিচারের জন্যে আন্দোলনে নেমেছি। রাজনৈতিক নেতারা আমাদের হতাশ করেছেন। খালেদা জিয়া যেখানে যুদ্ধাপরাদীদের বাঁচাতে উঠে পড়ে লেগেছেন সেখানে অন্তত এরশাদ চাচা যুদ্ধাপরাধের সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন। যুদ্ধাপরাধের বিচারে প্রত্যাশিত রায় না হওয়ায় শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে হাজার হাজার তরুণ জড়ো হয়ে প্রতিবাদের যে প্লাটফর্ম তৈরী করেছেন, প্রধানমন্ত্রী হাসিনাও র্পালামেন্টে দাড়িয়ে তাকে র্পূণ সর্মথন দিয়েছেন।

হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বহুব্রীহি’র বিখ্যাত সংলাপ ’তুই রাজাকার’ এখন শুধু শাহবাগ আন্দোলনের শ্লোগানই নয়, প্রতি মুহুর্তে উচ্চারিত হচ্ছে দেশবাসীর মুখে মুখে। একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের রায়ে যুদ্ধাপরাধীর উপযুক্ত শাস্তি না হ্ওয়ায় জনগন তা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত আর দু লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশে কাদের মোল্লার রায় প্রতিবাদের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে।

জ্ঞান হবার পর থেকে স্বাধীন এই বাংলায় যুদ্ধাহত অসংখ্য মুক্তযোদ্ধা দেখলেও আমি কখনোই কোন পঙ্গু রাজাকার দেখি নাই। মুক্তিযুদ্ধে সীমাহীন নৃসংসতা চালানোর পরও জামাত ও তার অঙ্গ সংগঠন এখনো বুক ফুলিয়ে বীর দর্পে এই দেশে তাদের অপকর্মের সাফাই গেয়ে যাচ্ছে, যা দেখলে লজ্জায় আমার মাথা নত হয়ে যায়। আমরা তরুণরাই আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের এই অরাজকতাকে রুখে দিতে পারব। তাই আজ এই আন্দোলনে দাবী আমাদের একটাই, রাজাকারের ফাঁসী চাই। এই ফাঁসীর রায় না নিয়ে তরুণরা ঘরে ফিরবেনা। তরুণরা কখনই কোন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেনি, এই ইস্যুতেও করবেনা। । আন্তর্জাতিক যুদ্ধ অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট (১৯৭৩) সংশাধন করে দ্রুত রাজাকারদের ফাঁসীর রায় নিশ্চিত করতে হবে। অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণদের সংগঠিত করার সব উদ্যোগে সারাদেশের মানুষ একাত্বতা জানিয়েছে। এই নতুন আন্দোলনই পারবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে।

৭১’এও আমরা এই রাজাকারদের হারিয়ে দিয়েছি; এবার ২০১৩’তেও হারাবোই হারাবো।

“একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার”